West Bengal Politics: জীবনতলা বাজারে পুলিশি হেফাজতে শওকত মোল্লা! দেখেই বাজল ‘মাছ চোর’ গান, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ছেলের বেআইনি ক্যাফে

source : সংবাদ প্রতিদিন
রাজ্যে ক্ষমতার অলিন্দ বদল হতেই বদলে গিয়েছে চেনা ছবিটা। দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া হেভিওয়েট নেতাদের পুলিশি হেফাজতে সাধারণ অপরাধীদের মতো রাস্তায় ঘোরানোর যে দৃশ্য ইদানীং বাংলায় দেখা যাচ্ছিল, এবার তা চাক্ষুষ করল ক্যানিংয়ের জীবনতলা। ভাঙড় বিস্ফোরণকাণ্ডের অন্যতম চক্রী তথা ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লাকে (Saokat Molla) বৃহস্পতিবার দুপুরে জীবনতলা বাজারে নিয়ে আসে পুলিশ। আর এই ‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’কে দেখা মাত্রই ক্ষোভে ফেটে পড়া জনতা বাজিয়ে দিল বিধানসভা ভোটের সময় ভাইরাল হওয়া সেই বিখ্যাত ‘মাছ চোর’ গান!
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভাঙড় কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সুপ্রিমোর পছন্দের প্রার্থী হয়ে আইএসএফ (ISF) নেতা নওশাদ সিদ্দিকির বিরুদ্ধে লড়াই করে পরাজিত হন শওকত মোল্লা। ভোটের ঠিক আগে শওকতকে কটাক্ষ করে একটি প্যারোডি গান সোশাল মিডিয়ায় মারাত্মক ভাইরাল হয়েছিল। যার কথা ছিল— ‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল ভাঙড়েতে এসে, বলির পাঁঠা প্রার্থী হয়ে খোকা গেল ফেঁসে… মাছচোর মাছচোর, শওকত তো মাছচোর!’
যদিও নওশাদ সিদ্দিকি একে ‘নিম্নরুচি’ আখ্যা দিয়ে আইএসএফের যোগ অস্বীকার করেছিলেন, কিন্তু গানটি আমজনতার মুখে মুখে ঘুরছিল। বৃহস্পতিবার জীবনতলা থানার পুলিশ যখন কঠোর নিরাপত্তায় শওকত মোল্লাকে নিয়ে জীবনতলা বাজারে তদন্তের স্বার্থে পুনর্নির্মাণ (Reconstruction) করতে নামায়, তখন রাস্তার দু’পাশের জনতা মোবাইল ও বক্সে সেই গানটি ফুল ভলিউমে বাজিয়ে দেয়। অনেকেই প্রাক্তন বিধায়ককে লক্ষ্য করে গালিগালাজ ও স্লোগান দিতে শুরু করেন। শওকতকে এভাবে দেখে স্থানীয় বিজেপি নেতা অলিরুল পিয়াদার নেতৃত্বে এলাকায় পথচলতি মানুষ ও গাড়িচালকদের মধ্যে দেদার মিষ্টি বিতরণও করা হয়।
ভাঙড়ে ভোটের ঠিক আগে হওয়া এক ভয়াবহ বিস্ফোরণকাণ্ডে এনআইএ (NIA)-এর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন শওকত মোল্লা। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে একটি গুরুতর ধর্ষণ মামলাও রুজু হয়, যার ভিত্তিতে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয় জীবনতলা থানার পুলিশ। একসময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ এই নেতার এমন পরিণতি দেখে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
কেবল শওকত মোল্লাকে বাজারে ঘোরানোই নয়, বৃহস্পতিবার সকালে মোল্লা পরিবারের রাজকীয় সাম্রাজ্যে চলল প্রশাসনের বুলডোজার।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার মাতলার চর বেআইনিভাবে দখল করে শওকতপুত্র ইমরান মোল্লা গড়ে তুলেছিলেন এক বিলাসবহুল ক্যাফে, যার নাম ছিল ‘অরণ্যের কূলে’। সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখে জেলা প্রশাসন এটিকে সম্পূর্ণ বেআইনি তকমা দেয়।
প্রশাসনের তরফে ইমরান মোল্লাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ২৯ জুনের মধ্যে নিজ দায়িত্বে ক্যাফেটি ভেঙে ফেলার। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করায় আজ, ২ জুলাই সকালে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও বুলডোজার নিয়ে গিয়ে আলিশান ‘অরণ্যের কূলে’ ক্যাফেটি সম্পূর্ণ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন।
শওকত মোল্লার আজকের জোড়া ধাক্কা এক নজরে:
| সময় | স্থান | ঘটনা | জনতা/প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া |
| সকাল | মাতলার চর | পুত্র ইমরানের বেআইনি ক্যাফে ‘অরণ্যের কূলে’ উচ্ছেদ | প্রশাসন বুলডোজার দিয়ে বেআইনি নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেয়। |
| দুপুর | জীবনতলা বাজার | ধর্ষণ ও বিস্ফোরণ মামলায় ধৃত শওকতকে নিয়ে পুলিশি পুনর্নির্মাণ | জনতা ‘মাছ চোর’ গান বাজায়, বিজেপি মিষ্টি বিতরণ করে। |
একসময় যাঁর ইশারায় ভাঙড় থেকে ক্যানিং কাঁপত, আজ সেই শওকত মোল্লার ছেলের বেআইনি সম্পত্তিতে চলছে বুলডোজার, আর খোদ প্রাক্তন বিধায়ককে পুলিশি পাহারায় রাস্তায় চোরের মতো হাঁটতে হচ্ছে। বাংলার রাজনীতির এই আমূল পরিবর্তন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ উগরে দেওয়ার ধরণ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আইন এবং জনতা—কারও চোখেই পার পাচ্ছেন না অপরাধীরা।






