Argentina vs Spain: কুস্তি নাকি ফুটবল? আর্জেন্টিনার ‘আগ্রাসী’ মেজাজ নিয়ে ফাইনালের আগে রেফারিকে কড়া আর্জি স্পেনের লাপোর্তের

source : আনন্দবাজার
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার খেলা দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন বহু ফুটবলপ্রেমী। লিয়োনেল মেসির সতীর্থদের একাংশকে দেখে মনে হচ্ছিল, তাঁরা বুঝি ফুটবল নয়, মাঠের মধ্যে কুস্তি লড়তে নেমেছেন! নাহুয়েল মোলিনাদের এই অতিরিক্ত শারীরিক ফুটবল ফাইনালের আগে বড়সড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিপক্ষ স্পেন শিবিরের কাছে। আর এই আবহে ফাইনাল ম্যাচের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিলেন স্পেনের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার আয়মেরিক লাপোর্তে।
“আর্জেন্টিনার খেলা দেখে আমরা অবাক”— লাপোর্তে
স্প্যানিশ নামী ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’ (Marca)-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে লাপোর্তে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আর্জেন্টিনার অতি-আগ্রাসী ফুটবল তাদের কিছুটা হলেও ভাবিয়ে তুলেছে। ফাইনালে যাতে এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য রেফারির কড়া নজরদারি দাবি করেছেন তিনি।
লাপোর্তে বলেন—
“রেফারি তাঁর দায়িত্ব ঠিক মতো পালন করলে, ফুটবলারদের আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে আমার কোনও আপত্তি নেই। এটা ঠিক, সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোয় আমরা এমন কিছু জিনিস দেখেছি, যেগুলো আমাদের সত্যিই অবাক করেছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার খেলা। ওরা ট্যাকল করার নামে এমন কিছু করে, যেগুলো এই ধরনের প্রতিযোগিতায় করতে দেওয়া উচিত নয়।”
কড়া ট্যাকল ও ফুটবলের ছন্দপতন
লাপোর্তের মতে, বারবার অন্যায্য ও কড়া ট্যাকল ফুটবলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও গতিকে রুদ্ধ করে দেয়। এটি খেলোয়াড়দের মধ্যেও অপ্রয়োজনীয় মানসিক উত্তেজনা তৈরি করে, যা পরে বড় অশান্তির রূপ নিতে পারে।
তিনি আরও যোগ করেন, “এই ধরনের ট্যাকল বিরক্তি বাড়ায়। মেজাজ ঠিক রাখাও অনেক সময় সম্ভব হয় না। এই ধরনের পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করা রেফারির অন্যতম দায়িত্ব। একজন বা দু’জন ফুটবলারও যদি ওরকম শারীরিক ফুটবল খেলে, তাতে ম্যাচের মেজাজ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।”
স্পেন যে কোনো অবস্থাতেই নিজেদের ফুটবল খেলার ধরন বদলাবে না, তা পরিষ্কার করে লাপোর্তে জানান, “বিশ্বকাপের শুরু থেকেই আমরা মার্জিত, পরিচ্ছন্ন ফুটবল খেলছি। প্রতিপক্ষকে ইচ্ছাকৃত আঘাত করার লক্ষ্য আমাদের নেই। তবে পুরো বিষয়টা নির্ভর করবে রেফারির ওপর।”
[বিশ্বকাপ ফাইনাল ২০২৬: ম্যাচ ডিটেইলস]
* দলদ্বয়: আর্জেন্টিনা বনাম স্পেন।
* ফাইনালের রেফারি: স্লাভকো ভিনচিচ (Slavko Vincic)।
* স্পেনের মূল শক্তি: মার্জিত ও পরিচ্ছন্ন পাসিং ফুটবল।
* স্পেনের প্রধান উদ্বেগ: আর্জেন্টিনার হাই-প্রেস ও আগ্রাসী ফাউল।
মেসিকে সম্মান জানিয়েই ট্রফি জয়ের হুঙ্কার
আর্জেন্টিনার ডিফেন্স ও মিডফিল্ডের আচরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও, অধিনায়ক লিওনেল মেসি সম্পর্কে নিজের গভীর শ্রদ্ধার কথা লুকাতে পারেননি লাপোর্তে। ৩৯ বছর বয়সী মেসিকে বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালীন সেরা হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, “মেসি কিংবদন্তি। আমি যখন ছোট, তখন থেকেই ও কিংবদন্তি। আমরা মেসির খেলার প্রায় সব ভিডিও দেখেছি। অসাধারণ ফুটবলার। তবে এই মুহূর্তে আশা করছি, ফাইনালটা মেসির নয়, আমাদেরই হবে।”
বিশ্বকাপের শুরুতে অনেকেই স্পেনকে নিয়ে বড় বাজি ধরেননি। কিন্তু দলের অন্দরের আত্মবিশ্বাসই আজ তাদের ফাইনালে এনে দাঁড় করিয়েছে। লাপোর্তে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ফাইনালে ওঠার পরও যদি তাঁরা বিশ্বজয় করতে না পারেন, তবে তা হবে অত্যন্ত হতাশাজনক। তাই মাঠে ফুটবলকে টিকিয়ে রেখেই আর্জেন্টিনাকে বধ করতে চায় ‘লা রোজা’রা।
এক নজরে আর্জেন্টিনা বনাম স্পেন ফাইনাল আবহ:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | টিম স্পেন ও লাপোর্তের অবস্থান |
| মূল ভীতি | আর্জেন্টিনার অতিরিক্ত কড়া ফাউল ও শারীরিক ফুটবল। |
| রেফারিকে বার্তা | স্লাভকো ভিনচিচ যেন শুরু থেকেই কার্ডের মাধ্যমে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখেন। |
| স্পেনের রণনীতি | নিজস্ব পরিচ্ছন্ন ও ছন্দময় ফুটবলেই অটল থাকা। |
| মেসি ফ্যাক্টর | মেসির প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেও ফাইনাল জেতার বিষয়ে ১০০% আত্মবিশ্বাসী। |
বিশ্বকাপের ফাইনালে সব সময়ই স্নায়ুর চাপ চরমে থাকে। সেখানে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারদের কড়া ট্যাকল বনাম স্পেনের শৈল্পিক মাঝমাঠের লড়াই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা থ্রিলার হতে চলেছে। এখন দেখার, রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ লাপোর্তের এই আর্জিতে কতটা সাড়া দেন এবং মাঠের অন্দরে ‘শারীরিক ফুটবল’ রুখে আসল নান্দনিক ফুটবলকে কতটা প্রাধান্য দিতে পারেন।






