Baruipur Horror Case: নাবালিকা ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে বারুইপুর-সোনারপুরে ১৬৩ ধারা জারি! রাতভর অভিযানে আটক আরও ৩, নির্যাতিতার পরিবারকে ভবানীভবনে তলব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

source : সংবাদ প্রতিদিন
নাবালিকাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার দিনভর রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর। দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে জ্বলেছে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আগুন। সোমবার সকাল থেকেও পরিস্থিতি থমথমে। যে কোনো ধরণের নতুন অশান্তি এড়াতে প্রশাসন এবার কড়া আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। বারুইপুর সহ পার্শ্ববর্তী একাধিক থানা এলাকায় জারি করা হয়েছে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা)। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের পাশাপাশি ময়দানে নেমেছে এসটিএফ (STF)।
৩ থানায় ১৬৩ ধারা জারি, গড়িয়াতেই ব্যারিকেড
রবিবার দিনভর ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলা এবং পথ অবরোধের পর সোমবার সকাল থেকেই বারুইপুর জুড়ে মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুর— এই তিন থানা এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৬৩ ধারা জারি করেছে পুলিশ প্রশাসন। বাইরের কোনো রাজনৈতিক দল বা বহিরাগতদের এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। কলকাতা থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ঢোকার অন্যতম প্রধান রাস্তা গড়িয়া ঢালাই ব্রিজ থেকেই সমস্ত গাড়ি আটকে কড়া তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
তবে কড়া বিধিনিষেধের মাঝেই বারুইপুরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডলদের মতো তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রতিনিধি দল। অন্যদিকে, দুপুরের দিকে ভাঙড়ের আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিরও নির্যাতিতার বাড়িতে যাওয়ার কথা রয়েছে।
রাতেই এসটিএফের অ্যাকশন, ধৃতদের বয়ানে অসঙ্গতি
রবিবার সন্ধ্যায় মূল ২ অভিযুক্ত পুলিশের জালে ধরা পড়ার পর, রবিবার মধ্যরাতে বারুইপুর থানার পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF) যৌথভাবে রাত্রীকালীন অ্যাকশনে নামে। মূল অভিযুক্তদের লুকিয়ে থাকতে সাহায্য এবং আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে রাতেই আরও ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে, সোমবারই ধৃতদের বারুইপুর আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ম্যারাথন জেরার মুখে এক ধৃত দাবি করেছে যে, তারা নাবালিকাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ছক কষেছিল। কিন্তু নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, তাদের কাছে কোনো মুক্তিপণের ফোন আসেনি। ধৃতদের এই বয়ানের অসঙ্গতি খতিয়ে দেখতে অ্যাডিশনাল এসপি পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে গঠিত ৬ সদস্যের সিট (SIT) জেরা জারি রেখেছে।
দোষীদের ফাঁসির দাবি, আসরে শুভেন্দু-অভিষেক-মমতা
নাবালিকার নৃশংস মৃত্যু নিয়ে এ রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। ঘটনার পরই নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নতুন সরকারের আমলে অপরাধী যে-ই হোক, রেহাই পাবে না। আজন্ম কান্নায় ভেঙে পড়া নির্যাতিতার মাকে সান্ত্বনা ও দোষীদের ফাঁসির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিতে আগামী মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পরিবারটিকে কলকাতার ভবানীভবনে ডেকে পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে, রবিবার সন্ধ্যায় ফোনে মৃতের পরিবারের সাথে কথা বলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাতে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘক্ষণ ভিডিও কলে কথা বলেন নির্যাতিতার মায়ের সাথে। দোষীদের উপযুক্ত সাজা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাওয়ার আইনি লড়াইয়ের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। লোকসভার সাংসদ সায়নী ঘোষও ফেসবুকে বিবৃতি দিয়ে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন।
[বারুইপুর কাণ্ডে রুজু হওয়া ৩টি মামলা]
১. নাবালিকাকে অপহরণ, পাশবিক ধর্ষণ ও খুনের মূল মামলা।
২. ঘটনার পর উগ্র জনতার হাতে এক অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে খুনের মামলা।
৩. সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও পথ অবরোধের মামলা।
এক নজরে বারুইপুর গণ-আন্দোলন ও আইনি আপডেট:
| প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা | পুলিশের বিশেষ দল (SIT) | ধৃত ও আটক সংখ্যা | রাজনৈতিক তৎপরতা |
| বারুইপুর, সোনারপুর, নরেন্দ্রপুরে ১৬৩ ধারা জারি; গড়িয়া ঢালাই ব্রিজে ব্যারিকেড। | অ্যাডিশনাল এসপি পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের টিম। | ২ জন গ্রেপ্তার, ৩ জন রাতে আটক। মোট ৩টি পৃথক এফআইআর। | মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরিবারকে ভবানীভবনে ডেকেছেন; তৃণমূল ও আইএসএফের প্রতিনিধি দল রওনা। |
বারুইপুরের এই নারকীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ আছড়ে পড়েছে রাস্তায়। একদিকে যখন নতুন রাজ্য সরকার এই ঘটনার দ্রুত কিনারা করে ন্যায়বিচারের স্বার্থে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই বিরোধী শিবিরও এই নিয়ে সুর চড়াতে ছাড়ছে না। তবে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে বারুইপুরের সন্তানহারা মায়ের একটাই দাবি— দোষীদের যেন দ্রুত ফাঁসি দেওয়া হয়।






