কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের মেগা অপারেশন! ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেপ্তার ১ কোটি টাকার ইনামঘোষিত একমাত্র জীবিত মাওবাদী পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরা

মাওবাদী হিংসা নির্মূল করে দেশকে নক্সাল মুক্ত করার অভিযানে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এল সবচেয়ে বড় সাফল্য। গত দু’দশক ধরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে নাগাড়ে ফাঁকি দিয়ে চলা ১ কোটি টাকার ইনামঘোষিত মাওবাদী পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরা অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন। তাঁর গ্রেপ্তারিকে দেশে নিষিদ্ধ মাওবাদী সংগঠনের কফিনে শেষ পেরেক বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
রাত ৯টায় জঙ্গল ঘেরাও: যেভাবে ধরা পড়ল ১ কোটির ইনামী মাওনেতা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই খবর আসছিল যে মাওবাদী শীর্ষনেতা মিসির বেসরা ঝাড়খণ্ডের পারশনাথ পাহাড় সংলগ্ন গভীর জঙ্গলে কয়েকজন সশস্ত্র সঙ্গীকে নিয়ে আত্মগোপন করে আছেন।
খবরের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর সিআরপিএফ (CRPF), গিরিডি ও ধানবাদ থানার পুলিশ যৌথভাবে চিরুনি তল্লাশি অভিযান শুরু করে। মঙ্গলবার রাত ৯টা নাগাদ ধানবাদ-গিরিডি সীমানার জঙ্গল ধরে পালানোর সময় অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নিরাপত্তা বাহিনী তাঁকে ঘেরাও করে। মিসির বেসরার সাথে তাঁর আরো দুই কমান্ডারকেও হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
[অপারেশনের মূল বিবরণ]
* গ্রেপ্তারকৃত শীর্ষনেতা: মিসির বেসরা (ওরফে ভাস্কর / সাগর)।
* পদমর্যাদা: মাওবাদী সংগঠনের পলিটব্যুরো সদস্য।
* ইনামের পরিমাণ: ১ কোটি টাকা।
* অভিযানের এলাকা: ধানবাদ-গিরিডি সীমানা, পারশনাথ পাহাড় অঞ্চল (ঝাড়খণ্ড)।
* যৌথ টিম: সিআরপিএফ (CRPF), গিরিডি পুলিশ ও ধানবাদ পুলিশ।
২০০৯ সালের সেই আদালত চত্বর থেকে পালানোর রুদ্ধশ্বাস ইতিহাস
মাওবাদী সংগঠনের খাতায় ‘ভাস্কর’ ও ‘সাগর’ ছদ্মনামে পরিচিত ৬৬ বছর বয়সি এই নেতার আদি বাড়ি ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার হালরাডিহিতে। ২০০৭ সালে ঝাড়খণ্ডেই প্রথমবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাঁকে।
তবে ২০০৯ সালে বিহারের লখিসরাই জেলা আদালতে এক মামলার হাজিরা দিতে নিয়ে যাওয়ার সময় নাটকীয় মোড় নেয়। আদালত চত্বরেই অতর্কিত হামলা চালায় সশস্ত্র মাওবাদীদের এক বিশাল দল। পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় মিসিরকে। তারপর থেকে গত ১৬-১৭ বছর ধরে অধরা ছিলেন তিনি।
মাওবাদী সংগঠনের মেরুদণ্ড ভেঙে চুরমার
ঝাড়খণ্ড পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিসির বেসরাই ছিলেন নিষিদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী) সংগঠনের পলিটব্যুরোর একমাত্র জীবিত সদস্য যিনি মুক্ত অবস্থায় ছদ্মবেশে দল পরিচালনা করছিলেন। সংগঠনের বাকি শীর্ষ নেতারা হয় বিভিন্ন সময়ে যৌথ বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন, না হয় ইতোমধ্যেই জেলে বন্দি।
মাথার ওপর ১ কোটি টাকার বিশাল পুরস্কার থাকা এই শীর্ষনেতার পতন লাল করিডোরে মাওবাদী ক্যাডারদের মনোবল পুরোপুরি ভেঙে দেবে বলে মনে করছেন সামরিক ও কৌশলগত বিশ্লেষকরা।
এক নজরে মোস্ট ওয়ান্টেড মিসির বেসরা:
| তথ্যক্ষেত্র | বিবরণ |
| আসল নাম | মিসির বেসরা |
| সংগঠনে পরিচিত নাম | ভাস্কর, সাগর |
| বয়স ও স্থায়ী বাসস্থান | ৬৬ বছর, হালরাডিহি (গিরিডি, ঝাড়খণ্ড) |
| সংগঠনের পদ | পলিটব্যুরো সদস্য (সর্বোচ্চ স্তর) |
| মাথার দাম (Bounty) | ₹১ কোটি টাকা |
| গ্রেপ্তারকারী দল | সিআরপিএফ ও ঝাড়খণ্ড পুলিশ |
ঝাড়খণ্ডের জঙ্গল থেকে শীর্ষ পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরার গ্রেপ্তারি কেবল স্থানীয় স্তরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাই নয়, বরং গোটা দেশ থেকে মাওবাদী নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলার প্রক্রিয়ায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।






