Kolkata-Panihati Councillor Arrested: ৭০ লক্ষ টাকার তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগে এবার ধৃত ফিরহাদ ‘ঘনিষ্ঠ’ কাউন্সিলর শামস ইকবাল, পানিহাটি থেকে গ্রেপ্তার জয়ন্ত দাসও

source : সংবাদ প্রতিদিন
রাজ্যে ক্ষমতার অলিন্দে থাকা রাজনৈতিক হেভিওয়েটদের ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে পরিচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে আইনি রাশ আরও শক্ত করল পুলিশ প্রশাসন। মেটিয়াবুরুজের এক ব্যবসায়ীর দায়ের করা গুরুতর তোলাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির মামলায় এবার গ্রেপ্তার হলেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শামস ইকবাল। একই দিনে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি পুরসভা এলাকাতেও জোরদার পদক্ষেপ করে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে আর এক বিতর্কিত কাউন্সিলর জয়ন্ত দাসকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মেটিয়াবুরুজের বাসিন্দা তথা স্থানীয় ব্যবসায়ী মহম্মদ শাদাব গার্ডেনরিচ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, গত ২০২৩ সালের জুন মাসে ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শামস ইকবাল ওরফে অনিল এবং তাঁর দলবল শাদাবের কাছে ব্যবসা চালানোর বদলে ৭০ লক্ষ টাকা দাবি করে।
ব্যবসায়ীর দাবি, সেই সময় বাধ্য হয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার পরেও শামস ইকবালের অনুগামীরা বারবার তাঁর কাছে টাকা চেয়ে হুমকি দিতে থাকে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে ব্যবসা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। শাদাবের অভিযোগের ভিত্তিতে গার্ডেনরিচ থানার পুলিশ শামস ইকবাল ওরফে অনিল, মহম্মদ ফারাজ ওরফে বুন এবং ফিরোদ কুরেশি ওরফে চুরি ফিরোজের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন (Arms Act)-সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে। এরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে শামস ইকবালকে গ্রেপ্তার করে।
অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জয়ন্ত দাসের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করল প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে খবর, পূর্বতন রাজনৈতিক জমানায় জয়ন্তর বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও দাদাগিরির একাধিক অভিযোগ থানায় জমা পড়লেও তখন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।
সম্প্রতি নির্বাচনের পর বেশ কিছু ব্যক্তি জয়ন্ত দাসের বাড়িতে চড়াও হন এবং সেই সময় বিজেপি কর্মীদের ওপর চড়াও হয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে এই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর খড়দহ থানায় জয়ন্ত দাসের বিরুদ্ধে নতুন করে তোলাবাজির মামলা দায়ের করা হয়। সেই পুরনো ও নতুন অভিযোগের ভিত্তিতেই খড়দহ থানার পুলিশ জয়ন্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার হওয়া কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর শামস ইকবালের বিতর্কিত ইতিহাস অবশ্য বেশ দীর্ঘ। কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর কলকাতা পুরসভায় কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল গাড়ি চড়ে এসে প্রথম বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। গার্ডেনরিচ ও মেটিয়াবুরুজ এলাকায় একাধিক বেআইনি নির্মাণ সিন্ডিকেটের সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়েছে।
শুধু শামস নিজেই নন, তাঁর বাবা তথা দাপুটে নেতা মুন্না ইকবালের বিরুদ্ধেও অতীতে বহু গুরুতর অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। গার্ডেনরিচ হরিমোহন ঘোষ কলেজের সামনে ঘটে যাওয়া কুখ্যাত পুলিশকর্মী তাপস চৌধুরী হত্যাকাণ্ডেও প্রধান অভিযুক্তদের তালিকায় নাম জড়িয়েছিল এই মুন্না ইকবালের।
একই দিনে কলকাতা এবং পানিহাটির দুই দাপুটে পুর-প্রতিনিধির গ্রেপ্তারির ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পুরসভা স্তরে প্রোমোটিং ও ব্যবসার ক্ষেত্রে যে তোলাবাজি সিন্ডিকেট রাজ চলছে, তার বিরুদ্ধে পুলিশ এখন জিরো টলারেন্স (Zero Tolerance) নীতি নিয়ে এগোচ্ছে। দলীয় রং না দেখে পুলিশ যেভাবে পদক্ষেপ করছে, তাতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
শামস ইকবাল ও জয়ন্ত দাসের এই গ্রেপ্তারির পর সংশ্লিষ্ট এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই বদলে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। ধৃতদের আজই আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ। এই চক্রের সঙ্গে আর কোনও বড় মাথার যোগ রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।






