Amarnath Ice Shivling Melts 2026: যাত্রা শুরুর মাত্র ৫ দিনেই সম্পূর্ণ গলে গেলেন ‘বরফানি বাবা’! ফাঁকা অমরনাথ গুহা দেখে হতাশ ভক্তরা, নেপথ্যে কি কর্তৃপক্ষের গাফিলতি?

source : সংবাদ প্রতিদিন
শ্রাবণ মাস আসার আগেই জম্মু-কাশ্মীরের দুর্গম হিমালয়ের কোল থেকে এল এক হাড়হিম ও মন খারাপ করা খবর। প্রতি বছর দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ ভক্ত যে ‘বরফানি বাবা’ বা বরফের শিবলিঙ্গ দর্শনের আশায় মাইলের পর মাইল দুর্গম পাহাড়ি পথ পার করেন, সেই শিবলিঙ্গ যাত্রা শুরুর মাত্র ৫ দিনের মাথায় গলে জল হয়ে গেল। ৫৭ দিন ধরে চলা এই দীর্ঘ তীর্থযাত্রার শুরুতেই বাবা বরফানির এই আকস্মিক অন্তর্ধান ভক্তদের মনে যেমন গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে, তেমনই পরিবেশবিদ এবং রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোরদার বিতর্ক।
৭ ফুট থেকে এক নিমেষে উধাও ‘বরফানি বাবা’
চলতি বছরের ৩ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল ২০২৬ সালের অমরনাথ যাত্রা। এর আগে, গত ২৩ মে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ (BSF)-এর তরফ থেকে অমরনাথ গুহার একটি ছবি তোলা হয়েছিল, যেখানে দেখা গিয়েছিল প্রায় ৭ ফুটের এক বিশালাকার ও নিখুঁত বরফের শিবলিঙ্গ গঠিত হয়েছে।
এমনকী গত ৩ জুলাই যখন প্রথম দফার ভক্তরা গুহায় পৌঁছান, তখনও শিবলিঙ্গের উচ্চতা ছিল ৫ ফুটের বেশি। কিন্তু এরপরের ৫ দিনেই অলৌকিক বা প্রাকৃতিক নিয়মে দ্রুত গলতে শুরু করে বরফ। জানা গিয়েছে, গত ৬ জুলাইয়ের মধ্যেই শিবলিঙ্গের প্রায় ৯০ শতাংশ অংশ গলে গিয়েছিল। আর ৯ জুলাই, বৃহস্পতিবার নাগাদ গুহার ভেতরটি সম্পূর্ণ ফাঁকা হয়ে পড়ে। মাইলের পর মাইল চড়াই-উতরাই পেরিয়ে গুহার সামনে পৌঁছানো হাজার হাজার ভক্ত এখন ফাঁকা গুহা দেখে হতাশায় ভেঙে পড়েছেন।
“অশনি সংকেত নাকি গাফিলতি?”— প্রশ্ন তুললেন ইলতিজা মুফতি
প্রাকৃতিক নিয়মে গুহার ছাদ থেকে জল চুঁইয়ে পড়ে নিচে জমে নিজে থেকেই এই বরফের শিবলিঙ্গ তৈরি হয়। প্রতি বছরই এর আকার ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে স্থানীয় তাপমাত্রা এবং পরিবেশের ওপর। কিন্তু এবারের এই রেকর্ড ভাঙা দ্রুত গলনের পেছনে কোনো অলৌকিক অশনি সংকেত নাকি কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ভূস্বর্গের পিডিপি (PDP) নেত্রী ইলতিজা মুফতি এক্স (টুইটার) হ্যান্ডলে ফাঁকা অমরনাথ গুহার ছবি পোস্ট করে তীর্থযাত্রা পরিচালনা কমিটির দিকে সরাসরি আঙুল তুলেছেন।
ইলতিজা প্রশ্ন তোলেন, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে সুরক্ষার স্বার্থে দিনে ১০ হাজারের বেশি ভক্ত বরফানি বাবার দর্শন করতে পারবেন না। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কি আদৌ সেই নিয়ম মেনেছেন? নাকি অতিরিক্ত মুনাফা ও ভিড়ের চাপে গুহার ভেতরের তাপমাত্রা কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে? তিনি এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
[অমরনাথ শিবলিঙ্গ ২০২৬: টাইমলাইন ও গলনের কারণ]
* ২৩ মে, ২০২৬: বিএসএফ-এর ক্যামেরায় শিবলিঙ্গের উচ্চতা ছিল ৭ ফুট।
* ৩ জুলাই, ২০২৬: যাত্রা শুরুর প্রথম দিনে উচ্চতা ছিল ৫ ফুট।
* ৬ জুলাই, ২০২৬: ৯০ শতাংশ বরফ গলে যায়।
* ৯ জুলাই, ২০২৬: শিবলিঙ্গ সম্পূর্ণ অদৃশ্য, ফাঁকা গুহা।
* মূল বৈজ্ঞানিক কারণ: বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) এবং পাহাড়ি অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন? বন্ধ হচ্ছে না যাত্রা
গবেষকদের একাংশের মতে, অমরনাথের শিবলিঙ্গ দ্রুত গলে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ বা বিশ্ব উষ্ণায়ন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয়ের এই উচ্চতাতেও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই বেশি থাকছে। এছাড়া হাজার হাজার মানুষের শরীরের উত্তাপ, নিঃশ্বাস এবং গুহার ভেতর লাইটের ব্যবহারও এই গলন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে।
বিশেষজ্ঞরা একে প্রকৃতির স্বাভাবিক আচরণ বললেও, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনেকেই একে শুভ লক্ষণ হিসেবে দেখছেন না। তবে ভক্তদের মন খারাপের মাঝেই জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন ও শ্রাইন বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, শিবলিঙ্গ গলে গেলেও তীর্থযাত্রা বন্ধ হচ্ছে না। আগামী ২৮ আগস্ট পর্যন্ত নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই ২০২৬ সালের অমরনাথ যাত্রা জারি থাকবে।
এক নজরে অমরনাথ যাত্রার বর্তমান পরিস্থিতি:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | অমরনাথ ট্র্যাকিং ও শিবলিঙ্গ আপডেট |
| যাত্রা শুরুর তারিখ | ৩ জুলাই, ২০২৬। |
| শিবলিঙ্গ গলে যাওয়ার তারিখ | ৮-৯ জুলাই, ২০২৬ (মাত্র ৫ দিনে)। |
| যাত্রার অন্তিম তারিখ | ২৮ আগস্ট, ২০২৬ (চলবে মোট ৫৭ দিন)। |
| অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু | সুপ্রিম কোর্টের দৈনিক ১০ হাজার ভক্তের গাইডলাইন লঙ্ঘন। |
| প্রধান প্রাকৃতিক কারণ | বিশ্ব উষ্ণায়ন ও পাহাড়ে অতিরিক্ত গরমের প্রকোপ। |
অমরনাথের বরফানি বাবা কেবল একটি ধর্মীয় প্রতীক নন, এটি কোটি কোটি মানুষের আবেগ ও বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু। এত অল্প সময়ে শিবলিঙ্গ বিলীন হয়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে পরিবেশের এক বড়সড় অ্যালার্ম বেল বা সতর্কবার্তা। প্রশাসন যদি এখনই দৈনিক সুনির্দিষ্ট ভক্তসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং গুহার ভেতরের পরিবেশ ঠান্ডা রাখার বৈজ্ঞানিক উপায় না খোঁজে, তবে আগামী দিনে হয়তো শ্রাবণ আসার আগেই প্রতি বছর এইভাবে শূন্য হয়ে পড়বে অমরনাথের পবিত্র গুহা।






