Mutton Controversy in Wedding: পাতে খাসির মাংসের বদলে কেন মুরগি? বিয়েবাড়িতে বর ও কনেপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, লাঠি-তরোয়াল নিয়ে হামলায় আহত ১২!

source : আনন্দবাজার
বিয়েবাড়ির সানাইয়ের সুর ও হইহুল্লোড়ের পরিবেশ যে মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রে বদলে যেতে পারে, তার এক চরম নিদর্শন মিলল বিহারে। আর এই তুমুল অশান্তির নেপথ্যে কোনো যৌতুক বা পারিবারিক বিবাদ নয়, দায়ী স্রেফ খাসির মাংস (Mutton)! বিয়েবাড়িতে বর এবং কনেপক্ষের মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাল যে, লাঠি-সোটা ও তরোয়াল নিয়ে চলল মারধর। ছাদনাতলার এই নজিরবিহীন মাংস-যুদ্ধে রক্তাক্ত হলেন দুই পক্ষেরই বহু অতিথি।
খাসির বদলে মুরগি আসতেই ‘খাদ্য যুদ্ধ’ শুরু
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের সহরসা (Saharsa) জেলায়। শুক্রবার সকাল থেকেই কনেপক্ষের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানকে ঘিরে ছিল উৎসবের আমেজ। চারদিকে আত্মীয়স্বজনদের ভিড় এবং হইহুল্লোড়ের মধ্য দিয়ে বিয়ের মূল আচার-অনুষ্ঠান বেশ ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু আসল গোলযোগটি বাধল ঠিক যখন বরপক্ষ বা বরযাত্রীরা খাবার টেবিলে গিয়ে বসলেন।
বরপক্ষের অভিযোগ, কনের পরিবারের তরফ থেকে আগে থেকেই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে বিয়ের রাজকীয় মেনুতে খাসির মাংস থাকবে। কিন্তু খেতে বসে বরযাত্রীরা দেখেন পাতে খাসির মাংসের বদলে পরিবেশন করা হচ্ছে সাধারণ মুরগির মাংস। পছন্দের খাবার পাতে না পড়তেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বরযাত্রীরা। কেন দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখা হলো না, এই নিয়ে তাঁরা অনুষ্ঠানবাড়িতেই তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেন এবং একযোগে খাবার ‘বয়কট’ করার সিদ্ধান্ত নেন।
লাঠি-তরোয়াল নিয়ে আক্রমণ, লণ্ডভণ্ড বিয়েবাড়ি
খাবার বয়কটের পর কনেপক্ষের লোকজন বরযাত্রীদের শান্ত করার এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে দু’পক্ষের মাথা গরম হয়ে যাওয়ায় এক কথা, দু’কথা থেকে শুরু হয়ে যায় তুমুল বচসা। মুহূর্তের মধ্যে সেই বচসা মারাত্মক হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাগের মাথায় খাবার ফেলে দেওয়া হয় এবং মণ্ডপের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা শুরু হয়। অভিযোগ, পরিস্থিতি এতটাই বেসামাল হয়ে পড়ে যে কনেপক্ষের একাংশ লাঠি নিয়ে বরযাত্রীদের ওপর চড়াও হন। এমনকি বরযাত্রীদের ভয় দেখাতে ও শাসাতে খোলা তরোয়ালও বের করা হয় বলে অভিযোগ। পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে বরপক্ষও।
[সহরসা বিয়েবাড়ি সংঘর্ষের খতিয়ান]
* বিবাদের কারণ: প্রতিশ্রুতি মতো খাসির মাংসের (Mutton) অনুপস্থিতি।
* ক্ষয়ক্ষতি: মণ্ডপের চেয়ার, টেবিল ভাঙচুর, খাবার নষ্ট।
* ব্যবহৃত অস্ত্র: লাঠি, রড এবং তরোয়াল।
* হতাহত: ১২ জন গুরুতর আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি।
পুলিশ এসে সামাল দিল পরিস্থিতি, তদন্ত শুরু
বিয়েবাড়ির ভেতরে এমন আকস্মিক ও হুলস্থুল কাণ্ডে সাধারণ অতিথি এবং মহিলাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বেগতিক দেখে স্থানীয় বাসিন্দারাই তৎক্ষণাৎ স্থানীয় থানায় খবর দেন। খবর পেয়েই পুলিশের একটি বিশাল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দু’পক্ষকে একে অপরের থেকে সরিয়ে দেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই লাঠি ও তরোয়ালের লড়াইয়ে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে তাঁরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন। ইতিমধ্যেই বর ও কনে— দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং বিয়েবাড়ির বাকি ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখছে।
ভুরিভোজের মেনু বা মাংসের টুকরো নিয়ে বিয়েবাড়িতে টুকটাক অসন্তোষ বা কথা কাটাকাটি ভারতীয় উপমহাদেশে নতুন কিছু নয়। কিন্তু খাসির মাংসের বদলে মুরগির মাংস দেওয়ার মতো একটি কারণে লাঠি-তরোয়াল নিয়ে মারামারি এবং ১২ জনের হাসপাতাল যাত্রা এক প্রকার নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক। এই ঘটনার জেরে নবদম্পতির বৈবাহিক জীবনের শুরুতেই আইনি ঝামেলার কালো মেঘ নেমে এল। সাধারণ মানুষের মতে, খাবারের মতো একটি বিষয়ে সামান্য সংযম ও পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকলে এমন উৎসবের দিনটি এভাবে রক্তাক্ত থানা-পুলিশের দফতরে গিয়ে শেষ হতো না।






