Visva-Bharati SFI ABVP Clash: শান্তিনিকেতনে সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে বামেদের অনশনে হামলার অভিযোগ! উত্তপ্ত বিশ্বভারতী, আসরে পুলিশ

source : Sangbad Pratidin
দিল্লি থেকে এবার শান্তিনিকেতন। নিট (NEET) কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে অনশনরত শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে শনিবার সকালেই দিল্লি পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকেই দেশজুড়ে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। সেই প্রতিবাদের ঢেউ এবার এসে আছড়ে পড়ল কবিগুরুর শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। ওয়াংচুকের সমর্থনে বামেদের প্রতিবাদী অনশন মঞ্চে গেরুয়া শিবিরের হামলার অভিযোগ এবং তার পালটা তরজায় শনিবার কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর।
. রবীন্দ্রসঙ্গীত ও প্রতিবাদের মাঝে আচমকা হামলা!
শনিবার সকাল থেকেই বিশ্বভারতীর আনন্দ পাঠশালা সংলগ্ন এলাকায় সোনম ওয়াংচুকের দাবির সমর্থনে এবং নিট দুর্নীতির বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার এক প্রতীকী অনশনের ডাক দিয়েছিল এসএফআই (SFI) সহ বেশ কয়েকজন সাধারণ পড়ুয়া। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে গিটার বাজিয়ে, রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়ে এবং ছবি আঁকার মাধ্যমে নিজেদের অভিনব প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন আন্দোলনকারীরা।
অভিযোগ, প্রতিবাদ যখন মধ্যগগনে, ঠিক তখনই অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)-র বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রী ও কর্মী সেখানে এসে জোর করে অনশন তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। অনশন মঞ্চের পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। এর জেরে বেশ কিছুক্ষণের জন্য শান্তিনিকেতনের রাস্তায় যান চলাচল সম্পূর্ণ থমকে যায়।
“শিক্ষাবিরোধী আরএসএস”— তোপ বামেদের
ঘটনার পর ক্ষোভ উগরে দিয়ে অনশনকারী ছাত্র অনুরাগ নায়েক বলেন, “আমরা শান্তিনিকেতনের সংস্কৃতি মেনে শান্তিপূর্ণভাবে অনশন করছিলাম। হঠাৎ এবিভিপির কর্মীরা এসে আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং আন্দোলন ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করে।”
এসএফআই-এর বীরভূম জেলা সম্পাদক সৌভিক দাস বকসি কড়া ভাষায় আরএসএস ও বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন—
“বিজেপি বহিরাগত সমাজবিরোধীদের জুটিয়ে এনে বিশ্বভারতীর ছাত্রীদের ওপর বর্বরোচিত আক্রমণ চালিয়েছে, গালিগালাজ ও শারীরিক হেনস্থা করেছে। নিট দুর্নীতি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করা সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে সাধারণ অনশনকারীদের ওপর আক্রমণ করে ওরা প্রমাণ করল যে ওরা শিক্ষা, চাকরি ও কর্মসংস্থানের দাবির বিরোধী। ওরা দেশের ছাত্রসমাজের প্রধান শত্রু।”
[বিশ্বভারতী ছাত্র সংঘর্ষের মূল কেন্দ্রবিন্দু]
* আন্দোলনের কারণ: দিল্লিতে সোনম ওয়াংচুকের অনশন ভঙ্গের প্রতিবাদ ও নিট কেলেঙ্কারির বিচার।
* ঘটনাস্থল: আনন্দ পাঠশালা সংলগ্ন এলাকা, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়।
* বামেদের অভিযোগ: এবিভিপি বহিরাগতদের এনে ছাত্রীদের শারীরিক হেনস্থা ও ব্যানার ছিঁড়েছে।
* গেরুয়া শিবিরের পালটা দাবি: চিনের দালালি ও দেশদ্রোহী স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল ক্যাম্পাসে।
“রবীন্দ্রনাথের মাটিতে দেশদ্রোহীদের ঠাঁই নেই”— পালটা সুর এবিভিপির
অন্যদিকে, হামলার ও মারধরের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে এবিভিপি নেতৃত্ব। এবিভিপির বোলপুর নগর সম্পাদক সুরেশ লোহার পালটা আক্রমণ শানিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এরা সাধারণ ছাত্র বলে নিজেদের পরিচয় দিলেও আসলে উগ্র বামপন্থী। এরা আন্দোলনের নামে ক্যাম্পাসের ভেতরে দেশবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিল। বাম ছাত্র সংগঠন ‘চিনের দালালি’ করছে। আমরা কোনো মারধর করিনি, আমরা কেবল এই দেশদ্রোহী মানসিকতার তীব্র প্রতিবাদ করেছি। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের পুণ্য মাটিতে কোনো দেশদ্রোহীদের ঠাঁই হতে পারে না।”
ক্যাম্পাসের এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির খবর পাওয়া মাত্রই শান্তিনিকেতন থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হয়। পুলিশ এসে দুই ছাত্র সংগঠনকে দু’দিকে সরিয়ে দেয় এবং ব্যারিকেড তৈরি করে পরিস্থিতি সামাল দেয়। বর্তমানে ক্যাম্পাসে থমথমে ভাব বজায় রয়েছে এবং নতুন করে যাতে কোনো অশান্তি না ঘটে, তার জন্য পুলিশি টহলদারি জারি রাখা হয়েছে।
এক নজরে বিশ্বভারতী ছাত্র সংঘর্ষের খতিয়ান:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বাম বনাম গেরুয়া শিবিরের অবস্থান |
| আন্দোলনের রূপ | ২৪ ঘণ্টার প্রতীকী সাংস্কৃতিক অনশন (এসএফআই)। |
| অভিযোগের ধরণ | পোস্টার ছেঁড়া, ধস্তাধস্তি এবং ছাত্রীদের ওপর শারীরিক আক্রমণ। |
| এবিভিপির মূল দাবি | বামেরা ক্যাম্পাসে ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে। |
| আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি | শান্তিনিকেতন থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন। |
| বর্তমান স্থিতি | উত্তেজনা বজায় থাকলেও পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। |
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের গরিমা ও শান্তিনিকেতনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বারবার রাজনৈতিক ছাত্র সংঘর্ষের জেরে কালিমালিপ্ত হচ্ছে। সোনম ওয়াংচুকের মতো একজন জাতীয় স্তরের শিক্ষাবিদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যেভাবে শিক্ষা প্রাঙ্গণ রণক্ষেত্রে পরিণত হলো, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তদন্ত করে দোষী বহিরাগত বা হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটাই দেখার।






