Abhaya Mother Ratna Debnath: “অর্থলোভ থাকলে মেয়ের নামে কোটি টাকার অফার নিতাম!” পানিহাটি মন্দিরের প্রণামী বিতর্ক নিয়ে পুরোহিত ও তৃণমূলকে তুলোধোনা বিধায়ক রত্না দেবনাথের

source : সংবাদ প্রতিদিন
পানিহাটির প্রায় ২০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর মন্দিরের প্রণামী বাক্সের চাবি ও টাকা ‘দখলের চেষ্টা’র অভিযোগ উঠেছিল আরজি করের নিহত চিকিৎসক ‘অভয়া’-র বাবা শেখর দেবনাথের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। অবশেষে এই মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভয়ার মা তথা পানিহাটির বর্তমান বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath)। বুধবার এক ফেসবুক লাইভে এসে তিনি প্রতিবাদের সুর আরও চড়িয়ে স্পষ্ট করলেন—কোনও চক্রান্তই তাঁকে প্রতিবাদের পথ থেকে সরাতে পারবে না।
বুধবার ফেসবুক লাইভে এসে আবেগঘন ও অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে রত্না দেবনাথ তাঁর স্বামীর গায়ে দুর্নীতির কালি ছেটানোর অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন:
“আমার তো আরেকজন কোনও সন্তান নেই যে তার জন্য আমি বা আমার স্বামী অর্থের লোভ করব। আমার যদি সত্যিই অর্থের লোভ থাকত, তবে আমাকে বিজেপির পতাকা ধরতে হত না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন (মেয়ের মৃত্যুর পর)। অর্থলোভ থাকলে মেয়েকে অত কষ্ট করে ডাক্তারিও পড়াতাম না।”
এর পরেই পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে নিশানা করে রত্না বলেন, “পানিহাটিতে নির্মল ঘোষ দেখিয়েছেন রাজনীতি করে কীভাবে কোটি কোটি অর্থ উপার্জন করা যায়। আমরা সেই রাজনীতি করি না।”
ঠিক কী কারণে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে এই কাল্পনিক অভিযোগ আনা হয়েছে, তার নেপথ্যের প্রশাসনিক অংকটি বুঝিয়ে দেন রত্না দেবনাথ। তিনি জানান, পানিহাটির দণ্ডমহোৎসব উপলক্ষে ওই মন্দিরে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হয় এবং বিপুল প্রণামী জমা পড়ে। এই টাকা যাতে কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের পকেটে না যায়, তার জন্য তিনি কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন।
- SDO-র অধীনে ট্রাস্ট গঠন: রত্না দেবনাথ জানান, মন্দিরের অর্থ যাতে সম্পূর্ণরূপে মন্দিরের পরিকাঠামো ও উন্নয়নের কাজে ব্যবহৃত হয়, তার জন্য তিনি মহকুমা শাসককে (SDO) একটি সরকারি ট্রাস্ট গঠন করতে বলেছেন।
- পুরোহিতের লুট বন্ধ: এই ট্রাস্টে মন্দিরের পুরোহিতও সদস্য থাকবেন, তবে প্রণামীর টাকা নিজের স্বার্থে ব্যবহার করার বা পকেটে পোরার অধিকার আগের মতো আর তাঁর থাকবে না। বিধায়কের দাবি, “তৃণমূল আর আগের মতো মন্দিরের টাকা লুট করতে পারছে না, এটাই পুরোহিতের গাত্রদাহের আসল কারণ।”
পানিহাটির শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর মন্দিরের সেবাইত বঙ্কুবিহারী বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন যে, দণ্ডমহোৎসবের আগের সন্ধ্যায় কয়েকজনকে সাথে নিয়ে মন্দিরে যান বিধায়কের স্বামী শেখর দেবনাথ।
সেবাইতের আনা অভিযোগের মূল বিন্দু:
| অভিযোগের বিষয় | সেবাইত বঙ্কুবিহারী বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি | শেখর ও রত্না দেবনাথের পাল্টা জবাব |
| চাবি হস্তান্তরের চাপ | শেখর দেবনাথ নাকি মন্দির ও প্রণামী বাক্সের চাবি কার কাছে আছে তা জানতে চান। | সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মন্দিরের সুরক্ষার স্বার্থে নিয়ম জানতে চাওয়া হয়েছিল। |
| টাকা বিধায়কের বাড়িতে গণনা | অভিযোগ, মন্দিরের ভেতরের ও বাইরের প্রণামী বাক্সের টাকা বিধায়কের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে গোনার কথা বলা হয়। | ট্রাস্ট গঠনের মাধ্যমে সরকারি নজরদারিতে টাকা গোনার কথা বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তিগত বাড়িতে নয়। |
| আইনি পদক্ষেপ | সেবাইত জানান, তিনি বিধায়কের লিখিত নির্দেশ ছাড়া টাকা দিতে আপত্তি করেন। | সেবাইত বা পুরোহিত এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত পুলিশি অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি, কারণ অভিযোগটি মিথ্যা। |
ফেসবুক লাইভের শেষ অংশে রত্না দেবনাথ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অভয়ার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আবেগকে ব্যবহার করে যারা বাজারে সিনেমা তৈরির নামে সাধারণ মানুষের থেকে টাকা লুট করছে বা ফান্ড তুলছে, তাদের উদ্দেশেও কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি সাফ জানান, মেয়ের নাম ভাঙিয়ে কাউকে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না।
আরজি কর কাণ্ডের পর থেকেই পানিহাটির রাজনীতিতে সমীকরণ বদলেছে। অভয়ার মা রত্না দেবনাথের বিধায়ক হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের সাথে তাঁর সংঘাত লেগেই রয়েছে। পানিহাটি মন্দিরের প্রণামী বাক্সকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই সাম্প্রতিক বিতর্ক যে আসলে আগামী পুরভোটের আগে বিজেপি বিধায়ক ও তাঁর পরিবারকে কালিমালিপ্ত করার একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক চাল ছিল, তা রত্না দেবনাথের এদিনের ফেসবুক লাইভ ও ট্রাস্ট গঠনের দাবিতে আরও স্পষ্ট হয়ে গেল।






