FIFA World Cup: বালোগুনের ‘জিদান কীর্তি’ ও লাল কার্ডের নাটক! বসনিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-য় আয়োজক দেশ আমেরিকা, সামনে বেলজিয়াম

source : আনন্দবাজার
লস অ্যাঞ্জেলেসের স্টেডিয়ামে তখন ৬৬ হাজার দর্শকের গগনভেদী চিৎকার। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশের ফুটবলাররা যখন মাঠ ছাড়ছেন, তখন তাঁদের নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে শেষ ষোলোর টিকিট। প্রথমবার বিশ্বকাপের নক-আউটে ওঠা বসনিয়া ও হারজেগোভিনাকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিল আমেরিকা। ম্যাচের একটা বড় সময় ১০ জন নিয়ে খেলেও যেভাবে বসনিয়ার আক্রমণকে বোতলবন্দি করলেন মার্কিন কোচ মৌরিসিও পোচেত্তিনো, তা এক কথায় মাস্টারক্লাস। ২০০২ সালের পর আবার বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল ইউএসএ (USA)।
ম্যাচের শুরু থেকেই আমেরিকার স্ট্র্যাটেজি ছিল অল-আউট অ্যাটাক। বসনিয়ার ডিফেন্স ভাঙতে বেশিক্ষণ সময় নেয়নি তারা। শুরুর দিকে ফোলারিন বালোগুনের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলেও, প্রথমার্ধের একেবারে শেষে ডেডলক ভাঙেন তিনিই।
- ৪৫ মিনিট (১-০): বসনিয়ার রক্ষণভাগের এক মারাত্মক ভুলে বল পেয়ে যান বালোগুন। ঘাড়ের কাছে ডিফেন্ডারকে নিয়েই ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান তিনি। এটি চলতি বিশ্বকাপে তাঁর তৃতীয় গোল।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের ৬৪ মিনিটে খলনায়ক বনে যান এই মার্কিন স্ট্রাইকার। প্রতিপক্ষের ফুটবলারকে একটি বিপজ্জনক ট্যাকল করায় ভার (VAR) রিভিউ দেখে রেফারি তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। বিশ্বকাপের নক-আউটে গোল করার পর একই ম্যাচে লাল কার্ড দেখার এই অনভিপ্রেত কীর্তি এর আগে ছিল একমাত্র ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের (২০০৬ সালের ফাইনালে ইতালির বিরুদ্ধে)।
১০ জন হয়ে যাওয়ার পর আমেরিকা চেপে ধরে বসনিয়া। কিন্তু পোচেত্তিনো জানতেন, শুধু ডিফেন্স করে ম্যাচ জেতা যাবে না। তিনি দ্রুত মাঝমাঠে ফুটবলার বাড়িয়ে পাল্টা আক্রমণের ছক কষেন। কোচের এই রণকৌশল সফল হয় ম্যাচের ৮২ মিনিটে।
বক্সের কিছুটা বাইরে ফাউল থেকে ফ্রি-কিক পায় আমেরিকা। দুর্দান্ত শটে বসনিয়ার জাল কাঁপিয়ে আমেরিকার জয় নিশ্চিত করেন মালিক টিলমান (Malik Tillman)।
ম্যাচের প্রধান পরিসংখ্যান ও টার্নিং পয়েন্ট
| সময় (মিনিট) | ঘটনা | ফলাফল |
| ৪৫’ | ফোলারিন বালোগুনের ফিল্ড গোল (আমেরিকা) | ১-০ |
| ৬৪’ | বালোগুনকে সরাসরি লাল কার্ড (আমেরিকা ১০ জন) | ১-০ |
| ৮২’ | মালিক টিলম্যানের দুর্দান্ত ফ্রি-কিক গোল (আমেরিকা) | ২-০ |
২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর বসনিয়ার ফুটবলাররা কার্যত মানসিক লড়াইয়ে হেরে যান। বাকি সময়ে আমেরিকার গোলকিপারকে তেমন কোনও পরীক্ষাই দিতে হয়নি।
২০০২ সালের পর আবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ আমেরিকার সামনে। তবে শেষ ষোলোয় তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী বেলজিয়াম। রোমেলু লুকাকু, কেভিন দ্য ব্রুইনদের বিরুদ্ধে লড়াইটা মোটেও সহজ হবে না। সবথেকে বড় ধাক্কা হলো, লাল কার্ডের খেসারত হিসেবে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে খেলতে পারবেন না আমেরিকার প্রধান বাজি ফোলারিন বালোগুন। বালোগুনকে ছাড়াই পোচেত্তিনো কীভাবে বেলজিয়াম বধের ব্লু-প্রিন্ট সাজান, এখন সেটাই দেখার।






