Venezuela Earthquake Tragedy: ভয়াবহ ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় মৃত্যু ৪০০০ ছাড়াল, ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ বহু! মানবিক সহায়তার দাবিতে সরব বিশ্ব

source : ei samay
ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হয়ে রইল গত ২৪ জুন। মাত্র ৩৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে দেশটিতে নেমে এসেছে চরম মানবিক বিপর্যয়। শুক্রবার দেশটির সরকারের দেওয়া তথ্যে মৃতের সংখ্যা ৪০০০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় গোটা বিশ্ব শোকস্তব্ধ। উদ্ধারকাজ এখনও চলমান থাকলেও, ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকের নিখোঁজ থাকার আশঙ্কায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জোড়া কম্পনের ধ্বংসলীলা
গত মাসে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরে প্রথম ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। সেই কম্পনের রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র ৩৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে কারাকাস ও তার আশপাশের অঞ্চলে ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
এই বিপর্যয় সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়েছে লা গুয়াইরা (La Guaira) অঞ্চলে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই এলাকায় শতাধিক পাকা বাড়ি ধুলোয় মিশে গেছে। প্রায় ৭০ হাজারেরও বেশি পরিবার বর্তমানে তাদের আশ্রয় হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে জীবন কাটাচ্ছে। সরকারি প্রশাসনের হিসেবে আহতের সংখ্যা ১৬,৭৪০ জন, যাঁদের অনেকেই সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ত্রাণ ও আন্তর্জাতিক সহায়তার রাজনীতি
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মোকাবিলায় রাষ্ট্রপুঞ্জ (UN) দ্রুত উদ্ধারকারী দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ১৫ মিলিয়ন ডলারের জরুরি অর্থসাহায্যের ঘোষণা করেছে। আমেরিকাও (US) মানবিক দিক বিবেচনা করে ভেনেজুয়েলাকে ১৫ মিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে এই সহায়তার মধ্যেই রাজনীতির ছোঁয়া লেগেছে। ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশ সোচ্চার হয়ে দাবি জানিয়েছে যে, ওয়াশিংটন সরকার ভেনেজুয়েলার ওপর যে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা (Sanctions) চাপিয়ে রেখেছে, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। তাঁদের মতে—
“দেশের অর্থনীতি যখন ধুঁকছে এবং পরিকাঠামো ধ্বংসপ্রায়, তখন এই নিষেধাজ্ঞা জিইয়ে রেখে সাধারণ মানুষের কাছে জরুরি খাদ্য, ওষুধ ও ত্রাণ পৌঁছানো কার্যত অসম্ভব।”
[ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি এক নজরে]
* কম্পনের মাত্রা: ৭.২ এবং ৭.৫ (রিখটার স্কেল)।
* মৃত্যুর সংখ্যা: ৪,১১৮ জন (সূত্র: সরকার)।
* আহতের সংখ্যা: ১৬,৭৪০ জন।
* গৃহহীন পরিবার: ১৮,০০০ জন মানুষ ও ৭০,০০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।
* প্রধান ত্রাণ প্রদানকারী: আমেরিকা (১৫০ মিলিয়ন ডলার), রাষ্ট্রপুঞ্জ (১৫ মিলিয়ন ডলার)।






