Telangana Mass Murder: পকসো মামলায় জামিন পেয়েই চরম প্রতিশোধ! তেলেঙ্গানায় নিজের ২ সন্তান, স্ত্রী ও অভিযোগকারিণীর পরিবারসহ ৬ জনকে নৃশংস খুন করে নিখোঁজ অভিযুক্ত

source : sangbad pratidin
আইনের ফাঁক গলে জামিন পেয়েই যে একজন মানুষ এতটা পিশাচ হয়ে উঠতে পারে, তার এক চরম ও নৃশংস দৃষ্টান্ত দেখল তেলেঙ্গানা। হায়দরাবাদের সীমান্তবর্তী রাঙ্গা রেড্ডি (Ranga Reddy) জেলায় শুক্রবার রাতে ঘটে গেল এক কল্পনাতীত গণহত্যাকাণ্ড। পকসো (POCSO) বা নাবালিকা যৌন হেনস্থার মামলায় আদালত থেকে আগাম জামিন পাওয়ার ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় চরম প্রতিশোধের রাস্তায় হাঁটল অভিযুক্ত। নিজের সাজানো সংসার ও অভিযোগকারিণীর পরিবারকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়ে এক রাতে ৬ জনকে খুন করল সে।
জুয়াড়ু রাজকুমারের অপরাধের ইতিহাস
নৃশংস এই ঘটনার মূল পাণ্ডা ৩৫ বছর বয়সি রাজকুমার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজকুমার দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমাজবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিল। বিশেষ করে আইপিএল ও বিভিন্ন জুয়া খেলায় বিপুল টাকা হেরে বাজারে বড় অঙ্কের দেনায় ডুবে ছিল সে।
তার অপরাধের খতিয়ান আরও বড় আকার নেয় গত ১৬ মে। এক নাবালিকা অভিযোগ করে, কোচিং সেন্টারে যাতায়াতের সময় রাজকুমার তার পিছু নিত এবং কুপ্রস্তাব সহ যৌন হেনস্থা করত। পকসো আইনে মামলা দায়ের হওয়ার পর বেশ কিছুদিন পলাতক ছিল রাজকুমার। কিন্তু সপ্তাহখানেক আগে আদালত থেকে সে রহস্যজনকভাবে আগাম জামিন পেয়ে যায়। আর এই জামিন পাওয়াই যে এত বড় বিপদের কারণ হবে, তা কেউ আন্দাজ করতে পারেনি।
প্রথম পর্ব: নিজের ঘুমন্ত দুই সন্তান ও স্ত্রীকে হত্যা
শুক্রবার রাত পর্যন্ত বাড়িতে রাজকুমারের আচরণ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল বলে পরিবার সূত্রে দাবি। কিন্তু মাঝরাত হতেই তার ভেতরের সুপ্ত রাক্ষসটি জেগে ওঠে।
ধারণা করা হচ্ছে, গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকা অবস্থায় রাজকুমার প্রথমে তার ৪ বছর এবং মাত্র ১ বছর বয়সি দুই নিষ্পাপ শিশুপুত্রকে শ্বাসরোধ বা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা করে। সন্তানদের নিথর করার পর সে চড়াও হয় স্ত্রী পার্বতীর ওপর। পার্বতী টের পেয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করায় দুজনের মধ্যে চরম ধস্তাধস্তি হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি, পার্বতীকেও নির্মমভাবে খুন করে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে রাজকুমার।
দ্বিতীয় পর্ব: পকসো অভিযোগকারিণী ও তার পরিবারের বংশলোপ
নিজের বাড়িকে শ্মশান বানিয়ে রাজকুমার একটি গাড়ি নিয়ে সোজা চলে যায় সেই নাবালিকার বাড়িতে, যে তার বিরুদ্ধে পকসো মামলা করেছিল। গভীর রাতে বাড়ির দরজা ভেঙে ঢুকে রাজকুমার প্রথমে ওই নাবালিকার মা এবং বৃদ্ধা ঠাকুমাকে কুচিয়ে ও পিটিয়ে খুন করে।
এরপর সেই আতঙ্কিত নাবালিকাকে জোরপূর্বক গাড়িতে চাপিয়ে খানিকটা নির্জন ও দূরের এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকেও নির্মমভাবে হত্যা করে নিজের ‘প্রতিশোধ’ সম্পূর্ণ করে রাজকুমার। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি পরিবারের মোট ৬টি তাজা প্রাণ কেড়ে নেয় এই সাইকোপ্যাথ খুনি।
[রাজকুমারের খুনের শিকার যারা হলেন]
১. চার বছর বয়সি শিশুপুত্র (নিজের সন্তান)
২. এক বছর বয়সি শিশুপুত্র (নিজের সন্তান)
৩. পার্বতী (নিজ স্ত্রী)
৪. নাবালিকা (পকসো মামলার মূল অভিযোগকারিণী)
৫. নাবালিকার মা
৬. নাবালিকার ঠাকুমা
বাবাকে ফোন করে স্বীকারোক্তি, পুলিশের বিশেষ দল গঠন
টানা ৬ জনকে ঠাণ্ডা মাথায় খুনের পর রাজকুমারের মধ্যে কোনো অনুশোচনা বা ভীতি ছিল না। সে নিজেই সশরীরে তার বাবাকে ফোন করে এই ভয়াবহ হত্যালীলার কথা অবলীলায় স্বীকার করে। ফোনের শেষপ্রান্তে সে ইঙ্গিত দেয়, কাজ শেষ, এবার সে নিজেও আত্মঘাতী হতে চলেছে। বাবার সঙ্গে এই কথা বলার পরেই নিজের মোবাইল ফোনটি সুইচ অফ করে দেয় রাজকুমার।
শনিবার সকাল থেকে রাঙ্গা রেড্ডি জেলার একাধিক স্পটে পুলিশ গিয়ে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। হায়দরাবাদের উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন—
“গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রাজকুমার জীবিত আছে নাকি সত্যি আত্মহত্যা করেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তার খোঁজে এবং প্রযুক্তির সাহায্যে লোকেশন ট্র্যাক করতে পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম (Special Squads) গঠন করে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে।”
এক নজরে তেলেঙ্গানার নৃশংস গণহত্যাকাণ্ড:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | রাঙ্গা রেড্ডি জেলা হত্যাকাণ্ডের সর্বশেষ আপডেট |
| মূল অভিযুক্ত | রাজকুমার (৩৫ বছর, পেশাদার জুয়াড়ু ও পকসো মামলার আসামি)। |
| খুনের কারণ | পকসো মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের চরম প্রতিশোধ। |
| ঘটনাস্থল | রাঙ্গা রেড্ডি জেলা (হায়দরাবাদের অদূরে), তেলেঙ্গানা। |
| হতাহতের সংখ্যা | ৬ জন (৩ জন নিজের পরিবারের, ৩ জন অভিযোগকারিণীর পরিবারের)। |
| বর্তমান পরিস্থিতি | এলাকা থমথমে; পলাতক আসামির খোঁজে পুলিশের হাই-অ্যালার্ট জারি। |
পকসো মামলার মতো একটি গুরুতর অপরাধের আসামিকে কেন এবং কীভাবে এত সহজে আগাম জামিন দেওয়া হলো, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সমাজকর্মী ও সাধারণ মানুষের মনে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদি রাজকুমার জেলের ভেতরে থাকত, তবে আজ দুটি পরিবারের ৬টি প্রাণ এভাবে অকালে ঝরে যেত না। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, অপরাধীদের মানসিকতা কতটা ভয়ংকর রূপ নিতে পারে। তেলেঙ্গানা পুলিশ দাবি করেছে, খুব দ্রুতই তারা রাজকুমারকে খুঁজে বের করবে, তবে যে ক্ষতি হয়ে গেল—তা আর কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়।






