Salman Khan House Firing Case: ‘ন্যায্য বিচার চাই’, তিহার জেলে বসেই সলমনের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে গুলিবৃষ্টির মামলায় আত্মসমর্পণের আর্জি গ্যাংস্টার আনমোলের

source : সংবাদ প্রতিদিন
আজ থেকে ঠিক দু’বছর আগে, ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল অর্থাৎ পয়লা বৈশাখের সকালে কেঁপে উঠেছিল মুম্বইয়ের বান্দ্রা অঞ্চল। বলিউড সুপারস্টার সলমন খানের (Salman Khan) আবাসন ‘গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট’-এর বাইরে সাতসকালে মোটরবাইকে এসে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়েছিল দুই দুষ্কৃতী। কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগের পর থেকেই বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নিশানায় থাকা ভাইজানের বাড়ির এই হামলার ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছিল গোটা দেশে। মার্কিন মুলুকে বসে এই হামলার ছক কষা লরেন্স বিষ্ণোইয়ের (Lawrence Bishnoi) ভাই আনমোল বিষ্ণোই (Anmol Bishnoi) এবার এই মামলায় নাটকীয়ভাবে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করলেন।
মুম্বইয়ের বিশেষ এমসিওসিএ (MCOCA) আদালতে আনমোল বিষ্ণোইয়ের আইনজীবীর দাখিল করা আবেদন অনুযায়ী, সলমনের বাড়ির সামনে গুলি চালানোর মামলায় তিনি স্বেচ্ছায় আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে চান। আবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ অংশগ্রহণ এবং নিজের জন্য একটি ‘ন্যায্য বিচার’ (Fair Trial) নিশ্চিত করার স্বার্থেই এই আত্মসর্মপণ প্রয়োজন।
বর্তমানে দিল্লির তিহার জেলে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে বন্দি রয়েছেন লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই অনমোল। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ (NIA)-এর দায়ের করা একটি হাই-প্রোফাইল ‘সন্ত্রাসবাদ ও গ্যাংস্টার যোগসাজশ’ মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। যেহেতু তিনি ইতিমধ্যেই অন্য মামলায় দিল্লির জেলে বন্দি, তাই মুম্বইয়ের আদালতে সশরীরে হাজির হওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। এই কারণে তিনি আদালতের কাছে আর্জি জানিয়েছেন:
“ন্যায্য বিচারের স্বার্থে আমি চলতি বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করতে চাই। তবে যেহেতু আমি তিহার জেলে অন্য মামলায় হেফাজতে রয়েছি, তাই আমাকে এই মামলায় ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হোক।”
একই সঙ্গে, আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর আত্মসমর্পণ নথিভুক্ত করার জন্য মুম্বই আদালত যাতে তিহার জেল কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে একটি ‘প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট’ জারি করে, সেই আবেদনও করেছেন তাঁর আইনজীবী।
২০২৪ সালের এপ্রিলে সলমনের বাড়ির সামনে হামলার পর বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সমাজমাধ্যম হ্যান্ডেল থেকে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে সাফ লেখা ছিল— “এ তো শুধু ট্রেলার ছিল”। মুম্বই পুলিশ এই ঘটনায় কঠোর ‘মহারাষ্ট্র কন্ট্রোল অব অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যাক্ট’ (MCOCA) ধারা প্রয়োগ করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসেই আনমোল বিষ্ণোই এবং রোহিত গোদরা এই হামলার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছিলেন।
হামলার পর আন্তর্জাতিক স্তরে চাপ সৃষ্টি করে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে অনমোল বিষ্ণোইকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) থেকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হয়। ভারতে পা রাখামাত্রই এনআইএ তাঁকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা তাদের ‘সন্ত্রাস-গ্যাংস্টার নেটওয়ার্ক’ সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার করে তিহার জেলে পাঠায়।
এক নজরে সলমন খান গুলিকান্ড ও আনমোলের প্রোফাইল:
| ঘটনার তারিখ | হামলার স্থান | মূল ষড়যন্ত্রকারী | বর্তমান আইনি পদক্ষেপ |
| ১৪ এপ্রিল, ২০২৪ | গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট, বান্দ্রা (মুম্বই) | আনমোল বিষ্ণোই ও রোহিত গোদরা (আমেরিকায় বসে ছক) | ২০২৫-এর নভেম্বরে আমেরিকা থেকে ভারতে প্রত্যর্পণ। বর্তমানে দিল্লির তিহার জেলে বন্দি। |
| ৩ জুলাই, ২০২৬ (আজ) | মুম্বই বিশেষ MCOCA আদালত | আনমোলের আইনজীবী মারফত আবেদন | সলমনের বাড়ি গুলিকাণ্ডে ট্রায়ালের মুখোমুখি হতে আত্মসমর্পণের আবেদন ও প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করার আর্জি। |
একসময় সুদূর আমেরিকা থেকে সোশাল মিডিয়ায় সলমন খানকে হুমকি দেওয়া গ্যাংস্টার আজ ভারতের কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত তিহার জেলের অন্ধকার কুঠুরিতে বন্দি। মুম্বই পুলিশের কঠোর এমসিওসিএ আইনের হাত থেকে বাঁচা সহজ নয় জেনেই, কি আনমোল আইনের পথে হেঁটে ‘ন্যায্য বিচার’ পাওয়ার কৌশল সাজাচ্ছেন? মুম্বইয়ের বিশেষ আদালত এই আত্মসমর্পণের আবেদন এবং প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটাই দেখার।






