ককরোচদের পর এবার ‘আরএইচএ’ ও ‘ই-২০ জনতা পার্টি’! শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পরই সোশাল মিডিয়ায় ডিজিটাল প্রতিবাদের প্লাবন, কোটি কোটি তরুণ যুক্ত আন্দোলনের জোয়ারে

ডিজিটাল দুনিয়ার গণআন্দোলন আজ রাজপথের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখছে। নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে তৈরি সামাজিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নজিরবিহীন জয়ের পর এবার ভারতের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলিতে একের পর এক সামাজিক ও প্রশাসনিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে জনমুখী স্বতঃস্ফূর্ত প্ল্যাটফর্ম। সংরক্ষণ ও জ্বালানি নীতি নিয়ে আওয়াজ তুলে ব্যাপক সাড়া ফেলছে ‘আরএইচএ’ (RHA) ও ‘ই-২০ জনতা পার্টি’।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’র উত্থান ও সাফল্যের পটভূমি
সোশাল মিডিয়ায় সৃষ্টিকর্তা অভিজিৎ দীপকের ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে গড়ে তোলা অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গাফিলতি ও নিট প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে এক ছাতার তলায় এনেছিল। তীব্র জনরোষের জেরে সরকারের তরফে পদক্ষেপ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হওয়ায় এই ধরনের সোশাল মিডিয়া ক্যাম্পেইনের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইনস্টাগ্রামে তোলপাড় ফেলল ‘রিজার্ভেশন হটাও আন্দোলন’ (RHA)
CJP-র সাফল্যের পথ ধরে ইনস্টাগ্রামে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘রিজার্ভেশন হটাও আন্দোলন’ (RHA)। খুব অল্প সময়ের মধ্যে পেজটির অনুগামী (Followers) সংখ্যা ৫.৬ মিলিয়ন (৫৬ লক্ষ) অতিক্রম করেছে।
- পেজের বায়ো ও বার্তা: ১০০টিরও বেশি পোস্ট করা এই অ্যাকাউন্টটি কেবল ‘ভারতীয় সেনা’-র অফিশিয়াল পেজকে ফলো করে। প্রোফাইলে বাবা সাহেব ড. বি আর আম্বেদকোরের বিখ্যাত বার্তা— “শিক্ষিত হও, সংগঠিত হও, আন্দোলন করো” উল্লেখ রয়েছে।
- মূল স্লোগান: হিন্দিতে লেখা— ‘সারি জাতি এক সমান, মেরা বস ইয়ে দেশ মহান’ (অর্থাৎ কোনো জাতপাত নয়, দেশটাই মহান)।
- দাবি ও উদ্দেশ্য: সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক হিসেবে দাবি করা এই পেজটির প্রতিষ্ঠাতা কে তা গোপনেই রয়েছে। তবে সোশাল বার্তায় বলা হয়েছে, প্রচলিত জাতিভিত্তিক সংরক্ষণ মেধার অপমান করে এবং পড়াশোনার গুণগত মান হ্রাস করে। ফলে জাতপাতের বদলে মেধার ভিত্তিতে সমসুযোগের সওয়াল করছে RHA।
[ইনস্টাগ্রামে ‘RHA’ এবং ‘ই-২০’ পেজের মূল পরিসংখ্যান]
* RHA (রিজার্ভেশন হটাও আন্দোলন) ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার্স: ৫.৬ মিলিয়ন+
* RHA-র মূল আদর্শ: মেধাভিত্তিক সুযোগ ও জাতিভেদ বিলোপ।
* ই-২০ জনতা পার্টি (ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল প্রতিবাদ) ফলোয়ার্স: এক্স হ্যান্ডেলে ৪২,৫০০+ এবং ইনস্টাগ্রামে ১,২৫,০০০+
সাধারণ মানুষের পেট্রোল-যন্ত্রণা ও ‘ই-২০ জনতা পার্টি’-র জন্ম
কেবল শিক্ষা ব্যবস্থা বা সংরক্ষণ নয়, নিত্যদিনের জীবনের সমস্যা নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে গড়ে উঠেছে প্ল্যাটফর্ম। দেশে ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল (E20 Fuel)-এর দরুন যানবাহনের ইঞ্জিন নষ্ট হওয়া ও মাইলেজ কমে যাওয়ার যে সুপ্ত ক্ষোভ সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল, তাকে অস্ত্র করে মাঠে নেমেছে ‘ই-২০ জনতা পার্টি’।
এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এই প্ল্যাটফর্মের ফলোয়ার্স দেখতে দেখতে ৪২ হাজার ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। ইনস্টাগ্রামে তাদের ১ লক্ষ ২৫ হাজারের বেশি অনুগামী যুক্ত হয়েছেন এবং এই সংখ্যা প্রতি মুহূর্তে অস্বাভাবিক গতিতে লাফিয়ে বাড়ছে।
এক নজরে সোশাল মিডিয়া প্রতিবাদের নতুন ট্রেন্ড:
| আন্দোলনের নাম | মূল বিষয়বস্তু / ক্ষেত্র | প্রধান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম | অনুগামী / ফলোয়ার্স সংখ্যা |
| ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) | নিট কেলেঙ্কারি ও শিক্ষা সংস্কার | এক্স ও ইনস্টাগ্রাম | লক্ষাধিক (শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফায় সফল) |
| রিজার্ভেশন হটাও আন্দোলন (RHA) | মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন ও সংরক্ষণের বিরোধিতা | ইনস্টাগ্রাম | ৫.৬ মিলিয়ন+ |
| ই-২০ জনতা পার্টি | E20 ইথানল পেট্রোলের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ | এক্স ও ইনস্টাগ্রাম | এক্স: ৪২,৫০০+ / ইন্সটা: ১,২৫,০০০+ |
মুঠোফোনের স্ক্রিনে তৈরি হওয়া এই প্ল্যাটফর্মগুলি কেবল সোশাল মিডিয়া ট্রেন্ডেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এগুলি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তরুণ প্রজন্ম আর প্রচলিত রাজনৈতিক দলের ওপর ভরসা না রেখে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশের নতুন হাতিয়ার খুঁজে পেয়েছে। ‘ককরোচ’দের পথ ধরে তৈরি হওয়া এই আন্দোলনগুলি ভবিষ্যতে দেশীয় নীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।






