Gwalior Antari Village Mysterious Fire: সন্ধ্যা নামলেই দাউদাউ করে জ্বলছে ঘর, কাপড়! গোয়ালিয়রের বাঘেল পরিবারের রহস্যময় আগুনে হন্যে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা

source : এইসময় অনলাইন
বিজ্ঞানের যুগেও এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা সাধারণ মানুষের যুক্তি-বুদ্ধিকে স্তব্ধ করে দেয়। ঠিক তেমনই এক হাড়হিম করা ঘটনার সাক্ষী হচ্ছে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়ারের আন্তারি গ্রাম। কোনও দেশলাই বা লাইটার নেই, নেই কোনও গ্যাস সিলিন্ডার বা শর্ট সার্কিটের চিহ্ন—অথচ সন্ধ্যা নামলেই গ্রামের এক নির্দিষ্ট পরিবারের ঘর, বিছানা, জামাকাপড় এমনকি মজুত করা চাল-ডালে আচমকা দাউদাউ করে জ্বলে উঠছে আগুন। গত পাঁচ দিন ধরে চলা এই অদ্ভুত কাণ্ডে এখন ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছেন গোটা গ্রামের মানুষ।
এই রহস্যময় ঘটনার সূত্রপাত আন্তারি গ্রামের বাসিন্দা কল্যাণ সিং বাঘেলের বাড়িতে। প্রথম দিন যখন ঘরের কাপড় ও বিছানায় হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠে, পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন শর্ট সার্কিট বা রান্নাঘরের কোনও অসাবধানতা থেকে এমনটা হয়েছে। কিন্তু ভুল ভাঙল তার পরদিনই, যখন ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলো।
ধীরে ধীরে এই আতঙ্ক কল্যাণ সিংয়ের বাকি চার ভাই—সেওয়ারাম বাঘেল, কামতাপ্রসাদ বাঘেল, মহেন্দ্র বাঘেল এবং লক্ষ্মীরাম বাঘেলের বাড়িতেও ছড়িয়ে পড়ে। প্রতি সন্ধ্যায় কোনও না কোনও ভাইয়ের ঘরে হঠাৎ করেই জিনিসপত্রে আগুন লেগে যাচ্ছে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই সময় ঘরের উনুন জ্বলছিল না এবং বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইনেও কোনও গোলযোগের প্রমাণ মেলেনি।
আগুনের এই অদ্ভুত হাত থেকে বাঁচতে কল্যাণ বাঘেল নিজের ঘরের বেশ কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র ও জামাকাপড় নিরাপদ ভেবে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে সরিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু রহস্যের গভীরতা বাড়িয়ে সেই প্রতিবেশীর বাড়িতে রাখা কল্যাণের জিনিসপত্রগুলিতেও আচমকা আগুন ধরে যায়। এই ঘটনার পর গ্রামে তীব্র জল্পনা ও ভীতি তৈরি হয়েছে। অনেকেই একে ‘অলৌকিক শক্তি’ বা ‘অশুভ বাতাস’ বলে দাবি করতে শুরু করেছেন।
গ্রামের এক অংশের মানুষ ভয় পেয়ে তড়িঘড়ি ওঝা ও তান্ত্রিকদের ডেকে আনেন। গ্রামে শান্তি ফেরাতে এবং এই ‘অদৃশ্য আগুন’ নেভাতে তন্ত্রসাধন, ঝাড়ফুঁক, পুজো এবং নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান করা হয়। তবে তান্ত্রিকদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে আগুনের এই তান্ডব কিন্তু বন্ধ হয়নি।
পরিস্থিতি এমন মারাত্মক রূপ নিয়েছে যে, বাঘেল পরিবারের কেউই এখন রাতে ঘরের ভেতর ঘুমোনোর সাহস পাচ্ছেন না। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচেই রাত কাটছে তাঁদের। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে তা নেভানোর জন্য গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে জলের বড় ড্রাম মজুত রাখা হয়েছে এবং গ্রামে সর্বক্ষণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে দমকল বাহিনীকে।
গ্রামবাসী অলৌকিক তত্ত্বে বিশ্বাস করলেও, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কিন্তু একে বিজ্ঞানের চোখেই দেখছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে এবং কোনও ধরণের নাশকতা বা রাসায়নিক চক্রান্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে গ্রামে পাঠানো হয়েছে বিশেষ ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল (Forensic Team) এবং বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকদের।
বিশেষজ্ঞরা খতিয়ে দেখছেন এটি কোনও ধরণের ‘স্বতঃস্ফূর্ত দহন’ (Spontaneous Combustion), কোনও রাসায়নিক বিক্রিয়া নাকি এর পেছনে মানুষের কোনও গোপন হাত রয়েছে। গ্রামে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।
আন্তারি গ্রামের মানুষের কাছে প্রতিটি সূর্যাস্ত এখন এক চরম উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কের নাম। যতক্ষণ না ফরেনসিক রিপোর্ট বা তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল সামনে আসছে, ততক্ষণ এই অদৃশ্য ও রহস্যময় আগুনের উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। বাঘেল পরিবারের ওপর নেমে আসা এই প্রাকৃতিক বা অপ্রাকৃতিক দুর্যোগের রহস্য কবে সমাধান হবে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা গোয়ালিয়র।






