West Bengal UCC Bill Update: এখনই বিধানসভায় পেশ হচ্ছে না অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল! সোমবার উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের ঘোষণা করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

source : আনন্দবাজার
পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code বা UCC) বলবৎ করা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে রাজ্য রাজনীতিতে যে জল্পনা চলছিল, তাতে সাময়িক বিরতি ঘটল। সোমবারই বিধানসভায় এই ঐতিহাসিক বিলটি পেশ হতে চলেছে বলে মনে করা হলেও, সরকারি সূত্রের খবর— এখনই বিলটি বিধানসভার টেবিলে আসছে না। তবে এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি নিয়ে সোমবার বিধানসভায় এক বিশেষ বিবৃতি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের অন্দরমহলের খবর, বিল পাসের আগে সব দিক খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
আজ, সোমবারই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্ব শেষ হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন ছিল যে, নির্বাচনের ‘সংকল্প পত্র’ বা ইস্তাহারের প্রতিশ্রুতি মেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকার আজই ইউসিসি বিল বিধানসভায় নিয়ে আসবে। তবে আইন ও স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে কোনও তাড়াহুড়ো করতে চান না।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মতো একটি সংবেদনশীল বিষয়ের আইনি ও সামাজিক দিকগুলো খতিয়ে দেখতে প্রথমে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটির কাজ কী হবে, কারা এর সদস্য থাকবেন— সেই রূপরেখা আজ মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি থেকেই স্পষ্ট হতে পারে। এই কমিটির দেওয়া খসড়া রিপোর্ট বা সুপারিশের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে বিধানসভায় বিলের চূড়ান্ত রূপ পেশ করা হবে।
আগামী ৭ জুলাই থেকে বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সেই সময় এই বিলটি বিধানসভায় পেশ করা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখছে রাজ্যের আইন দফতর।
গত বৃহস্পতিবার বিধানসভা অধিবেশনের প্রথমার্ধে বক্তব্য রাখার সময় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পক্ষে জোরদার সওয়াল করেছিলেন। এমনকি সেই রাতেই একটি দলীয় কর্মসূচিতেও তিনি একই কথার পুনরাবৃত্তি করায় জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। বিরোধী শিবিরও এই বিলের বিরোধিতায় সুর চড়াতে শুরু করেছিল।
তবে সোমবার সরকারি মহল থেকে বিলটি পেশ না করার বিষয়ে সরাসরি কোনও ব্যাখ্যা না দেওয়া হলেও মনে করা হচ্ছে, সরকার এই বিষয়ে অনেক বেশি সাবধানী পদক্ষেপ করতে চাইছে। বিলে যাতে কোনও আইনি ফাঁকফোকর বা সাংবিধানিক ত্রুটি না থাকে, তার জন্যই এই বিশেষজ্ঞ কমিটির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনার আগে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের খসড়া কমিটি গঠনের নজির বিজেপিশাসিত অন্য রাজ্যগুলিতেও রয়েছে। ভারতের যে তিনটি রাজ্যে ইতিমধ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর বা প্রক্রিয়াধীন হয়েছে, সেখানেও একই মডেল অনুসরণ করা হয়েছিল:
- উত্তরাখণ্ড: দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে এখানে ইউসিসি বিল আনা হয়। বিল পেশের আগে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের খসড়া কমিটি গঠিত হয়েছিল।
- গুজরাত: উত্তরাখণ্ডের পর গুজরাতেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংক্রান্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং সেখানেও নেপথ্যে ছিলেন বিচারপতি রঞ্জনা দেশাই।
- অসম, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তীসগঢ়: অসমেও এই ধরনের কমিটি গঠনের পর বিল আনার কাজ এগিয়েছে। সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তীসগঢ় সরকারও বিলের খসড়া তৈরির জন্য একই ধরণের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারও মূলত এই গুজরাত, অসম ও উত্তরাখণ্ড মডেল অনুসরণ করেই এগোতে চাইছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্য রাজনীতিতে মেরুকরণ ও আইনি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের যে ইঙ্গিত বিজেপি দিয়েছিল, ইউসিসি তার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। তবে প্রথম দিনেই বিল পাস না করিয়ে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা শুভেন্দু অধিকারীর ‘পরিপক্ক প্রশাসনিক চাল’ হিসেবেই দেখছেন, যাতে বিরোধীরা আইনি স্তরে বিলটিকে সহজে চ্যালেঞ্জ করতে না পারে।
আজ সোমবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের প্রথমার্ধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিবৃতির দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে তিনি কী রূপরেখা ঘোষণা করেন এবং এই উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে কাদের জায়গা দেওয়া হয়, তার ওপরেই নির্ভর করছে বাংলায় ইউসিসি-র ভবিষ্যৎ। তবে এ কথা স্পষ্ট যে, বিল পেশে কিছুটা বিলম্ব হলেও, বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের লক্ষ্যে সরকার নিজের পথেই অনড় রয়েছে।






