Narendrapur Ramakrishna Mission Student Death: ফুটবল বিশ্বকাপ দেখার স্বপ্ন আর পূরণ হলো না! নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র দীপ্তাংশুর রহস্যমৃত্যু, কাঠগড়ায় কর্তৃপক্ষ

source : এইসময় অনলাইন
গোটা বিশ্ব যখন মেতে রয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের (Football World Cup) মহোৎসবে, ঠিক তখনই এক ক্ষুদে ফুটবল অনুরাগীর আকস্মিক বিদায় বিষাদের ছায়া নামিয়ে আনল দুই ২৪ পরগনায়। মঙ্গলবার স্কুল চলাকালীন নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের (Narendrapur Ramakrishna Mission) দ্বাদশ শ্রেণির হস্টেল আবাসিক ছাত্র দীপ্তাংশু মাহাতোর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নেইমারের অন্ধ ভক্ত, ব্রাজিলের সমর্থক দীপ্তাংশুর আগামী ৩ জুলাই ছুটি পেয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু বাড়ি ফেরা হলো না, তার আগেই নিভে গেল এক চনমনে তাজা প্রাণ।
মৃত দীপ্তাংশু মাহাতোর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম বঙ্কিমপল্লির ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে। তাঁর বাবা মনোরঞ্জন মাহাতো পেশায় কলকাতা হাইকোর্টের একজন আইনজীবী। তিন বছর আগেই মাতৃহীন হয়েছিল দীপ্তাংশু ও তার দিদি মঞ্জিমা। সামনের বছর মিশন থেকেই উচ্চমাধ্যমিক দেওয়ার কথা ছিল মেধাবী এই ছাত্রের।
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে ঠান্ডা লাগায় কিছুটা অসুস্থ ছিল দীপ্তাংশু। মঙ্গলবার আচমকাই খবর আসে সে গুরুতর অসুস্থ। অভিযোগ, মিশনের ভেতর একটি ফ্লাস্ক থেকে সরাসরি ফুটন্ত গরম চা খেয়ে ফেলেছিল দীপ্তাংশু। তার পর থেকেই তার শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক অস্বস্তি শুরু হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
দীপ্তাংশুর দিদি মঞ্জিমা এবং দিদা প্রতিমা সর্দার মিশন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে গভীর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। মঞ্জিমার স্পষ্ট অভিযোগ:
“ভাই ফ্লাস্কের চা খেতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। কিন্তু মিশন কর্তৃপক্ষ একবারের জন্যও ভাইকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার উদ্যোগ নেয়নি। ওরা শুধু বাড়ি থেকে আমাদের যাওয়ার অপেক্ষা করছিল। সময়মতো চিকিৎসা পেলে হয়তো ভাই বেঁচে যেত।”
হাসপাতালে যখন বাবা মনোরঞ্জন বাবু পৌঁছান, তখন দীপ্তাংশু বাবার মোবাইল থেকে কিছুটা সময় বিশ্বকাপের খেলাও দেখেছিল। কিন্তু তার পরেই ফের অসুস্থতা বাড়ে এবং বাবার কাঁধেই মাথা রেখে চিরকালের মতো চোখ বন্ধ করে সে।
মধ্যমগ্রামের নবনালন্দা শিশু বিদ্যাপীঠ থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে ভর্তি হয়েছিল দীপ্তাংশু। স্বভাব-হাসিখুশি ছেলেটির মৃত্যুতে স্তব্ধ গোটা বঙ্কিমপল্লি।
দিদির স্মৃতিতে ভাইয়ের শেষ কথা:
- দিদার জন্য চিন্তা: হস্টেল থেকে ফোনে দিদার পা ফুলে যাওয়ার খবর পেয়ে চিন্তিত ছিল দীপ্তাংশু। দিদার শরীরের খোঁজ নিয়েছিল।
- রাত জেগে খেলা দেখার প্ল্যান: দীপ্তাংশু দিদিকে আবদার করে বলেছিল, “৩ জুলাই তো ছুটি হয়ে যাচ্ছে। বাড়ি ফিরেই আর কোনও পড়াশোনা নয়, শুধু রাত জেগে খেলা দেখার পালা শুরু হবে।”
- আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত: ছেলের এই অকাল প্রয়াণ মেনে নিতে পারছেন না আইনজীবী বাবা। ঘটনার পেছনে কোনো গভীর রহস্য বা গাফিলতি রয়েছে দাবি করে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে পরিবার।
দীপ্তাংশুর নিথর দেহের ময়নাতদন্তের পর তা কলকাতায় বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, নরেন্দ্রপুরের মতো একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রের সুরক্ষায় গাফিলতি কেন হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর (UD) মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে। মিশন কর্তৃপক্ষের বয়ানও রেকর্ড করা হচ্ছে।
নেইমারের ম্যাজিক কিংবা ব্রাজিলের পাসিং ফুটবল দেখার জন্য যে চোখ দুটি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল, তা আজ চিরতরে বুজে গেল। ফ্লাস্কের গরম চা খাওয়ার মতো একটি সাধারণ ঘটনা কীভাবে এক কিশোরের মৃত্যুর কারণ হতে পারে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলেও বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশি তদন্তই এখন এই রহস্যের জট খুলতে পারে।






