Hrithik Sussanne Divorce: হৃত্বিকের থেকে ৪০০ কোটি টাকা খোরপোশ নেন সুজান? ১২ বছর পর ‘মিথ্যা গুঞ্জন’ নিয়ে বিস্ফোরক দিদি ফারহা খান আলি

source : সংবাদ প্রতিদিন
২০০০ সালের ২০ ডিসেম্বর ভালোবেসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন বলিউড সুপারস্টার হৃত্বিক রোশন (Hrithik Roshan) এবং সুজান খান (Sussanne Khan)। কিন্তু ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর তাসের ঘরের মতো ভেঙে যায় তাঁদের ১৫ বছরের সাজানো সংসার। সেই সময় বলিউডের এই হাই-প্রোফাইল বিচ্ছেদ নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। আর এই বিচ্ছেদের সমান্তরালে যে গুঞ্জনটি সবচেয়ে বেশি ডালপালা মেলেছিল, তা হলো— খোরপোশ বা অ্যালিমনি (Alimony) বাবদ হৃত্বিকের থেকে ৪০০ কোটি টাকার মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়েছেন সুজান। দীর্ঘ ১২ বছর পর অবশেষে সেই ‘মিলিয়ন ডলার’ প্রশ্নের সত্যতা আড়ালে থাকা পর্দা ফাঁস করলেন সুজানের দিদি ফারহা খান আলি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সুজানের বোন তথা নামী জুয়েলারি ডিজাইনার ফারহা খান আলি এই ৪০০ কোটির দাবিকে স্রেফ ‘মিথ্যা’ ও ‘ভিত্তহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। আজও যখন সমাজমাধ্যমে বা মানুষের মুখে এই ৪০০ কোটির খোরপোশের চর্চা শোনেন, তখন তাঁদের পরিবারের খুব খারাপ লাগে বলে জানান ফারহা।
ফারহা স্পষ্ট ভাষায় বলেন:
“আমার বোন এক পয়সাও নেয়নি। আমরা এমন একটি পরিবারে বড় হয়েছি যেখানে আমাদের মা শিখিয়েছেন যে, টাকার চেয়ে সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সুজান খুব সুন্দরভাবে নিজেকে পরিচালনা করেছে। ও অর্থলোভী নয়। ও অত্যন্ত মার্জিত এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে। হৃত্বিকও অসাধারণ মানুষ। সম্পর্ক ভেঙেছে, তা বলে সেটা নিয়ে অযথা কদর্য চর্চা কাম্য নয়।”
ফারহার দাবি, হৃত্বিক ও সুজানের ডিভোর্স ছিল অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং সম্পূর্ণ পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে। কোনও প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিদীপ্ত মানুষের মতো তাঁরা পরিস্থিতি সামলেছেন।
বিবাহবিচ্ছেদ মানেই যে দুটি পরিবারের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বা আজীবন শত্রুতা, এই ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছেন হৃত্বিক-সুজান। ফারহা জানিয়েছেন, বিয়ের সম্পর্ক টিকতে না পারলেও আজও হৃত্বিকের সঙ্গে সুজানের যোগাযোগ চমৎকার। শুধু তাই নয়, প্রাক্তন শ্বশুর রাকেশ রোশন এবং শাশুড়ি পিঙ্কি রোশন আজও সুজানকে আগের মতোই ভালোবাসেন ও স্নেহ করেন।
সাক্ষাৎকারে ফারহা জানান, ২০১৪ সালে বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হওয়ার পর যখন এই ৪০০ কোটির গুজব চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন তিনি বোন সুজানকে বহুবার প্রকাশ্যে মুখ খোলার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সুজান তাতে রাজি হননি।
বোন সুজানের সেই মনোভাবের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ফারহা বলেন,
- সুজানের যুক্তি: “আমি ওকে বলেছিলাম, এসব গুজবের প্রতিবাদ করো না কেন? তখন ও বলেছিল— মানুষ আমার সম্পর্কে কী ভাবল, তাতে আমার কিছু যায় আসে না।”
- পরিবারের শিক্ষা: ফারহা জানান, তাঁদের পরিবারের সবাই নিজের মতো জীবন উপভোগ করতে ভালোবাসেন। অপরিচিত বা বাইরের কেউ তাঁদের জীবন নিয়ে কী মন্তব্য করল, তা সুজানের কাছে কখনই প্রাধান্য পায়নি।
এক নজরে হৃত্বিক-সুজান বিচ্ছেদ বিতর্ক:
| গুজবের বিষয় | আসল সত্য (ফারহার বয়ান অনুযায়ী) | বর্তমান পারিবারিক সম্পর্ক |
| খোরপোশ বাবদ ৪০০ কোটি টাকা দাবি। | সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সুজান এক পয়সাও নেননি। | অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ। রাকেশ ও পিঙ্কি রোশনের সঙ্গে সুজানের সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। |
| বিচ্ছেদের ধরন নিয়ে বিতর্ক। | কোনো তিক্ততা ছিল না, সম্পূর্ণ পারস্পরিক বোঝাপড়া। | দু’জনেই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মতো সুন্দরভাবে পরিস্থিতি সামলেছেন। |
বলিউডের গসিপ ম্যাগাজিন বা সোশাল মিডিয়ার ট্রোল পেজগুলি অনেক সময়ই সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মুখরোচক গল্প তৈরি করে। হৃত্বিক-সুজানের ক্ষেত্রেও এই ৪০০ কোটির তত্ত্বটি ছিল তেমনই এক কাল্পনিক গল্প। দীর্ঘ ১২ বছর পর ফারহা খান আলির এই স্পষ্টীকরণ শুধু সুজানের ওপর লাগা ‘অর্থলোভী’ তকমাকেই মুছে দিল না, বরং প্রমাণ করল যে সম্পর্কের শেষ মানেই সৌজন্যবোধের শেষ নয়।






