১০ মাসে উদ্ধার ৭০০ কোটি টাকার মাদক! রাজস্থানে মেগা অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৩৪টি কারখানা, ধৃত ৮৪ পাচারকারী

রাজ্যে মাদকচক্র ও পাচারকারীদের শিকড় উপড়ে ফেলতে বড়সড় সাফল্য পেল রাজস্থান পুলিশের অ্যান্টি-নারকোটিকস টাস্ক ফোর্স (ANTF)। টানা ১০ মাসের মেগা অভিযানে রাজস্থানজুড়ে উদ্ধার করা হয়েছে ৭০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের মাদকদ্রব্য। মাদক উদ্ধারে এই পরিসংখ্যানকে ‘নজিরবিহীন’ বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা।
১,০০০ কোটির রেকর্ড ছাড়ানোর পূর্বাভাস
এএনটিএফ-এর ইন্সপেক্টর জেনারেল (IG) বিকাশ কুমার জানিয়েছেন, গত বছর এনডিপিএস (NDPS) আইনের আওতায় রাজস্থান পুলিশ প্রায় ৮৫০ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য বাজেয়াপ্ত করেছিল। তবে চলতি বছরের কার্যকারিতা সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দেবে।
আশা করা হচ্ছে, এই বছর মোট উদ্ধার হওয়া মাদকের মূল্য ১,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এর মধ্যে সিংহভাগ, অর্থাৎ প্রায় ৭০০ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার করেছে পুলিশের বিশেষ এই টাস্ক ফোর্স নিজেই।
[রাজস্থান এএনটিএফ अभियाনের মূল পরিসংখ্যান]
* উদ্ধার হওয়া মাদকের মূল্য: ৭০০ কোটি টাকা (গত ১০ মাসে)।
* বাজেয়াপ্ত আফিমের পরিমাণ: ৩৬০ কেজিরও বেশি।
* গুঁড়িয়ে দেওয়া এমডি (MD) কারখানা: ৩৪টি ইউনিট।
* কৃত্রিম মাদক বাজেয়াপ্ত: ১৮৫ কেজিরও বেশি।
* মোট গ্রেপ্তার: ৮৪ জন সন্দেহভাজন পাচারকারী।
আন্তঃরাজ্য রুট চিহ্নিতকরণ ও মোস্ট ওয়ান্টেডদের গ্রেপ্তার
তদন্তকারীরা জানান, এই অভিযানে বিশেষ নজরে ছিল মণিপুর, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও ঝাড়খণ্ডের সাথে যুক্ত আফিম পাচারের মূল রুটগুলি। আন্তঃরাজ্য এই রুটগুলি দিয়ে অবৈধভাবে আফিম ও গাঁজা পাচার চলত। এ পর্যন্ত ৩৬০ কেজিরও বেশি আফিম জব্দ করা হয়েছে।
পাশাপাশি, ৫টি রাজ্যের পুলিশ ও ৫টি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত অপারেশনে মোট ৮৪ জন পাচারকারীকে জালে তোলা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন কুখ্যাত ‘ওয়ান্টেড’ অপরাধী রয়েছে, যারা বছরের পর বছর ধরে নাম-পরিচয় বদলে আত্মগোপন করেছিল।
৩৪টি ‘এমডি’ ড্রাগ কারখানা গুঁড়িয়ে দিল এএনটিএফ
রাজস্থানজুড়ে সিন্থেটিক বা কৃত্রিম মাদক ‘মেফেড্রোন’ (MD) তৈরি ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর কড়া নজরদারি চালিয়েছিল টাস্ক ফোর্স। অভিযানে রাজ্য জুড়ে বেআইনিভাবে মেফেড্রোন তৈরির ৩৪টি কারখানা বা ইউনিট শনাক্ত করে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে ১৮৫ কেজিরও বেশি প্রসেসড কৃত্রিম মাদক।
অভিযানের পাশাপাশি রাজ্যে আফিম ও গাঁজার অবৈধ চাষ রুখতেও সমান্তরালভাবে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এক নজরে রাজস্থান মেগা ড্রাগ আবাকশন:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থা | রাজস্থান অ্যান্টি-নারকোটিকস টাস্ক ফোর্স (ANTF) |
| উদ্ধার হওয়া মাদকের মূল্য | ৭০০ কোটি টাকা (১০ মাসে) |
| ধ্বংস করা ড্রাগ ইউনিট | ৩৪টি (MD মাদক প্রস্তুতকারী কারখানা) |
| ধৃতদের সংখ্যা | ৮৪ জন (একাধিক প্রবীণ মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীসহ) |
| প্রধান টার্গেটেড রুটসমূহ | মণিপুর, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড |
রাজস্থান থেকে মাদক পাচারের আন্তর্জাতিক ও আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে এএনটিএফ-এর এই পদক্ষেপকে এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। যৌথ পুলিশি তৎপরতা ও আধুনিক গোয়েন্দা নজরদারির কারণে পাচারকারীদের কোটি কোটি টাকার অর্থনীতি একপ্রকার ধসে পড়েছে।





