Operation Amistad: ভূমিকম্পে তছনছ ভেনেজুয়েলায় পাশে দাঁড়াল ভারত, ‘অপারেশন আমিস্তাদ’-এর মাধ্যমে ৬৬ টন ত্রাণ ও ফিল্ড হাসপাতাল পাঠাল বায়ুসেনা

source : সংবাদ প্রতিদিন
ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হওয়া লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বমঞ্চে আরও একবার ‘গ্লোবাল সাউথ’ (Global South)-এর প্রকৃত নেতার ভূমিকা পালন করল ভারত। ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত দেশটির উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসা পরিষেবাকে গতি দিতে নয়াদিল্লির তরফে শুরু করা হয়েছে ‘অপারেশন আমিস্তাদ’ (Operation Amistad)। স্প্যানিশ ভাষায় এই ‘আমিস্তাদ’ শব্দের অর্থ হলো ‘বন্ধুত্ব’। এই ফ্রেন্ডশিপ অপারেশনের আওতায় রবিবার বড়সড় বিমান অভিযানের তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন দেশের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
রবিবার সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ‘অপারেশন আমিস্তাদ’-এর একাধিক ছবি শেয়ার করে লেখেন:
“ভেনেজুয়েলার এই চরম বিপদের মুহূর্তে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা পাঠানো হয়েছে। অপারেশন আমিস্তাদের আওতায় সেখানে একটি ফিল্ড হাসপাতাল তৈরির পাশাপাশি পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী, জরুরি ওষুধ ও প্রয়োজনীয় জীবনদায়ী চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, ভারতের এই মানবিক সহায়তা দেশটির ভূমিকম্প-পরবর্তী ত্রাণ ও উদ্ধার প্রচেষ্টাকে আরও বেশি শক্তিশালী করবে।”
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও বায়ুসেনার (IAF) তরফে জানানো হয়েছে, এই গুরুদায়িত্ব পালনে ব্যবহার করা হয়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনীর দুটি সর্ববৃহৎ সামরিক পরিবহন বিমান ‘সি-১৭ গ্লোবমাস্টার III’ (C-17 Globemaster III)। গত শুক্রবার দিল্লি থেকে রওনা দিয়ে বিমান দুটি দীর্ঘ ১৪,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ আকাশপথ মাত্র ২৩ ঘণ্টার রেকর্ড সময়ে অতিক্রম করে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অবতরণ করেছে।
বিমানে মোট ৬৬ টন মানবিক সহায়তার সামগ্রী রয়েছে, যার মধ্যে ৩৫ টনেরও বেশি শুধু শুকনো খাবার ও ত্রাণ সামগ্রী। বাকি অংশে রয়েছে জীবনদায়ী ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম। এছাড়া ত্রাণসামগ্রী বণ্টন এবং উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ৪১ সদস্যের একটি সুদক্ষ ভারতীয় বিশেষজ্ঞ দলও ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে।
ভূমিকম্পের জেরে ভেনেজুয়েলার স্থানীয় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ভারতের এই ফিল্ড হাসপাতালটি সেখানে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা নেবে। ভারতীয় সেনার এই ভ্রাম্যমাণ বা ফিল্ড হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার থেকে শুরু করে জরুরি সমস্ত আধুনিক চিকিৎসার পরিকাঠামো রয়েছে।
এর পাশাপাশি পাঠানো হয়েছে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দুটি অত্যাধুনিক ‘ভীষ্ম কিউব’ (Bharat Health Initiative for Sahyog Hita and Maitri – BHISHM)। এই কিউব বা ট্রমা কিটগুলি দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় নিমেষের মধ্যে কয়েকশো মানুষের জরুরি অস্ত্রোপচার ও প্রাথমিক চিকিৎসা করতে সক্ষম।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ভোরে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আছড়ে পড়া দুটি বিধ্বংসী ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে ভেনেজুয়েলা। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭.২ ও ৭.৫। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ১,৫০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর মিলেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১০ হাজার মানুষ।
কঠিন এই আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে আমেরিকার পাশাপাশি ভারতও যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দূরপ্রাচ্যের এই দেশটির দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল, তা ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপদের দিনে ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়ে ভারত দুই দেশের মধ্যেকার দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার এক দূরদর্শী বার্তা পৌঁছে দিল।
ভারত তার প্রাচীন ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ (গোটা বিশ্বই এক পরিবার) নীতিকে পাথেয় করে অতীতেও তুরস্ক ও সিরিয়ার ভূমিকম্পে ‘অপারেশন দোস্ত’ চালিয়ে বিশ্ববাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছিল। ২০২৬ সালের এই কঠিন সময়ে ভেনেজুয়েলার মাটিতে শুরু হওয়া ভারতের ‘অপারেশন আমিস্তাদ’ ধ্বংসস্তূপের নিচে ধুঁকতে থাকা হাজার হাজার মানুষের জীবনে নতুন আশার আলো দেখাবে, তা বলাই বাহুল্য।






