Manuel Neuer Retires After World Cup Defeat: একরাশ যন্ত্রণা বুকে নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরবিদায় জানালেন ম্যানুয়েল নয়্যার, প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় জার্মানির

source : সংবাদ প্রতিদিন
লক্ষ্য ছিল তরুণ জার্মান ব্রিগেডকে সঙ্গে নিয়ে কেরিয়ারের গোধূলি লগ্নে আরও একবার বিশ্বজয়ের স্বাদ পাওয়া। সেই অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করতেই ২০২৪ ইউরোর পর নেওয়া আন্তর্জাতিক অবসর ভেঙে ৪০ বছর বয়সে ফের জার্মানির গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়েছিলেন ম্যানুয়েল নয়্যার (Manuel Neuer)। কিন্তু ফুটবল বিশ্বকাপ হয়তো এবার তাঁকে রূঢ় বাস্তবটা বুঝিয়ে দিল—বয়সের ভারে তাঁর সেই চেনা ক্ষিপ্রতা আজ অনেকটাই ম্লান। পেনাল্টি শুট-আউটে জার্মানির ত্রাতা হতে পারলেন না তিনি। আন্ডারডগ প্যারাগুয়ের কাছে পেনাল্টিতে হেরে বিশ্বকাপ থেকে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায়ের পর, চোখের জলে আন্তর্জাতিক ফুটবল অধ্যায়ের ইতি টানলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই সুইপার-কিপার।
২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতে জার্মানির বিশ্বজয়ের প্রধান কাণ্ডারী ছিলেন ম্যানুয়েল নয়্যার। কিন্তু এরপর জার্মানির ফুটবল এক অন্ধকার সময়ের মধ্য দিয়ে যায়, যেখানে তারা টানা তিনটি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব টপকাতে পারেনি। দীর্ঘ ১২ বছর পর চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে অবশেষে নকআউট তথা রাউন্ড অফ ৩২-এর টিকিট পেয়েছিল ডাই ম্যানশাফটরা। এই দলের একমাত্র অভিজ্ঞ স্তম্ভ হিসেবে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিশেষ অনুরোধে অবসর ভেঙে ফিরেছিলেন নয়্যার। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে মরশুম জুড়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করা নয়্যারকে নিয়ে স্বপ্ন বুনেছিল গোটা জার্মানি। কিন্তু নকআউটের প্রথম ম্যাচেই প্যারাগুয়ের রক্ষণাত্মক ফুটবলের সামনে আটকে যায় জার্মানি।
ম্যাচ অতিরিক্ত সময় পেরিয়ে পেনাল্টি শুট-আউটে গড়ালে গোটা জার্মান দল আস্থা রেখেছিল নয়্যারের সমুদ্রসমান অভিজ্ঞতার ওপর। সবাই ভেবেছিলেন নিজের চেনা ম্যাজিকে আরও একবার জার্মানিকে রক্ষা করবেন তিনি। কিন্তু প্যারাগুয়ের ফুটবলারদের নিখুঁত শটের সামনে পরাস্ত হন নয়্যার। আগের মতো ক্ষিপ্রতার সঙ্গে ডাইভ দিয়ে একটি বলও জালে জড়ানো থেকে আটকাতে পারেননি তিনি। আর এই হারের সঙ্গেই শেষ হয়ে গেল জার্মানির বিশ্বকাপ অভিযান এবং নয়্যারের বর্ণময় আন্তর্জাতিক কেরিয়ার।
ম্যাচ শেষের পর মিক্সড জোনে এসে একরাশ হতাশা ও বুকভরা যন্ত্রণা নিয়ে নয়্যার বলেন:
“সবটা এভাবে, এই মঞ্চে এসে শেষ হবে আমি ভাবিনি। সত্যি বলছি, খুব খারাপ লাগছে। কেরিয়ারের শেষটা অন্তত এমন যন্ত্রণাদায়ক হোক তা আমি কখনই চাইনি।”
বিদায়ের রাতটি যন্ত্রণার হলেও, ফুটবলের পরিসংখ্যানের পাতায় নিজের নামটিকে অমর করে দিয়ে গেলেন ম্যানুয়েল নয়্যার। জার্মানির জার্সি গায়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার নজির এখন তাঁর ঝুলিতে। ফিলিপ লাম কিংবা লোথার ম্যাথুজদের টপকে জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২৩টি ম্যাচ খেলার বিরল রেকর্ডের মালিক হলেন তিনি।
চলতি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নয়্যার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, টুর্নামেন্টে জার্মানির শেষ ম্যাচটিই হবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর শেষ ম্যাচ। তবে প্যারাগুয়ের মতো দল, যাদের ফুটবলের তথাকথিত ‘কুলীন’ বা ফেভারিটদের তালিকায় রাখা হয় না, তাদের কাছে হেরে বিদায় নিতে হবে তা নয়্যার বা তাঁর কোটি কোটি ভক্ত ভাবেননি। ২০১৪ দলের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ২০২৬ স্কোয়াডে থাকা নয়্যারের এই বিদায় জার্মানির ফুটবলে একটি সোনালী প্রজন্মের সম্পূর্ণ অবসান ঘটাল।
পেনাল্টি শুট-আউটের ব্যর্থতা দিয়ে ম্যানুয়েল নয়্যারের মতো মহাতারকার আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের মূল্যায়ন সম্ভব নয়। আধুনিক ফুটবলে ‘সুইপার-কিপার’ পজিশনটিকে যেভাবে তিনি পুনর্জ্ঞায়িত করেছিলেন, তা ফুটবল ইতিহাস চিরকাল মনে রাখবে। এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলের জার্সি তুলে রেখে নয়্যার কেবল ক্লাব ফুটবলেই মন দেবেন। তবে ফুটবল বিশ্ব আজ বিদায়লগ্নে দাঁড়িয়ে আরও একবার কুর্ণিশ জানাচ্ছে জার্মানির এই সর্বকালের সেরা প্রাচীরকে।






