সিকিমে নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ভয়াবহ ধস! প্রাণ হারালেন ডুয়ার্সের ১১ জন শ্রমিক, শোকস্তব্ধ জলপাইগুড়ি, সমবেদনা মুখ্যমন্ত্রীর

source : Sangbad Pratidin
সিকিমের পাহাড়ি রাস্তায় প্রবল দুর্যোগ ও অতিভারী বৃষ্টির মাঝে ঘটে গেল এক হাড়হিম করা মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। পূর্ব সিকিমের পকিয়ং জেলার নামচি ও রংপো সংলগ্ন মামরিং এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে হঠাৎই বিরাট ধস নেমে আটকে পড়েন বহু শ্রমিক। সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে এখনও পর্যন্ত ১১ জন শ্রমিকের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মর্মান্তিক বিষয় হলো, নিহতদের সকলেই পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার বাসিন্দা, যারা রুটি-রুজির তাগিদে সিকিমে কাজ করতে গিয়েছিলেন।
ডুয়ার্সের চা বাগান থেকে সিকিমের সুড়ঙ্গে, নিভে গেল ১১টি তাজা প্রাণ
দুর্ঘটনার খবর জলপাইগুড়ি জেলায় পৌঁছাতেই শোকের ছায়ায় ঢেকে গিয়েছে ডুয়ার্সের মেটেলি, নাগরাকাটা ও বানারহাট এলাকা। একসময় স্থানীয় চা বাগানে কাজ করলেও বাগান রুগ্ন হওয়া ও নিয়মিত বেতন না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে সিকিমের এই ঝুঁকিপূর্ণ সুড়ঙ্গ নির্মাণ প্রকল্পে শ্রমিকের কাজে যোগ দিয়েছিলেন তাঁরা।
[দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো শ্রমিকদের তালিকা]
* মেটেলি ব্লক (কিলকোট চা বাগান): গ্রাবিয়েল টিজ্ঞা, শিবা মুডা, বিকেশ্বর ওঁরাও।
* মেটেলি ব্লক (ইনডং ও নাগেশ্বরী চা বাগান): শ্যাম ওঁরাও এবং অমিতলাল গোর।
* নাগরাকাটা ব্লক (গ্রাসমোর, সুখানি ও শুলকাপাড়া): আনন্দ টোপ্পো, অর্জুন সাওতাল, বালো ওঁরাও।
* বানারহাট ব্লক (তেলিপাড়া চা বাগান): আদেশ ওঁরাও।
নিহতদের পরিবারে এখন শুধুই কান্নার রোল। আরও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রণকৌশলগত গুরুত্ব ও ধসের নেপথ্যের কারণ
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তিস্তা স্টেজে-৪ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাছাকাছি ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকায়। তৈরি হওয়া সুড়ঙ্গটি প্রায় ২৫০ মিটার দীর্ঘ এবং এটি সিকিমের প্রথম ডাবল-লেন টানেল হতে যাচ্ছিল।
এই সুড়ঙ্গটি সম্পূর্ণ হলে গ্যাংটকমুখী পর্যটকদের পাশাপাশি ভারত-চীন সীমান্তের কৌশলগত নাথু-লা পাসগামী ভারতীয় সেনাবাহিনীর সামরিক যানবাহন চলাচলে অত্যন্ত সুবিধা হতো। কিন্তু সিকিমজুড়ে জারি থাকা ‘লাল সতর্কতা’ ও ভারী বৃষ্টির জেরেই সোমবার দুপুরে সুড়ঙ্গের ওপরের অংশের বিশাল পাহাড় ভেঙে ধসে পড়ে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে।
ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে রাজ্য সরকার, শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর
ঘটনার পর থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও সেনাবাহিনী দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। প্রবল বৃষ্টি ও ধসের আশঙ্কার মধ্যেও সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকা বাকি শ্রমিকদের বের করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।
সিকিমের এই সুড়ঙ্গ দুর্ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিহত শ্রমিকদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং সিকিম প্রশাসনের সাথে সমন্বয় বজায় রাখতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আধিকারিকদের একটি বিশেষ দলকে দ্রুত সিকিম পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এক নজরে সিকিম সুড়ঙ্গ দুর্ঘটনা:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিবরণ ও তথ্য |
| দুর্ঘটনার স্থান | নামচি ও রংপো সংলগ্ন মামরিং, পূর্ব সিকিম। |
| হতাহতের সংখ্যা | ১১ জনের মৃত্যু সুনিশ্চিত, একাধিক নিখোঁজ। |
| নিহতদের পরিচয় | ডুয়ার্স, জলপাইগুড়ি (পশ্চিমবঙ্গ)। |
| প্রকল্পের ধরণ | ২৫০ মিটার দীর্ঘ ডাবল-লেন টানেল (তিস্তা স্টেজ-৪ প্রকল্প সংলগ্ন)। |
সীমান্ত সুরক্ষার সুবিধার্থে তৈরি হতে যাওয়া সুড়ঙ্গটি শেষ হওয়ার আগেই কেড়ে নিল বাংলার ১১ জন খেটে খাওয়া মানুষের প্রাণ। সিকিমে নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধারে যেমন দ্রুততা দেখানো হচ্ছে, তেমনই শোকস্তব্ধ এই পরিবারগুলির পাশে প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করা এখন অন্যতম অগ্রাধিকার।






