Bulldozer Action: এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার কার্যালয়ে চলল বুলডোজার! অবৈধ প্ল্যান ও দুর্নীতির অভিযোগে ধুন্ধুমার আমতলায়

source : Sangbad Pratidin
পশ্চিমবঙ্গ তথা দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের রাজনীতিতে এর চেয়ে বড় তোলপাড় হয়তো আগে কখনও হয়নি। উত্তরপ্রদেশ বা দিল্লির ধাঁচে এবার খোদ বাংলার বুকেও দেখা গেল হাই-ভোল্টেজ ‘বুলডোজার অ্যাকশন’। দুর্নীতির অভিযোগে ও সম্পূর্ণ বেআইনি নির্মাণের দায়ে এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার কার্যালয়ে আছড়ে পড়ল প্রশাসনের বুলডোজার। শনিবার কাকভোরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হতেই রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
কেন নোটিসের জবাব দেননি অভিষেক? প্রশাসনের অ্যাকশন মোড
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩০ জুন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমতলার এই কার্যালয়ে প্রথম আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছিল। পাঁচতলা এই ভবনের বৈধ প্ল্যান ও জমির মালিকানার নথি নিয়ে গত ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসনের দফতরে সাংসদ বা তাঁর প্রতিনিধিদের তলব করা হয়েছিল। এরপর ৭ জুলাই আরও একটি নোটিস কার্যালয়ের দেওয়ালে সেঁটে দেওয়া হয়। কিন্তু সাংসদ বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এই নোটিসের কোনো প্রত্যুত্তর দেওয়া হয়নি।
পরপর দু’বার নোটিসে সাড়া না দেওয়ায় শনিবার সকাল থেকেই ‘অ্যাকশন মোডে’ চলে যায় প্রশাসন। যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিষ্ণুপুর পুলিশ জেলার উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকা গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে ফেলে। মোতায়েন করা হয় দমকল বাহিনীও। বেলা বাড়তেই এলাকায় এন্ট্রি নেয় ৩টি পেল্লাই বুলডোজার।
তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকল পুলিশ, ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ কানেকশন
কার্যালয়ের গেটের তালা ভেঙে প্রথমে ভেতরে প্রবেশ করেন প্রশাসনিক আধিকারিক ও পুলিশ কর্মীরা। এরপরই বুলডোজারের ধাক্কায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়তে থাকে পাঁচতলা কার্যালয়ের একাংশ। উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের একাংশও ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ।
প্রশাসনের নোটিসে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, যে বিতর্কিত জমির ওপর এই বিশাল কার্যালয়টি দাঁড়িয়ে ছিল, তা মূলত ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ (Leaps and Bounds) সংস্থার নামে রেজিস্ট্রি করা। নথিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। কিন্তু বাণিজ্যিক বা প্রাতিষ্ঠানিক এই পাঁচতলা ভবন তৈরির জন্য পুরসভা বা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো বৈধ বিল্ডিং প্ল্যান বা নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) নেওয়া হয়নি।
[আমতলা কার্যালয় উচ্ছেদ অভিযানের টাইমলাইন]
* ৩০ জুন: জেলা প্রশাসনের প্রথম নোটিস প্রেরণ।
* ৭ জুলাই: কার্যালয়ের দেওয়ালে দ্বিতীয় নোটিস সাঁটানো।
* ১৫ জুলাই: শুনানির দিন ধার্য থাকলেও অভিষেকের অনুপস্থিতি।
* ১৮ জুলাই (শনিবার ভোর): পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্বারা এলাকা ঘেরাও।
* ১৮ জুলাই (সকাল ১০টা): ৩টি বুলডোজার দিয়ে ভবন ভাঙার কাজ শুরু।
“বিপদের খুঁটি উৎখাত হলো”, বিজেপির উল্লাস
অভিষেকের কার্যালয়ে বুলডোজার চলতেই আমতলা মোড়ে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। চলে লাগাতার ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান। মিষ্টি বিতরণও করতে দেখা যায় গেরুয়া শিবিরের কর্মীদের।
বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, “এই কার্যালয় ছিল শাহজাহান, জাহাঙ্গিরের মতো গুন্ডাদের ঘাঁটি। সাধারণ মানুষের উপর যত অত্যাচার চলেছে, তার সব পরিকল্পনা এইখান থেকেই হতো। আজ বিপত্তারিণী পুজোতেই এই বিপদের খুঁটি রাজ্য থেকে উৎখাত হয়ে গেল।”
ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অগ্নিশ্বর নস্কর সংবাদমাধ্যমকে জানান, “সম্পূর্ণ অবৈধ জায়গার ওপর গায়ের জোরে এই কার্যালয়টি নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি আদৌ ওঁদের নিজস্ব জায়গা কি না, তা নিয়েই সন্দেহ আছে। জবরদখল করা জমিতে এই প্রাসাদ তৈরি হয়েছিল। আইন মেনে প্রশাসন আজ সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

এক নজরে আমতলার বুলডোজার অ্যাকশন:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিবরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি |
| টার্গেট বিল্ডিং | অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার পাঁচতলা কার্যালয়। |
| জমির মালিকানা | লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস (অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত)। |
| অভিযোগের ধরণ | কোনো বৈধ বিল্ডিং প্ল্যান ও নথিপত্র ছাড়া বেআইনি নির্মাণ। |
| প্রশাসনিক ব্যবস্থা | ৩টি বুলডোজার দিয়ে ভবন ভাঙার কাজ চলছে। |
| আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি | বিষ্ণুপুর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা বলয়। |
পশ্চিমবঙ্গের বুকে কোনো হেভিওয়েট বিরোধী বা শাসক দলের শীর্ষ নেতার কার্যালয় এভাবে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা সাম্প্রতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। এই ঘটনাটি ডায়মন্ড হারবার তথা সমগ্র দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৃণমূল শিবিরের জন্য একটি অত্যন্ত বড় ধাক্কা ও অশনি সংকেত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই উচ্ছেদ অভিযানের পর তৃণমূল কংগ্রেস আইনি পথে আদালতের দ্বারস্থ হয় নাকি আমতলার রাজপথে কোনো বড় আন্দোলনের ডাক দেয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে সবার।






