Baruipur Encounter: “ও সব পারে, বরাবরই নোংরা!” বারুইপুর ধর্ষণ ও খুনে ধৃত প্রভাসের এনকাউন্টারে স্বস্তি, ক্ষোভ উগরে দেহ নিতে রাজি স্ত্রী-মা

source : সংবাদ প্রতিদিন
উত্তর ২৪ পরগনার বারুইপুরের (Baruipur) নাবালিকা ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডে এবার উত্তরপ্রদেশের ধাঁচে ‘স্পট জাস্টিস’ বা এনকাউন্টারের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। পুলিশের গুলিতে খতম হলো মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল (Prabhas Mondal)। আর এই ঘটনার পর যে ছবি সামনে এলো, তা এককথায় নজিরবিহীন। সাধারণত কোনো অপরাধীর মৃত্যুর পর পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়ে, কিন্তু প্রভাসের ক্ষেত্রে তার নিজের স্ত্রী এবং মা-ও পুলিশের এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের সাফ কথা— “অন্যায় করেছে, তাই গুলি খেয়েছে।”
“ও সব পারে, আমার ওপর কম অত্যাচার করেনি”— ক্ষোভ উগরে দিলেন স্ত্রী
বুধবার সকেলেই বারুইপুর থানার পুলিশের তরফে প্রভাস মণ্ডলের বাড়িতে তার এনকাউন্টারে মৃত্যুর খবর পাঠানো হয়। স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নাকাটি তো দূর অস্ত, একরাশ জমে থাকা ক্ষোভ উগরে দেন প্রভাসের স্ত্রী।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সোজাসুজি বলেন—
“ও বরাবরই নোংরা লোক। ও এই জঘন্য কাজ করেনি— এমন দাবি আমি কোনোদিন করতে পারব না। ও এটা করতেই পারে, ও সব পারে। আমার বিয়ের পর ও কম অন্যায় করেনি আমার সাথে। কত অত্যাচার করেছে! সেইসব সহ্য করেই এতদিন সংসার করেছি। আজ দোষ করেছে, তাই গুলি খেয়েছে।”
থানার তরফে দেহ নেওয়ার কথা বলা হলে প্রথমে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও, পরে পরিবারের বাকি সদস্যদের সাথে কথা বলে শাশুড়ি ও স্ত্রী দুজনেই বারুইপুর থানার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।
“দেহ নিতে যাব না!” অনড় ছিলেন মা-ও, খুশি প্রতিবেশীরা
ছেলের এমন পৈশাচিক অপরাধের কথা জানার পর থেকেই লজ্জায় মাথা কাটা গিয়েছিল প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডলের। সকালে যখন পুলিশ প্রভাসের এনকাউন্টারের খবর দেয়, তখন সন্ধ্যা দেবী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, যে ছেলে একরত্তি মেয়ের সাথে এমন নোংরামি করে তাকে খুন করতে পারে, তার মুখ তাঁরা দেখতে চান না এবং দেহ নিতেও যাবেন না।
শুধু পরিবারই নয়, প্রভাসের পাড়া-প্রতিবেশীরাও পুলিশের এই ‘তাত্ক্ষণিক অ্যাকশনে’ চরম স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়দের বক্তব্য, যে ভয়ঙ্কর অন্যায় প্রভাস করেছে, তার আইনি বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার চেয়ে এই শাস্তিই একদম উপযুক্ত হয়েছে। যা হয়েছে, খুব ভালো হয়েছে।
[বারুইপুর এনকাউন্টার কাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহ]
* গ্রেফতারি: নাবালিকা নিখোঁজের পর তদন্তে নেমে প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
* দেহ উদ্ধার: প্রভাসকে জেরা করেই বারুইপুরের সূর্যপুর থেকে বস্তাবন্দি নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়।
* মঙ্গলবার রাত: ঘটনার পুনর্নির্মাণ বা ক্রাইম সিন ভেরিফিকেশনের জন্য প্রভাসকে অকুস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়।
* এনকাউন্টার: পুলিশের বন্দুক হাতিয়ে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশের পাল্টা গুলি।
* বুধবার সকাল: বারুইপুর হাসপাতালে প্রভাসের মৃত্যু ঘোষণা এবং পরিবারকে খবর পাঠানো।
কীভাবে হলো এই এনকাউন্টার?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুর ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডের তদন্তে নেমে প্রথম প্রভাস মণ্ডলকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাকে জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই উদ্ধার করা হয়েছিল নিখোঁজ নাবালিকার বস্তাবন্দি ক্ষতবিক্ষত দেহ।
এরপর মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার প্রকৃত বিবরণ ও তথ্য মেলাতে প্রভাসকে নিয়ে বারুইপুরের সূর্যপুরের সেই নির্জন অকুস্থলে যান তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, সেই সময় পুলিশকে অসতর্ক পেয়ে আচমকাই এক আধিকারিকের বন্দুক হাতিয়ে নেয় প্রভাস এবং পুলিশকে লক্ষ্য করেই গুলি চালাতে শুরু করে। এরপর সে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে এবং অপরাধীকে রুখতে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশও। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এক নজরে বারুইপুর এনকাউন্টার মামলা:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | এনকাউন্টার ও ঘটনার বিবরণ |
| নিহত অভিযুক্ত | প্রভাস মণ্ডল (বারুইপুর ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডের মূল আসামী)। |
| এনকাউন্টারের স্থান | সূর্যপুর, বারুইপুর (North 24 Parganas)। |
| পুলিশের দাবি | পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল অভিযুক্ত। |
| পরিবারের প্রতিক্রিয়া | মা ও স্ত্রী দুজনেই এনকাউন্টারকে সমর্থন করেছেন; ক্ষোভ উগরেছেন স্ত্রী। |
| জনসাধারণের অবস্থান | বারুইপুরের সাধারণ মানুষ ও প্রতিবেশীরা পুলিশের এই কড়া পদক্ষেপে অত্যন্ত খুশি। |
পশ্চিমবঙ্গের বুকে পুলিশের এই ‘এনকাউন্টার’ রণকৌশল অত্যন্ত বিরল। সাধারণত যোগীরাজ্য বা উত্তরপ্রদেশে এই ধরণের ঘটনা বেশি দেখা যায়। বারুইপুরের এই ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে দিল যে, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্যতম অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসন এখন কতটা কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। খোদ অপরাধীর পরিবারের এই অনমনীয় বয়ান প্রমাণ করে দেয় যে, প্রভাস মণ্ডলের পাপের ঘড়া কতটা পূর্ণ হয়েছিল।






