Hawker Eviction Row: হকারদের বড় স্বস্তি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! দুর্গাপুজো পর্যন্ত উচ্ছেদ বন্ধের আশ্বাস ‘জনতার দরবারে’

source : আনন্দবাজার
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি শোরগোল এবং সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তা হলো আকস্মিক ‘হকার উচ্ছেদ’ (Hawker Eviction) অভিযান। আগাম কোনো নোটিশ বা বিকল্প ব্যবস্থা না করেই বুলডোজার দিয়ে দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে সরব হয়েছিল হকার সংগঠন থেকে শুরু করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। এই জ্বলন্ত সমস্যার সমাধানে অবশেষে স্বস্তির বার্তা দিলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শনিবার তাঁর ‘জনতার দরবারে’ গিয়ে আগামী দুর্গাপুজো পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার আশ্বাস পেলেন হকারেরা।
‘জনতার দরবারে’ সদর্থক বৈঠক, কাটল উচ্ছেদ আতঙ্ক
রাজ্যজুড়ে হকার উচ্ছেদ নিয়ে তৈরি হওয়া চরম অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাতে শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবারে’ হাজির হয়েছিলেন ‘হকার্স জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি’-র প্রতিনিধি দল। সংগঠনের রাজ্য সভাপতি অসিত সাহা (Asit Saha) মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন এবং বিকল্প পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ বন্ধের দাবি জানান।
শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর অসিত সাহা সংবাদমাধ্যমকে জানান, আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সমস্ত অভাব-অভিযোগ মনোযোগ সহকারে শুনেছেন। অসিতবাবুর কথায়:
“রাজ্য জুড়ে হকারদের উচ্ছেদ নিয়ে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কেটেছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, মানবিকতার খাতিরে উৎসবের মরসুম শেষ না-হওয়া পর্যন্ত কোনও হকারকে সরানো হবে না।”
এর ফলে আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্ত রাজ্যের কোনো প্রান্তেই সরকারি তরফে কোনো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে না, যা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এই উৎসবের মুখে মস্ত বড় স্বস্তি।
রেলের জমি ও বিরোধীদের আন্দোলনের চাপ
রাজ্যে পালাবদলের পর উচ্ছেদের প্রথম ও সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছিল বিভিন্ন রেল স্টেশনে। রেল হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে দিনের আলোয় কিংবা রাতের অন্ধকারে দোকান ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বামেরাও এই অন্যায্য উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল।
শনিবারের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হকার নেতাদের পরিষ্কার বুঝিয়ে দেন যে, রেলের জমিতে উচ্ছেদ অভিযানের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের কোনো আইনি হাত বা এক্তিয়ার নেই। তবে মানবিকতার খাতিরে এবং বাংলার এই ক্ষুদ্র হকারদের রুটিরুজির কথা মাথায় রেখে তিনি নিজে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
এক নজরে হকার উচ্ছেদ বিতর্কে মুখ্যমন্ত্রীর বড় সিদ্ধান্ত:
| হকারদের সমস্যা ও অভিযোগ | মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’-এর সিদ্ধান্ত | পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ |
| আগাম নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ ও বিকল্প ব্যবস্থার অভাব। | আগামী দুর্গাপুজো (অক্টোবর ২০২৬) পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে সমস্ত উচ্ছেদ প্রক্রিয়া স্থগিত। | কীভাবে হকারেরা ব্যবসা চালাবেন তা নিয়ে পূর্ত (PWD) দফতরের সাথে বৈঠকে বসবে সংগঠনগুলি। |
| রেলের জমিতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ ও উচ্ছেদ। | এই উচ্ছেদে রাজ্যের হাত নেই, তবে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের সাথে এ বিষয়ে কথা বলবেন। | রাজ্য সরকার ও রেলের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা। |
উৎসবের মরসুম শুরুর ঠিক আগে হকারদের এই আন্দোলনের জয় এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নমনীয় ও মানবিক মনোভাবকে সাধুবাদ জানাচ্ছে ওয়াকিবহাল মহল। উচ্ছেদ আপাতত স্থগিত হলেও হকারদের স্থায়ী সমাধান ও পুনর্বাসনের রূপরেখা কী হবে, তা নির্ধারণ করতে খুব শীঘ্রই সরকারের পূর্ত (PWD) দফতরের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে হকার্স জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আশা, পুজোর এই চার মাস সময়ের মধ্যেই রাজ্য সরকার তাদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট হকিং জোন বা বিকল্প ব্যবস্থার স্থায়ী গাইডলাইন তৈরি করে ফেলবে।






