FIFA World Cup: ৩ মিনিটের ঝড় ও শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি নাটক! ০-২ গোলে পিছিয়ে থেকেও সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-য় বেলজিয়াম

source : আনন্দবাজার
ফুটবলকে কেন ‘মহানিয়তি’র খেলা বলা হয়, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো সিয়াটলের গ্যালারিতে। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত মাঠের চিত্র বলছে, ম্যাচ সম্পূর্ণ সেনেগালের পকেটে। গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার সবুজ জার্সিধারী ‘দ্য লায়ন্স’ সমর্থকেরা হয়তো শেষ ষোলোর টিকিটও কাটতে শুরু করে দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার আগে যে প্রতিপক্ষকে হালকা নিতে নেই, সেই চিরন্তন সত্যটি ভুলে যাওয়ার খেসারত দিতে হলো সেনেগালকে। তিন মিনিটের ঝড় আর অতিরিক্ত সময়ের পেনাল্টি নাটকে ০-২ থেকে ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নক-আউটে চলে গেল বেলজিয়াম। আর ডাগ-আউটে বসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন সেনেগালের মহাতারকা সাদিও মানে।
খেলার শুরু থেকেই সেনেগালের রণকৌশল ছিল ‘অল আউট অ্যাটাক’। সাদিও মানে, এনডিয়ায়ে এবং ইসমাইলা সারের ত্রিমুখী আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল বেলজিয়ামের রক্ষণভাগ।
- ২৪ মিনিট (১-০): সারের একটি বিষাক্ত হেড পোস্টে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বলে চমৎকার গোল করে সেনেগালকে এগিয়ে দেন হাবিব দিয়ারা।
- ৫১ মিনিট (২-০): ডিফেন্স থেকে আসা একটি লং বল বক্সে বুক দিয়ে নামিয়ে, দুই ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে ডান পায়ের অনবদ্য শটে সেনেগালের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইসমাইলা সার।
এই সময় বেলজিয়ামের খেলায় কোনও তাগিদ ছিল না। উল্টে মাঠের মধ্যেই ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন অধিনায়ক টিয়েলেম্যানস ও ট্রসার্ড। কেভিন দ্য ব্রুইন ও জেরেমি ডোকুকে ৫৫ মিনিটে তুলে নিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন কোচ রুডি গার্সিয়া। কিন্তু তাঁর সেই জুয়া শেষ পর্যন্ত মাস্টারস্ট্রোক প্রমাণিত হলো।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ডিলান ডি কেটেলায়েরের পরিবর্তে মাঠে নামেন অভিজ্ঞ রোমেলু লুকাকু। আর তাতেই খেলা ঘোরে। পাসিং ফুটবল বাদ দিয়ে অল-আউট লং বলে আক্রমণ শুরু করে বেলজিয়াম।
- ৮৬ মিনিট (১-২): বক্সের বাইরে থেকে লিওনার্দো ট্রসার্ডের চমৎকার ক্রসে পা ছুঁইয়ে ব্যবধান কমান রোমেলু লুকাকু। দুর্দান্ত খেলতে থাকা সেনেগালিজ কিপার দিয়াও এই শট আটকাতে পারেননি।
- ৮৯ মিনিট (২-২): আবারও ট্রসার্ডের ক্রস। এবার গোলকিপার দিয়াও বল পাঞ্চ করতে বেরোনোর আগেই নিখুঁত হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন অধিনায়ক ইউরি টিয়েলেম্যানস। ৩ মিনিটের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে যায় সেনেগাল শিবির।
ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে দুই দলই বেশ কিছু সুযোগ নষ্ট করে। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচ নিশ্চিতভাবেই টাইব্রেকারে গড়াবে, ঠিক তখনই অন্তিম মিনিটে বক্সের ভেতর বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে টিয়েলেম্যানসকে ফাউল করে বসেন সেনেগালের ডিফেন্ডার কামারা।
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ এক নজরে:
| সময় (মিনিট) | ঘটনা | ফলাফল |
| ২৪’ | হাবিব দিয়ারার ফিল্ড গোল (সেনেগাল) | ১-০ |
| ৫১’ | ইসমাইলা সারের দুর্দান্ত শটে গোল (সেনেগাল) | ২-০ |
| ৮৬’ | ট্রসার্ডের পাসে লুকাকুর কামব্যাক গোল (বেলজিয়াম) | ২-১ |
| ৮৯’ | ট্রসার্ডের ক্রসে টিয়েলেম্যানসের হেড (বেলজিয়াম) | ২-২ |
| ১২০’ (ET) | ভার (VAR) রিভিউতে বেলজিয়ামের পক্ষে পেনাল্টি | ২-২ |
| ১২০+১’ (ET) | স্পট কিক থেকে ইউরি টিয়েলেম্যানসের জয়সূচক গোল | ৩-২ (বেলজিয়াম জয়ী) |
সবাই ভেবেছিলেন লুকাকু শট নেবেন, কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন টিয়েলেম্যানস। ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে বেলজিয়ামকে শেষ ১৬-র টিকিট এনে দেন তিনি।
ম্যাচ জিতলেও বেলজিয়ামের ডিফেন্স ও মাঝমাঠের কঙ্কালসার চেহারাটা এই ম্যাচেও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। কেভিন দ্য ব্রুইনদের এই ‘সোনালি প্রজন্ম’ এই ফর্ম নিয়ে নক-আউটে কতদূর টিকবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। তবে আজ রাতের নায়ক অবশ্যই বেলজিয়ামের মানসিকতা। অন্যদিকে, অন্তত ৫টি গোলের সুযোগ নষ্ট করা এবং শেষ মুহূর্তে রক্ষণভাগের ‘ঘুমিয়ে পড়া’র চরম মূল্য দিয়ে চোখের জলে বিশ্বকাপকে বিদায় জানাতে হলো সাদিও মানের সেনেগালকে।






