বিধবাভাতার পাশবই আপডেট করতেই অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে ৩২ কোটি! পূর্ব বর্ধমানে পরিচারিকার ব্যাঙ্কে বিপুল টাকা নিয়ে চাঞ্চল্য

স্বামী মারা গিয়েছেন বহু বছর আগে। তারপর থেকেই সংসারের হাল ধরতে বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করেন পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের লাখুরিয়া পঞ্চায়েতের আটঘরা গ্রামের বাসিন্দা ঝুমা দাস। সরকারি বিধবা ভাতা আর পরিচারিকার কাজ থেকে আসা সামান্য উপার্জনেই টেনেটুনে চলে সংসার। কিন্তু সেই সহায়-সম্বলহীন মহিলার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আচমকা দেখা গেল প্রায় ৩২ কোটি টাকা! এই অস্বাভাবিক বিপুল অঙ্কের টাকা দেখে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ভাতার খোঁজে ব্যাঙ্কে গিয়েই চোখ কপালে উঠল ঝুমাদেবীর
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত তিন মাস ধরে বিধবা ভাতার টাকা পাচ্ছিলেন না ঝুমা দাস। পাওনা টাকার খোঁজ নিতে এবং পাশবই আপডেট করাতে সোমবার স্থানীয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখায় যান তিনি।
যন্ত্রে পাশবই প্রিন্ট করাতেই তিনি হতবাক হয়ে যান। দেখা যায়, গত ৪ জুলাই তাঁর অ্যাকাউন্টে বিধবা ভাতা বাবদ জমা পড়েছে ১ কোটি টাকা! কিন্তু চমকের এখানেই শেষ নয়, পুরো ব্যালেন্স পরীক্ষা করে দেখা যায় অ্যাকাউন্টে মোট জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ কোটি ৯৭ লক্ষ ৩৭ হাজার ১৯৭ টাকা। এত বড় অংক দেখে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি।
[ঘটনার এক নজরে সারসংক্ষেপ]
* আক্রান্ত ব্যক্তি: ঝুমা দাস (পেশায় পরিচারিকা)।
* এলাকা: আটঘরা গ্রাম, লাখুরিয়া পঞ্চায়েত, মঙ্গলকোট, পূর্ব বর্ধমান।
* অসঙ্গতি: বিধবা ভাতা বাবদ ১ কোটি ও মোট অ্যাকাউন্টে ৩১,৯৭,৩৭,১৯৭ টাকা প্রদর্শন।
* ব্যাঙ্কের বক্তব্য: কম্পিউটার বা সিস্টেমের কারিগরি ত্রুটি।
* বর্তমান পদক্ষেপ: নতুন পাশবই প্রদান ও মঙ্গলকোট থানার পুলিশের তদন্ত শুরু।
থানা-পুলিশ ও ব্যাঙ্কের ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটি’র সাফাই
ভয়ে বাড়ি ফিরে প্রতিবেশীদের পুরো বিষয়টি জানান ঝুমাদেবী। এরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে মঙ্গলকোট থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। বিকেলে নিজের বোনপোকে সঙ্গে নিয়ে ফের ব্যাঙ্কে হাজির হন ওই মহিলা।
সেখানে ব্যাঙ্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে জানান যে এটি সম্পূর্ণ কম্পিউটারজনিত বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ঘটেছে। পরবর্তীতে তাঁর পুরোনো পাশবইটি বদলে একটি নতুন পাশবই দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ, ১ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত অ্যাকাউন্টের কোনো লেনদেনের তথ্য নতুন পাশবইয়ে উল্লেখ ছিল না।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পরিবার ও স্থানীয়দের
ব্যাঙ্কের ভুল স্বীকার করলেও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ঝুমা দাস। তিনি স্পষ্ট জানান, “এত টাকা আমার প্রাপ্য নয়। আমি চাই নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যিটা সামনে আসুক। যদি ব্যাঙ্কের ভুল হয়ে থাকে, তবে তারা এই টাকা ফেরত নিয়ে নিক।”
ঝুমাদেবীর ভাই গৌতম দাসও সুর চড়িয়ে প্রশ্ন তুলেছেন— সামান্য বিধবা ভাতার জায়গায় ১ কোটি টাকা কীভাবে এন্ট্রি হলো? এটি কেবলই যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি নেপথ্যে অন্য কোনো আর্থিক তছরুপের কারসাজি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখার জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছে পরিবার। খবরটি চাউর হতেই ঝুমাদেবীর বাড়িতে কৌতুহলী ভিড় জমছে, আর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মঙ্গলকোট থানার পুলিশ।
এক নজরে ঘটনার তথ্য তালিকা:
| বিষয় | বিবরণ / তথ্য |
| ভুক্তভোগী | ঝুমা দাস (বিধবা পরিচারিকা) |
| ঘটনাস্তল | মঙ্গলকোট, পূর্ব বর্ধমান |
| অ্যাকাউন্টে দৃশ্যমান অর্থ | ₹৩১,৯৭,৩৭,১৯৭ (প্রায় ৩২ কোটি টাকা) |
| ব্যাঙ্কের প্রাথমিক ব্যাখ্যা | প্রযুক্তিগত কম্পিউটার ত্রুটি (System Error) |
| বর্তমান আইনি ব্যবস্থা | মঙ্গলকোট থানায় লিখিত অভিযোগ ও তদন্ত শুরু |
একজন দরিদ্র পরিচারিকার ব্যাঙ্কে প্রায় ৩২ কোটি টাকার এন্ট্রি স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ব্যাঙ্ক এটিকে টেকনিক্যাল গ্লিচ বা যান্ত্রিক ত্রুটি হিসেবে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও, সাইবার সুরক্ষা এবং ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে এই ঘটনা। পুলিশি তদন্তেই স্পষ্ট হবে আসল রহস্য।





