Assam Flood Crisis 2026: নাগাল্যান্ডে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে অসম ভেসেছে জলে! শিবসাগরে ৫০ বছরের রেকর্ড ভাঙা বন্যা, উদ্ধার ২১ জনের দেহ, বিপন্ন ৫.৫ লক্ষ মানুষ

source : সংবাদ প্রতিদিন
যতদূর চোখ যাচ্ছে, কেবলই ঘোলা জলের সমুদ্র। বসতবাড়ি, গ্রামীণ রাস্তাঘাট, কৃষিজমি থেকে শুরু করে ছোট শহর— সবই এখন জলের গভীরে। প্রতিবেশী রাজ্য নাগাল্যান্ডে আচমকা মেঘভাঙা বৃষ্টির খেসারত দিতে হচ্ছে অসমের লাখ লাখ মানুষকে। পূর্ব ও মধ্য অসমের একাধিক জেলায় পরিস্থিতি এমন আকার ধারণ করেছে যা গত অর্ধশতকে দেখেনি রাজ্যবাসী।
নাগাল্যান্ডের মেঘভাঙা বৃষ্টি ও ৫০ বছরের চরম জলস্তর
পরিস্থিতির ভয়াবহতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন—
“নাগাল্যান্ডে অতিরিক্ত মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে শিবসাগর, চরাইদেও ও জোরহাট জেলায় যে বন্যা দেখা দিয়েছে তা সম্পূর্ণ ‘অভাবনীয়’। গত ৫০ বছরেও এই অঞ্চলের জলস্তর এত উঁচুতে ওঠেনি। এটি সাম্প্রতিক ইতিহাসের সর্বোচ্চ বিপর্যয়।”
ব্রহ্মপুত্র নদের অন্যতম দুই প্রধান শাখা নদী— দিখৌ (Dikhou) এবং দেশং (Disang)-এর জলস্তর হঠাৎ লাফিয়ে বাড়ায় নিমেষের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। আমগুড়ি, টিওক, তিতাবড়ের মতো যেসব ছোট শহরে আগে কখনও জল জমেনি, সেখানকার বাসিন্দারাও এখন ঘরবাড়ির চালে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
একদিনেই উদ্ধার ২১ মৃতদেহ, উদ্ধারকাজে বাধার প্রাচীর
অসম রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (ASDMA) জানিয়েছে, শিবসাগর ও জোরহাটের দুর্গম এলাকাগুলি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার একদিনেই বানভাসি অঞ্চলগুলি থেকে ২১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা প্রাণহানির গভীরতাকে স্পষ্ট করে। জলবন্দি লাখ লাখ মানুষকে নিরাপদে বের করে আনাটাই এখন রাজ্য প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ বেশিরভাগ সংযোগকারী রাস্তা ধসে গেছে অথবা জলের তলায় তলিয়ে গেছে।
[অসম বন্যার বর্তমান ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান]
* মোট ক্ষতিগ্রস্ত জেলা: ১৬টি।
* প্লাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ: ৫,৫০,০০০+ (সাড়ে ৫ লক্ষেরও বেশি)।
* আশ্রয়শিবিরে স্থানান্তরিত: ১০,০০০+ মানুষ।
* উদ্ধারকাজে সেনার ভূমিকা: ৫০০-র বেশি মানুষকে নিরাপদে বের করে আনা হয়েছে।
আকাশে ড্রোন ও সেনা হেলিকপ্টার, ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা
স্থলপথে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় ভারতীয় সেনাবাহিনী (Indian Army), এনডিআরএফ (NDRF) ও এসডিআরএফ (SDRF) যৌথভাবে নামানো হয়েছে।
আকাশপথে সেনা হেলিকপ্টার ও অত্যাধুনিক ড্রোনের সাহায্যে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো হয়ে থাকা গ্রামগুলিতে শুকনো খাবার, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ফেলছে রাজ্য সরকার। এখনও পর্যন্ত ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে রিলিফ ক্যাম্পে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।
এক নজরে অসমের বন্যা পরিস্থিতি ২০২৬:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিবরণ ও সাম্প্রতিক তথ্য |
| সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা | শিবসাগর, চরাইদেও, জোরহাট, কার্বি আংলং। |
| মূল কারণ | নাগাল্যান্ডে মেঘভাঙা বৃষ্টি ও দিখৌ-দেশং নদীর জলবৃদ্ধি। |
| প্রাণহানি | মঙ্গলবার একদিনেই ২১ জনের মৃত্যু সুনিশ্চিত। |
| উদ্ধারকারী দল | ভারতীয় সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ ও ড্রোন স্কোয়াড। |
নাগাল্যান্ড ও পূর্ব অসমের এই অপ্রত্যাশিত জলচ্ছ্বাস প্রশাসনিক প্রস্তুতিকেও বড়সড় পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস বজায় থাকায় আগামী কয়েকদিন উদ্ধারকাজ ও জল সরানোর প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল রূপ নিতে চলেছে।






