India Pakistan Relations 2026: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর এক বছর! বৈরিতা ভুলে দ্বিপাক্ষিক শান্তি ফেরাতে মোদি ও শাহবাজ শরিফকে খোলা চিঠি দুই দেশের ১১৭ জন বিশিষ্ট নাগরিকের

source :সংবাদ প্রতিদিন
গত বছর মে মাসে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার প্রত্যুত্তরে ভারতীয় সেনার চালানো ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor)-এর পর থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির এক বছর পার হওয়ার পর এবার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে পুনরায় শান্তি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দাবি উঠল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের (Shehbaz Sharif) কাছে এই মর্মে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন দুই দেশের ১১৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক।
চিঠিতে দুই দেশের সরকারের প্রতি দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সামরিক উত্তেজনা অবসানের জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশিষ্টজনেদের দাবি, দুই দেশের এই প্রতিনিয়ত সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে দক্ষিণ এশিয়ার লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী উজ্জ্বল সুযোগ-সুবিধা, সমৃদ্ধি এবং একটি নিরাপদ ও নিশ্চিত ভবিষ্যৎ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
শান্তি আলোচনা এবং স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীদের সুনির্দিষ্ট ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ করার আর্জি জানানো হয়েছে এই চিঠিতে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই যৌথ চিঠিতে দুই দেশেরই বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং গণনেতার স্বাক্ষর রয়েছে।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পুনরায় সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চিঠিতে প্রধানত ৪টি বড় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে:
- হাই কমিশনার নিয়োগ: নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদে পুনরায় পূর্ণকালীন হাই কমিশনারদের নিযুক্ত করে কূটনৈতিক চ্যানেল সচল করা।
- ভিসা ও আকাশসীমা: সাধারণ নাগরিকদের জন্য স্বাভাবিক ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু করা এবং বাণিজ্যিক উড়ানের (Commercial Flights) জন্য দুই দেশেরই বন্ধ থাকা আকাশসীমা উন্মুক্ত করে দেওয়া।
- সীমান্ত বাণিজ্য সচল: ভারত-পাকিস্তানের অর্থনীতির স্বার্থে বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘আটারি-ওয়াঘা স্থলসীমান্ত’ (Attari-Wagah Land Border) খুলে দেওয়া।
- আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ: দুই কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের মধ্যে সংযোগ বজায় রাখতে ঐতিহ্যবাহী ‘শ্রীনগর-মুজাফফরাবাদ বাস পরিষেবা’ পুনরায় চালু করা এবং আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যান্য উদ্যোগগুলিকে পুনর্বহাল করা।
ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের এই বর্তমান তিক্ততার নেপথ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঘটে যাওয়া তীব্র সামরিক সংঘর্ষ।
সংঘাতের ঘটনাক্রম:
| তারিখ | ঘটনা | বিবরণ |
| ২২ এপ্রিল, ২০২৫ | পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা | লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন ‘টিআরএফ’ (TRF)-এর ৪ জঙ্গি ২৬ জন নিরস্ত্র ভারতীয় নাগরিককে নৃশংসভাবে হত্যা করে। |
| ৭ মে, ২০২৫ | অপারেশন সিঁদুর শুরু | ভারতের মোদি সরকারের নির্দেশে মাঝরাতে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) ৯টি জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় সেনা। |
| পাল্টা সংঘাত | পাকিস্তানের এয়ারবেস ধ্বংস | ভারতের সীমান্তবর্তী সেনাঘাঁটিতে পাকিস্তান হামলা চালালে চরম প্রত্যাঘাত করে ভারত। ধ্বংস হয় পাকিস্তানের অন্তত ১১টি বায়ুসেনা ঘাঁটি। |
| ক্ষয়ক্ষতি ও যুদ্ধবিরতি | পাকিস্তানের আতিথেয়তা | ভারতীয় সেনার অভিযানে ১০০-র বেশি জঙ্গি এবং ৩৫-৪০ জন পাক সেনা খতম হয়। শেষে ইসলামাবাদের যুদ্ধবিরতির আর্জিতে সায় দেয় নয়াদিল্লি। |
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে ভারত তার সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি স্পষ্ট করে দিয়েছে। তবে দীর্ঘ এক বছর সীমান্ত শান্ত থাকার পর, দুই দেশের বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও বুদ্ধিজীবীদের এই খোলা চিঠি দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি ফেরাতে কতটা ভূমিকা নেয়, সেটাই দেখার। নয়াদিল্লি পাকিস্তানের মাটি থেকে সীমান্তপার সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে বসবে কি না—তা নিয়ে অবশ্য এখনও বড় সংশয় রয়েছে।






