Cody Gakpo Son Death & World Cup Loss: পুত্রসন্তানের মৃত্যুর ৩ দিন পরেই দেশের হয়ে মাঠে, গোল করেও কান্না চাপতে পারলেন না কোডি গাকপো! টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ বিদায় ডাচদের

source :সংবাদ প্রতিদিন
খেলাধুলার জগৎ মাঝে মাঝে এমন কিছু মানবিক ও আবেগঘন কাহিনীর জন্ম দেয়, যা অতি শক্ত হৃদয়ের মানুষকেও কাঁদিয়ে ছাড়ে। চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) তেমনই এক চরম বুকফাটা যন্ত্রণা ও নিয়তির পরিহাসের মুখোমুখি হলেন নেদারল্যান্ডসের (Netherlands) তারকা ফুটবলার কোডি গাকপো (Cody Gakpo)। পুত্রসন্তানের মুখ দেখার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি, কিন্তু ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই না ফেরার দেশে চলে গেল সেই একরত্তি। এত বড় ব্যক্তিগত শোক আড়াল করে দেশের জার্সির সম্মান রক্ষার্থে মাঠে নেমে গোলও করলেন ডাচ তারকা। কিন্তু দিনশেষে ফুটবল দেবতাও হয়তো তাঁর প্রতি বিমুখ হলেন। তাঁর অনবদ্য গোলের পরেও পেনাল্টি শুট-আউটের চিরন্তন ভাগ্যের ফেরে মরক্কোর কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল ডাচরা।
বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার আগেই কোডি গাকপো এবং তাঁর বান্ধবী নোয়া ভ্যান ডার বিজ সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা করেছিলেন যে, আগামী অক্টোবর মাসে তাঁদের দ্বিতীয় সন্তান পৃথিবীর আলো দেখতে চলেছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন নোয়ার গর্ভে পুত্রসন্তান রয়েছে। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে, গত শনিবার গর্ভাবস্থাতেই মৃত্যু হয় সেই অনাগত সন্তানের।
এই চরম বিপদের দিনে গাকপোকে মানসিকভাবে শক্তি জোগাতে এবং পরিবারের পাশে থাকার জন্য নেদারল্যান্ডস টিম ম্যানেজমেন্ট তৎক্ষণাৎ ছুটি মঞ্জুর করেছিল। কিন্তু বুকভরা কান্না চেপে রেখেও বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে জাতীয় কর্তব্যকে প্রাধান্য দেন লিভারপুল তারকা। মাত্র তিন দিন পরেই অর্থাৎ মঙ্গলবার ভোরে মরক্কোর বিরুদ্ধে রাউন্ড অফ ৩২-এর (Round of 32) মরণ-বাঁচন ম্যাচে অকম্পিত চিত্তে প্রথম একাদশে খেলতে নেমে পড়েন তিনি।
সন্তানশোকে বিহ্বল থাকার কারণে ম্যাচের প্রথমার্ধে চেনা ছন্দে দেখা যায়নি গাকপোকে। ম্যাচের অধিকাংশ সময় জুড়ে আশরাফ হাকিমিদের মরক্কো দলেরই দাপট ছিল। তবে ম্যাচের ৬৫ মিনিটের পর থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ডাচ ব্রিগেড। আর তখনই দলের ত্রাতা হয়ে ওঠেন কোডি গাকপো। ম্যাচের ৭২ মিনিটে এক দর্শনীয় শটে গোল করে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন তিনি।
কিন্তু গোল করার পরেই নিজের আবেগকে আর ধরে রাখতে পারেননি ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। প্রয়াত সন্তানের উদ্দেশ্যে গোলটি উৎসর্গ করে মাঠের মধ্যেই ঝরঝর করে কেঁদে ফেলেন তিনি। সেই দৃশ্য দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন গ্যালারির ডাচ সমর্থকেরাও। সতীর্থরা ছুটে এসে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিতে থাকেন গাকপোকে।
গাকপোর ওই গোলের পর কমলা জার্সিধারী ভক্তরা যখন ধরে নিয়েছেন যে নেদারল্যান্ডস কোয়ার্টার ফাইনালের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখনই ম্যাচে নাটকীয় মোড় আসে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে মরক্কো গোল শোধ করলে ম্যাচের ফলাফল দাঁড়ায় ১-১। অতিরিক্ত সময়েও কোনও দল গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুট-আউটে।
আর এই পেনাল্টি ভাগ্য নেদারল্যান্ডসের জন্য বরাবরই এক অভিশাপের নাম। গত তিনটি বিশ্বকাপের মধ্যে দুটিতে খেলেছিল ডাচরা এবং প্রতিবারই তারা টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছিল। এদিন মরক্কোর বিরুদ্ধেও সেই একই ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি ঘটল। ডাচ গোলকিপার প্রথম শটটি আটকে দিলেও, শেষরক্ষা হয়নি। একের পর এক সুযোগ মিস করে পেনাল্টি শুট-আউটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল নেদারল্যান্ডস।
কোডি গাকপোর জন্য এবারের বিশ্বকাপ ট্রফি জয় হয়তো এক অপূর্ণ স্বপ্নই থেকে গেল, কিন্তু নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিকে পাশে সরিয়ে রেখে তিনি দেশের জন্য যেভাবে নিজেকে উজাড় করে দিলেন, তা ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ডাচদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হওয়ায় এবার বান্ধবী নোয়ার পাশে দাঁড়াতে এবং এই কঠিন সময় পার করতে নিজের দেশে ফিরে যাবেন এই লিভারপুল তারকা।






