Abhishek Banerjee Threatens BJP: ‘প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে!’ আমতলার কার্যালয় ভাঙতেই বিজেপিকে তীব্র হুঁশিয়ারি অভিষেকের

source : সংবাদ প্রতিদিন
শনিবার সকালেই ৩টি বুলডোজার দিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশাল পাঁচতলা কার্যালয়টি গুঁড়িয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। ভোট বাক্সে হারের পর এবং একের পর এক মামলায় জর্জরিত থাকার মাঝেই এই ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ তৃণমূল শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছিল। তবে এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কালীঘাটে জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে স্বমহিমায় গর্জে উঠলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের দম্ভ বজায় রেখে নাম না করে বিজেপি ও প্রশাসনকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।
“একত্রিশে সরকার বদলালে বিজেপির একটাও অফিস থাকবে না”
আমতলার কার্যালয় তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার পর এবং ভেতরে স্থানীয়দের একাংশের হাতুড়ি পেটা ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিষেক। শনিবার বিকেলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, এটি পুরোপুরি বিরোধী দল বিজেপির প্রতিহিংসার রাজনীতি।
বিজেপিকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন—
“শুধু জেলা প্রশাসনের লোক নয়, বিজেপি নেতা-কর্মীরা গেরুয়া উত্তরীয় দিয়ে মুখে ঢেকে পার্টি অফিসে তাণ্ডব করেছে। সমস্ত ভিডিও নিয়ে হাইকোর্টে যাব। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত যাব। ভিডিওতে যাদের দেখা গেছে, কেউ বাঁচবেন না। যে আইনে পার্টি অফিস ভাঙা হয়েছে, সরকার বদলালে বিজেপির একটাও অফিস থাকবে না।”
“আমাদের কাছে সমস্ত বৈধ প্ল্যান আছে”— দাবি অভিষেকের
প্রশাসনের তরফ থেকে অভিযোগ আনা হয়েছিল যে রাতারাতি একটি বেকারি পুড়িয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে, কোনো অনুমোদিত সরকারি প্ল্যান ছাড়াই এই বিশাল ভবনটি তৈরি করা হয়েছিল। লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের জমিতে গড়ে ওঠা এই বেআইনি নির্মাণ নিয়ে দু’বার নোটিস দিলেও সাংসদ কোনো জবাব দেননি বলে দাবি করা হয়।
এই প্রসঙ্গে নিজের ও দলের অবস্থান স্পষ্ট করে অভিষেক বলেন, “ওই পার্টি অফিস সরকারি জমিতে নয়। সমস্ত নথি আছে। প্ল্যানও রয়েছে। সব কোর্টে দেখাব।” তিনি আরও যোগ করেন, “নোটিসের নির্ধারিত দিনে ১৫ তারিখ আমাদের প্রতিনিধিরা গেছিল প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু দু’দিনের মধ্যে সব গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্ষমতা প্রদর্শন করতে গিয়েই এই বুলডোজার মডেল আনা হয়েছে, যার পেছনে বিজেপির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদত আছে।”
[অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা রণকৌশল]
* আইনি পদক্ষেপ: ভিডিও ফুটেজ সহ কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি।
* রাজনৈতিক অবস্থান: ২০৩১ সালে সরকার বদলের পর একই কায়দায় বদলা নেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি।
* মালিকানার দাবি: জমিটি ব্যক্তিগত (সরকারি নয়) এবং বিল্ডিংয়ের বৈধ নকশা রয়েছে।
পুরনো স্বভাবসিদ্ধ হুমকি-রাজনীতি, কটাক্ষ বিরোধীদের
অভিষেকের এই সাংবাদিক বৈঠকের পর পালটা সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবিরও। বিরোধীদের দাবি, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর রাজ্যের মানুষ যখন তৃণমূল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তখনও অভিষেকের স্বভাবসিদ্ধ দম্ভ আর প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়ার রাজনীতি কমেনি। ২০৩১ সালে জিতে সরকারে ফেরার স্বপ্নকে ‘সোনার পাথরবাটি’ বলে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেতারা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, একসময়ে ক্ষমতায় থাকাকালীন আরামবাগের সাংসদ মিতালি বাগের ওপর হামলার ঘটনার পর যেভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্য জনসভায় দাঁড়িয়ে তৎকালীন বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে ‘গাড়ির মাথায় ডিজে বাজানো’-র হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, আজ নিজেরা বিরোধী আসনে চলে যাওয়ার পরেও ঠিক একই ঝাঁঝালো এবং আক্রমণাত্মক সুর বজায় রাখলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
এক নজরে আমতলা বিতর্ক ও অভিষেকের প্রতিক্রিয়া:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি ও অবস্থান |
| মূল ঘটনা | আমতলার পাঁচতলা সাংসদ কার্যালয়ে ৩টি বুলডোজার চালনা। |
| অভিষেকের পাল্টা অভিযোগ | মুখে গেরুয়া উত্তরীয় বেঁধে বিজেপি কর্মীদের কার্যালয়ে তাণ্ডব। |
| আইনি প্রতিরোধ | সমস্ত নথিপত্র ও প্ল্যান নিয়ে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার ঘোষণা। |
| রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি | ২০৩১ সালে একই আইনে বিজেপির কার্যালয় ভাঙার প্রচ্ছন্ন হুমকি। |
| বিরোধীদের বক্তব্য | ভোট বাক্সে প্রত্যাখ্যাত হয়েও ক্ষমতা ও হুমকির রাজনীতি বজায় রাখছেন। |
আমতলার বুলডোজার অ্যাকশন এবং তার জবাবে অভিষেকের এই ‘সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া’-র হুঁশিয়ারি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক পারদ আরও চড়তে চলেছে। একদিকে প্রশাসন যখন বেআইনি নির্মাণের দায়ে অনড়, অন্যদিকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত লড়াই টেনে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিচ্ছেন অভিষেক। এখন দেখার, কলকাতা হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টের দরজায় এই ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ কতটা আইনি বৈধতা পায়।






