Jodhpur Park Boys School Protest: সরকারি নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রাইভেট টিউশন! যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুলে সোমবার সকালে অভিভাবকদের তুমুল বিক্ষোভ

source : সংবাদ প্রতিদিন
সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বা কোনো রকম বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত থাকা আইনত নিষিদ্ধ—রাজ্য সরকারের এই নির্দেশিকা বহু পুরনো। কিন্তু সেই সরকারি নির্দেশিকাকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রমরমিয়ে গৃহশিক্ষকতা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল কলকাতার প্রথম সারির স্কুল যোধপুর পার্ক বয়েজ-এর এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার জেরে সোমবার সকালে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় স্কুল চত্বরে। অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে স্কুলের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন অভিভাবকরা।
সোমবার সকালে যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুল খোলার পরেই ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা স্কুল গেটের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, স্কুলের এক শিক্ষক সরকারের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে অর্থের বিনিময়ে প্রাইভেট টিউশন পড়াচ্ছিলেন। এখানেই শেষ নয়, অভিভাবকদের দাবি— ওই শিক্ষক স্কুলের অভ্যন্তরে অন্যান্যদের ওপরও এক ধরণের অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতেন, যা ছাত্রদের পড়াশোনার পরিবেশকে নষ্ট করছিল।
এই খবর জানাজানি হতেই অভিভাবকদের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সোমবার সকালে তাঁরা প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবিতে স্কুল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ দেখান। অভিভাবকদের স্পষ্ট বক্তব্য, সরকারি বেতনভোগী শিক্ষকরা যদি এভাবে প্রাইভেট টিউশনের সিন্ডিকেট চালান, তবে স্কুলের সাধারণ পঠন-পাঠন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্কুল শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে একাধিকবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে যে, ‘শিক্ষার অধিকার আইন’ (RTE Act) অনুযায়ী কোনও সরকারি বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক কোনোভাবেই প্রাইভেট টিউশন পড়াতে পারবেন না। এই নিয়ম ভাঙলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত এবং চাকরি থেকে বরখাস্ত করার মতো কড়া শাস্তির বিধানও রয়েছে। উচ্চ আদালতও এই বিষয়ে একাধিকবার কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুলের এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে প্রশাসনের নজরদারিতে এখনও বড়সড় খামতি রয়ে গিয়েছে।
যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুলের এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কলকাতার শিক্ষা মহলে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে যে অভিযোগটি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এই ঘটনার পর কলকাতার অন্যান্য সরকারি স্কুলগুলিতেও শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশনের ওপর নজরদারি আরও কড়া করা হবে কি না, সেটাই এখন দেখার।






