Khamenei State Funeral: ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে যাচ্ছেন না মোদী! ভারতের প্রতিনিধি পবিত্র মার্গারিটা ও রাজ্যপাল হাসনাইন, আমন্ত্রণ কংগ্রেসকেও

source : আনন্দবাজার
দীর্ঘ তিন দশক ধরে ইরানের শাসনক্ষমতার রাশ নিজের হাতে রাখা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের (Ayatollah Ali Khamenei) মৃত্যুর দীর্ঘ চার মাস পর অবশেষে রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের আয়োজন করতে চলেছে তেহরান। আগামী সপ্তাহে শুরু হতে চলা এই মেগা রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) আমন্ত্রণ জানিয়েছিল প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সরকার। তবে কূটনৈতিক সমীকরণ বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রী নিজে না গিয়ে তাঁর বিশেষ প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছেন ইরানে।
নয়াদিল্লি সূত্রে খবর, ইরানের এই ঐতিহাসিক ও সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ভারতের সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা এবং বিহারের রাজ্যপাল তথা প্রাক্তন সেনাকর্তা সৈয়দ আতা হাসনাইন।
কূটনৈতিক স্তরে ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি ইরান সরকার ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকেও এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিশেষ আমন্ত্রণ পাঠিয়েছে। আমন্ত্রিতদের তালিকায় রয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সলমন খুরশিদ এবং এআইসিসির (AICC) মুখপাত্র পবন খেড়া। কংগ্রেস এই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তেহরানে প্রতিনিধি পাঠাবে কি না, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বৃহস্পতিবার এই প্রসঙ্গে সলমন খুরশিদ বলেন:
“আমরা ইরান সরকারের আমন্ত্রণ পেয়েছি। দলীয় প্রতিনিধি হিসেবে কারা সেখানে যাবেন, তা দলের অন্দরে আলোচনা করে দ্রুত স্থির করা হবে।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury) শুরু করেছিল। সেই দিনই আমেরিকার অতর্কিত হামলায় নিহত হন আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ ইরানি সেনাকর্তা। সামরিক কমান্ডারদের সমাহিত করা হলেও খামেনেইয়ের শেষকৃত্য নিয়ে দীর্ঘ চার মাস চরম গোপনীয়তা ও বিলম্ব বজায় রেখেছিল তেহরান, যা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নানা প্রশ্ন ওঠে।
কূটনৈতিক ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিলম্বের প্রধান কারণ ছিল যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র মোজ়তবা খামেনেইকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা বেছে নেওয়া হলেও তিনিও মার্কিন হামলায় গুরুতর জখম হয়েছিলেন। নতুন নেতার নিরাপত্তা এবং ক্ষমতা হস্তান্তর-পরবর্তী অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেই খামেনেইয়ের মরদেহ এতদিন জনসমক্ষ থেকে দূরে রাখা হয়েছিল।
সম্প্রতি আমেরিকার সঙ্গে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির পর গত ১৩ জুন আয়াতোল্লার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে তেহরান। ঘটনাচক্রে, ১৭ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান যুদ্ধবিরতি সমঝোতার মউ (MoU) স্বাক্ষর করেন। এর পরেই তেহরানে রাষ্ট্রীয় স্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়।
আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের সূচি:
| তারিখ | স্থান | কর্মসূচি |
| ৫ জুলাই, ২০২৬ | তেহরান (রাজধানী) | শেষকৃত্যের ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ার সূচনা |
| ৬-৮ জুলাই, ২০২৬ | বিভিন্ন শহর | শোকযাত্রা ও রাজনৈতিক সমাবেশ |
| ৯ জুলাই, ২০২৬ | মাশহাদ (নিজ শহর) | ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে আয়াতোল্লার মরদেহ সমাহিতকরণ |
২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত কমান্ডার কাসেম সোলেমানির শোকযাত্রায় লাখ লাখ মানুষের ঢল নেমেছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খামেনেইয়ের শেষকৃত্যও কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান থাকবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে তা ইরানের শক্তি প্রদর্শনের এক বিশাল রাজনৈতিক সমাবেশে পরিণত হতে চলেছে। আর সেই কারণেই ভারত সরকার অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মোদীর পরিবর্তে উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধি দলকে তেহরানে পাঠাচ্ছে।
পেন্টাগনের বোমাবর্ষণ থেকে শুরু করে ট্রাম্প-পেজ়েশকিয়ান চুক্তি—গত চার মাসে পারস্য উপসাগরের ওপর দিয়ে অনেক ঝড় বয়ে গিয়েছে। খামেনেইয়ের এই শেষযাত্রা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে নাকি ইরান-আমেরিকা সম্পর্কের সমীকরণকে অন্য মোড় দেয়, ৫ থেকে ৯ জুলাইয়ের মধ্যে তেহরান ও মাশহাদের পরিস্থিতির ওপরেই তা নির্ভর করছে।






