Mumbai School Bus Accident: স্কুল থেকে ফিরে আর মাঠে গেল না ১১ বছরের বিহান! মুম্বইয়ে বাস দুর্ঘটনা কেড়ে নিল ক্ষুদে ক্রিকেটারের প্রাণ, ব্যাট হাতে মায়ের কান্না দেখে কাঁদছে পাড়া

source : আনন্দবাজার
প্রতিদিনের চেনা রুটিনটা ছিল বড্ড সাধারণ, অথচ প্রাণবন্ত। স্কুল থেকে ফিরেই গ্রোগ্রাসে চারটে খেয়ে নিয়ে ব্যাট-বল বগলে পাশের মাঠে ছুটে যেত ১১ বছরের বিহান। কিন্তু মঙ্গলবার মুম্বইয়ের এক আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় চিরতরে থামিয়ে দিল সেই ছোট্ট পায়ের দৌড়। স্কুল থেকে বিহান ফিরল ঠিকই, কিন্তু আর মাঠে গেল না। জামা বদলে মাকে বলল না, “ব্যাটটা দাও, এখনই খেলতে যাব।” এক মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায় (Mumbai School Bus Accident) পিষে গেল এক ক্ষুদে স্বপ্নিল ক্রিকেটারের জীবন।
মঙ্গলবার বিকেলে স্কুল শেষ হওয়ার পর আর পাঁচটা দিনের মতোই বাসে চড়ে বাড়ি ফিরছিল বিহান সহ মোট ১৩ জন পড়ুয়া। কিন্তু সেই সময়ই মুম্বইয়ের ওপর দিয়ে বয়ে যায় আকস্মিক ঝড়বৃষ্টি। আবহাওয়া এতটাই খারাপ ছিল যে রাস্তার ধারের একটি বিশাল পুরোনো গাছ উপড়ে সটান গিয়ে পড়ে স্কুলবাসটির ওপর। ভারী গাছের ওজনে বাসটি মুহূর্তের মধ্যে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ভেতরেই আটকে পড়ে আর্তনাদ করতে থাকে অবুঝ শিশুরা। স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারীরা দ্রুত এসে পাঁচজন গুরুতর আহত পড়ুয়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা বিহান শ্রীবাস্তবকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকি চারজন এখনও চিকিৎসাধীন।
বিকেলের দিকে যখন বিহানের নিথর দেহটা পাড়ায় এসে পৌঁছায়, তখন গোটা এলাকা স্তব্ধ হয়ে যায়। একমাত্র ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন মা জুহি শ্রীবাস্তব। খাটের এক কোণে বসে হাতে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন বিহানের সেই অতি প্রিয় সাধের ক্রিকেট ব্যাটটা। বার বার অঝোরে কেঁদে চলেছেন আর বিলাপ করছেন:
“বিহান তুই কখন আসবি? খেলতে যাবি না? দেখ তোর ব্যাট নিয়ে আমি বসে আছি। খেলতে যেতে হবে তো রে!”
প্রতিবেশীরা জুহিকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। এক প্রতিবেশী জানান, বিহানই ছিল জুহি দেবীর গোটা জগৎ। ছেলে সামান্য বাইরে গেলেই ভিডিও কল করে খোঁজ নিতেন। সেই ছেলের যে এমন পরিণতি হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
“বড় মাপের ক্রিকেটার হতে চাইতাম”
বিহানের প্রতিবেশী রাজি মলহোত্র চোখের জল মুছতে মুছতে বলেন, বিহান ছিল অত্যন্ত মিশুকে এবং বুদ্ধিদীপ্ত এক ছেলে। রাজির বড় ছেলে দেবের কাছে প্রতিদিন নিয়ম করে ক্রিকেট শিখতে আসত বিহান।দেবকে সারাক্ষণ বলত, “দাদা, আমাকে একটু শিখিয়ে দেবে কী করে ব্যাট ধরতে হয়? কী করে বল মারতে হয়?”প্রতিবেশীদের কথায়, জুহির মনের ভেতর এখন কী উথালপাথাল চলছে তা শুধু ভগবানই জানেন। পুরো পাড়া আজ এই ছোট্ট ছেলেটার জন্য কাঁদছে।
মুম্বইয়ের বর্ষা বা ঝড়বৃষ্টির মরসুমে গাছ ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু প্রশাসনের এই রক্ষণাবেক্ষণের গাফিলতি এবং দুর্বল গাছগুলি সময়মতো না কাটার খেসারত যে এক ১১ বছরের শিশুর জীবন দিয়ে দিতে হবে, তা মেনে নিতে পারছে না কেউ। বিহান হয়তো আর কোনও দিন মাঠে গিয়ে ব্যাট ধরবে না, কিন্তু তার অধরা থেকে যাওয়া স্বপ্ন আর মায়ের সেই করুণ আর্তনাদ মুম্বইয়ের এই বর্ষার দিনে এক বড় ক্ষত হয়ে থেকে গেল।






