Baruipur Violence: ‘কাউকে ছাড়া হবে না, সর্বোচ্চ শাস্তি!’ বারুইপুরের হিংসার নেপথ্যে ২০১৯-এর সিএএ বিরোধী ছকের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

source : সংবাদ প্রতিদিন
বারুইপুরে নাবালিকার ওপর হওয়া পাশবিক অত্যাচার ও খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে যখন ক্ষোভের আগুন জ্বলছে, তখনই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কড়া বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একদিকে যেমন মূল অপরাধীদের জন্য ফাঁসি বা সর্বোচ্চ শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি, ঠিক অন্যদিকেই প্রতিবাদের নামে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস এবং রেললাইন উপড়ে ফেলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করে এর পেছনে এক গভীর ‘ষড়যন্ত্র’ দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী।
‘অপরাধীদের রেহাই নেই, সর্বোচ্চ শাস্তি হবেই’
সোমবার বারুইপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দেন, নতুন সরকারের আমলে এই ধরণের পাশবিক অপরাধ বরদাস্ত করা হবে না। নাবালিকার ওপর হওয়া এই জঘন্যতম অপরাধের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রতিটি অপরাধীকে খুঁজে বের করবে পুলিশ। ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের মাধ্যমে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করতে বদ্ধপরিকর রাজ্য প্রশাসন।
রেললাইন উপড়ানোয় অতীতের ‘কুখ্যাত’ ছক দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী
তবে মূল অপরাধের পাশাপাশি, রবিবার দিনভর বারুইপুর ও সংলগ্ন এলাকায় যে ব্যাপক ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলা এবং রেললাইন উপড়ে ফেলার মতো ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট ইঙ্গিত, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ ও ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে কোনো একটি নির্দিষ্ট মহল রাজ্যে বড়সড় অশান্তি ছড়ানোর জন্য এই নীল নকশা তৈরি করেছিল।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বারুইপুরে যেভাবে রেললাইনকে উপড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে, তা আমাদের একটা কালো অতীতকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। ২০১৯ সালে এ রাজ্যে যেভাবে সিএএ (CAA) বিরোধী আন্দোলনের নামে স্টেশনে আগুন লাগানো হয়েছিল, রেললাইন উপড়ানো হয়েছিল কিংবা পরবর্তীকালে ওয়াকফ বিল বিরোধী আন্দোলনের সময় যে উগ্র রূপ দেখা গিয়েছিল— এই ঘটনাও ঠিক সেই ধরণকেই মনে করাচ্ছে।”
[মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল ৩টি দিক]
১. জঘন্যতম অপরাধের বিচার: দোষীদের সর্বোচ্চ এবং দ্রুততম শাস্তির ব্যবস্থা।
২. সরকারি সম্পত্তি রক্ষা: প্রতিবাদের নামে রেললাইন উপড়ানোর তীব্র নিন্দা।
৩. চক্রান্তের পর্দাফাঁস: উগ্র আন্দোলনের ধরন দেখে এর নেপথ্যের গভীর ষড়যন্ত্রের তদন্ত।
কড়া নজরদারিতে উপদ্রবকারীরা
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, স্রেফ আবেগের বশে বা প্রতিবাদের খাতিরে সাধারণ মানুষ রেললাইন উপড়ে ফেলতে পারে না, এর পেছনে সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও চক্রান্ত রয়েছে। রাজ্য পুলিশের ইন্টেলিজেন্স বা গোয়েন্দা বিভাগ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ইতিমধ্যেই বারুইপুর, সোনারপুর ও নরেন্দ্রপুরে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। যারা সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে উস্কে দিয়ে রেল ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির ক্ষতি করেছে, সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ দেখে তাদের চিহ্নিত করে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এক নজরে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ও অবস্থান:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | মুখ্যমন্ত্রীর মূল বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত |
| মূল অপরাধীদের শাস্তি | জঘন্যতম এই অপরাধে যুক্ত কাউকে ছাড়া হবে না। আদালতের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। |
| রেললাইন উপড়ানোর ঘটনা | একে স্রেফ স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ বলা যায় না। এর পেছনে সুনির্দিষ্ট চক্রান্ত ও উস্কানি রয়েছে। |
| ঐতিহাসিক তুলনা | এই হিংসার ধরণ ২০১৯ সালের সিএএ বিরোধী আন্দোলন ও ওয়াকফ আন্দোলনের উগ্র রূপকে মনে করায়। |
| প্রশাসনিক অ্যাকশন | পুরো ঘটনাটি সরকারের কড়া নজরে রয়েছে। উস্কানিদাতা ও ভাঙচুরকারীদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা রুজু হয়েছে। |
বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিকে যখন আইন অনুযায়ী কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে পুলিশ ও সিট (SIT), তখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই উগ্র আন্দোলনের নেপথ্যে ‘ষড়যন্ত্রে’র ইঙ্গিত রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে। একদিকে নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অন্যদিকে হিংসাত্মক আন্দোলনের ছক ভেস্তে দেওয়া— এই দুই ফ্রন্টেই এখন নতুন সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।






