Tamanna Murder Case Update: তমন্না খুনে শেষ অভিযুক্তও পুলিশের জালে, ‘ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই অগ্রাধিকার’ বলে এক্স হ্যান্ডেলে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর, দ্রুত চার্জশিটের আশ্বাস বিভাস চ্যাটার্জির

source : আনন্দবাজার
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘তমন্না হত্যাকাণ্ড’ তদন্তে এল এক চূড়ান্ত মোড়। দীর্ঘ টানাপোড়েন ও তল্লাশির পর অবশেষে এই মামলার শেষ অভিযুক্তকেও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ প্রশাসন। এই হাই-প্রোফাইল মামলার সব অপরাধী শ্রীঘরের আড়ালে আসতেই রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে, আদালত ও সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রেখে ফাস্ট ট্র্যাক মোডে এই মামলার রায় বের করতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছেন দুঁদে আইনজীবী বিভাস চ্যাটার্জি।
তমন্না খুনের তদন্ত এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারির পর নিজের অফিসিয়াল এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি রাজ্য প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপের প্রশংসা করে লেখেন:
“তমন্নার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা আমাদের কাছে অগ্রাধিকার। আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছি।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই বিবৃতির পরেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এই মামলার জল কতখানি গভীরে এবং প্রশাসন এটিকে কতটা গুরুত্ব সহকারে দেখছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, শেষ অভিযুক্ত ধরা পড়ার ফলে এখন গোটা মামলার আইনি সমীকরণ অনেকটাই মজবুত হলো। এর আগে এই মামলায় যে চার্জশিট বা প্রাথমিক খতিয়ান পেশ করা হয়েছিল, তা এখন আরও পরিবর্ধিত হবে। আইনি নিয়ম মেনে মূল চার্জশিটের ফাঁকফোকর ভরাট করতে এবং নতুন ধৃতের বয়ান যুক্ত করতে খুব শীঘ্রই আদালতে একটি অতিরিক্ত চার্জশিট বা সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।
এই মামলার সওয়াল-জবাব ও আইনি লড়াইয়ের মূল দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের অন্যতম প্রথিতযশা আইনজ্ঞ তথা বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চ্যাটার্জির (Bibhas Chatterjee) কাঁধে। দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের রণকৌশল স্পষ্ট করেছেন তিনি। বিভাস বাবু জানান, নিখুঁত অকাট্য প্রমাণ সাজানোর জন্য ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন ছিল।
তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘ঘটনাস্থল সরেজমিনে দেখা আমার প্রথম কর্তব্য ছিল। খুব দ্রুত এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। আদালত এবং সাধারণ মানুষ আমার উপর যে আস্থা রেখেছেন, তা যথাযথ ভাবে পালন করার আপ্রাণ চেষ্টা করব।’’
তমন্নাকে যেভাবে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল, তা নিয়ে রাজ্য জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। বিরোধীদের আইনশৃঙ্খলার সমালোচনা এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, দোষীদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না এবং দ্রুততম সময়ে তাদের ফাঁসি বা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। শেষ অভিযুক্তের এই গ্রেপ্তারির মাধ্যমে প্রশাসন সেই প্রতিশ্রুতির পথেই আরও একধাপ এগিয়ে গেল।
বিভাস চ্যাটার্জির মতো সাইবার ও অপরাধ মামলার বিশেষজ্ঞকে এই কেসের দায়িত্ব দেওয়ায় মনে করা হচ্ছে, ফরেনসিক ও ডিজিটাল এভিডেন্স (Digital Evidence) বা তথ্যপ্রমাণ খুব শক্তভাবে আদালতের সামনে পেশ করা হবে। অতিরিক্ত চার্জশিটে নতুন করে যুক্ত হওয়া তথ্যপ্রমাণগুলি অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। এর ফলে অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে (Fast Track Court) এই মামলার বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব হতে পারে।
তমন্না হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। মুখ্যমন্ত্রীর অনড় মনোভাব এবং বিশেষ সরকারি আইনজীবীর পেশাদারী তৎপরতা— দুইয়ে মিলে তমন্নার পরিবার তো বটেই, গোটা রাজ্য এখন আদালতের এজলাসে অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তির অপেক্ষায় দিন গুনছে।






