Ayodhya Ram Mandir Trust Scam: তদন্তে অসহযোগিতা ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার! রাম মন্দির দুর্নীতি কাণ্ডে গ্রেপ্তার ৮, ট্রাস্ট থেকে চম্পত রাইয়ের ইস্তফা, সিটের নজরে আরও ৪০ জন

source : সংবাদ প্রতিদিন
অযোধ্যার নবনির্মিত রাম মন্দিরের ভক্তদের দেওয়া দান সামগ্রী ও মূল্যবান ধাতু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে এল। মন্দিরের অন্দরে হওয়া এই বিরাট কারচুপির তদন্তে নেমে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য হাতে পাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর আকার ধারণ করেছে যে, এই কেলেঙ্কারির জেরে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রধান চম্পত রাই এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্র তাঁদের পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছেন। ঘটনার সূত্রপাত থেকে শুরু করে ট্রাস্টের ভূমিকা এবং উদ্ধার প্রক্রিয়া নিয়ে এখন একাধিক গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সিটের তদন্ত শুরু হওয়ার পর প্রথম সন্দেহের তীর যায় রাম মন্দিরেরই এক কর্মী টিনু যাদবের দিকে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ভক্তদের দেওয়া দান সামগ্রীর বহু মূল্যবান ধাতু ও সোনা-রুপো তাঁর কাছ থেকেই উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে তদন্তের প্রথম দিনে এক অদ্ভুত গাফিলতি লক্ষ্য করা যায়। ট্রাস্ট ও নিরাপত্তারক্ষীদের দল অন্যান্য অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালালেও, প্রথম দিন তাঁরা রহস্যজনকভাবে টিনু যাদবের বাড়িতে যাননি।
পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় টিনু দাবি করেন, তাঁর কাছে মাত্র ১ লক্ষ টাকা রয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের অনুমান, ট্রাস্টের এই ঢিলেমি ও প্রথম দিনের গাফিলতির সুযোগ নিয়েই টিনু বাকি টাকা সরিয়ে ফেলার এবং মূল্যবান ধাতু বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যান।
তদন্তে নেমে সিটের গোয়েন্দারা আরও একটি চাঞ্চল্যকর বিষয় জানতে পেরেছেন। চুরি যাওয়া মালপত্র উদ্ধারের জন্য ট্রাস্ট যখন নিজস্ব স্তরে অভিযান চালাচ্ছিল, তখন তারা ট্রাস্টের কোনও অফিশিয়াল বা নিজস্ব গাড়ি ব্যবহার করেনি। নিয়ম অনুযায়ী, ট্রাস্টের কোনও গাড়ি গ্যারেজ থেকে বের করলে তা নির্দিষ্ট ‘লগবুকে’ (Logbook) নথিবদ্ধ করা বাধ্যতামূলক।
অনুমানে বলা হচ্ছে, এই গোটা তল্লাশি অভিযান যাতে কোনওভাবে সরকারি নথিতে বা রেকর্ডে না থাকে, সেই কারণেই ট্রাস্টের সদস্যরা নিজেদের
মন্দিরের ভেতরে যে এইরকম একটি বিরাট কারচুপি ও চুরির চক্র সক্রিয় রয়েছে, তা মন্দিরের অনেক কর্মীর নজরেই চলে এসেছিল। গত ৬ জুন সমাজবাদী পার্টির (SP) স্থানীয় নেতা পবন পান্ডে গোটা বিষয়টি নিয়ে দলের সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবকে বিস্তারিত জানান। অখিলেশ বাবু ব্যক্তিগত স্তরে খোঁজখবর নিয়ে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হন।
পরের দিন, অর্থাৎ ৭ জুন তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এই দুর্নীতির কথা পোস্ট করে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। যদিও সেই সময় ট্রাস্টের প্রধান চম্পত রাই সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং উল্টে অখিলেশের পোস্টের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন।
চম্পত রাই প্রথম দিকে অভিযোগ অস্বীকার করে পালটা মুখ খুললেও, সিটের তদন্ত শুরু হতেই সত্য ধামাচাপা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। তদন্তকারী দল এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অপরাধে ইতিমধ্যেই ৮ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ব্যাপক কেলেঙ্কারির নৈতিক দায় এড়াতে না পেরে অবশেষে ট্রাস্টের শীর্ষপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন চম্পত রাই এবং অনিল মিশ্র। তবে এখানেই শেষ নয়, সিটের তৈরি করা সন্দেহের তালিকায় এখন ট্রাস্টের বড় মেজাজ থেকে শুরু করে ছোট কর্মী মিলিয়ে অন্তত ৪০ জনের নাম রয়েছে, যাঁদের খুব শীঘ্রই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
রাম মন্দিরের মতো কোটি কোটি মানুষের আবেগ জড়িয়ে থাকা একটি পবিত্র স্থানে এই ধরণের চুরির ঘটনা দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষদের স্তম্ভিত করেছে। ঘটনার পর থেকে ট্রাস্টের কার্যকারিতা, এফআইআর (FIR) দায়ের করতে কেন এত বিলম্ব হলো এবং উদ্ধার হওয়া টাকা বা ধাতুর সঠিক পরিমাণ নিয়ে সাধারণ মানুষ ও ভক্তদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রাম মন্দির ট্রাস্টের এই দুর্নীতি এখন কেবল একটি চুরির মামলা নয়, বরং একটি বড়সড় প্রাতিষ্ঠানিক কেলেঙ্কারিতে রূপ নিয়েছে। চম্পত রাইয়ের ইস্তফার পর ট্রাস্টের খোলনলচে বদলে ফেলার দাবি উঠছে। সিটের নজরে থাকা বাকি ৪০ জন কর্মীকে জেরা করলে এই চুরির সিন্ডিকেটের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে।






