Ayodhya Ram Mandir Theft: রামমন্দিরে কোটি কোটির প্রণামী লুটে নয়া মোড়! ট্রাস্টের পদত্যাগী সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ আইনজীবীদের, পাশে বিজেপি

SOURCE : আনন্দবাজার
অযোধ্যার রামমন্দিরে (Ayodhya Ram Mandir) গত দু’বছরে ভক্তদের দেওয়া কয়েক কোটি টাকার নগদ অর্থ এবং মূল্যবান সোনা-দানা চুরির ঘটনায় এবার আইনি জালে জড়ালেন ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর সদ্য পদত্যাগী সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই (Champat Rai)। বৃহস্পতিবার অযোধ্যার স্থানীয় আইনজীবীদের একাংশ রাম জন্মভূমি থানায় গিয়ে চম্পতের বিরুদ্ধে চুরিতে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলে একটি লিখিত ডায়েরি করেন। এই ঘটনার পর উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি তথা দেশের হিন্দুত্ববাদী শিবিরের অন্দরে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
পুলিশের গঠিত ‘বিশেষ তদন্তকারী দল’ (SIT) রামমন্দিরের ভেতরের ৪৫ দিনের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে দেখেছে। তাতে দেখা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া আট অভিযুক্তের মধ্যে পাঁচ জন সরাসরি দানবাক্স ও টাকা গণনার টেবিল থেকে সুকৌশলে নগদ ও গয়না সরাচ্ছেন।
তদন্তে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। যে আউটসোর্সিং সংস্থার মাধ্যমে টাকা গণনার কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল, তারা জানিয়েছে যে এই কর্মীদের নাম সুপারিশ করেছিল স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-এর স্থানীয় শাখার কয়েকজন কর্মী। তবে তদন্তকারী দলের একটি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে:
“স্টেট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রায় তিন মাস আগেই এই প্রণামী গণনা প্রক্রিয়ায় ‘সন্দেহজনক অনিয়ম’ লক্ষ্য করেছিল। তারা ট্রাস্টকে লিখিতভাবে সতর্ক করে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পরিবর্তনের সুপারিশও করেছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
এই কোটি কোটি টাকার চুরির ঘটনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রামশঙ্কর যাদব ওরফে তিনু যাদব। তিনি একসময় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)-এর সহ-সভাপতি চম্পত রাইয়ের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ছিলেন। অভিযোগ, চম্পতের প্রভাব খাটানোতেই তিনু দানবাক্স ও প্রণামী হেফাজতে রাখার মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। দানবাক্সের চাবি সবসময় তিনুর কাছেই থাকত এবং ট্রাস্টের সদস্যদের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তিনি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারীভাবে কাজ করতেন। পরে তিনি তাঁর ভাইপো মণীশ যাদবকেও এই কাজে ঢুকিয়ে দেন এবং মণীশের বাড়ি থেকেই চুরির টাকার একাংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এই স্ক্যাম প্রকাশ্যে আসার পরেই গত ২৫ জুন চম্পত রাই সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে এবং অনিল মিশ্র ট্রাস্টি পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন।
রামমন্দিরের এই মহা-কেলেঙ্কারি নিয়ে উত্তরপ্রদেশ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের অন্দরে স্পষ্ট ফাটল দেখা দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) এই ঘটনাকে ‘রামভক্তদের ভাবাবেগে গভীর আঘাত’ বলে বর্ণনা করে দোষীদের কঠোরতম শাস্তির অঙ্গীকার করেছেন।
অন্যদিকে, যোগী-বিরোধী শিবিরের নেতা হিসেবে পরিচিত উপমুখ্যমন্ত্রী কেশবপ্রসাদ মৌর্য চম্পত রাইকে সম্পূর্ণ ‘ক্লিনচিট’ দিয়ে বলেছেন:
“যাঁরা শ্রীরাম জন্মভূমির জন্য মহান তপস্বীদের মতো অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাঁদের মধ্যে চম্পত ও অন্যেরাও রয়েছেন। এই ঘটনায় তাঁরা গভীরভাবে মর্মাহত। রামমন্দিরে অনুদানের বিষয়টি নিয়ে এত বড় বিতর্ক তৈরি করার কোনও প্রয়োজন নেই।”
পদত্যাগী চম্পত রাইও এটিকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তিনি উল্টে দাবি করেছেন, মূল অভিযুক্ত তিনু যাদব গ্রেফতার হওয়ার ঠিক আগে সমাজবাদী পার্টির এক নেতাকে পুরো বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছিলেন।
এক নজরে রামমন্দির প্রণামী চুরিকাণ্ড:
| ঘটনার বিবরণ | মূল অভিযুক্ত | ট্রাস্টের পদক্ষেপ | রাজনৈতিক অবস্থান |
| গত ২ বছরে রামমন্দিরের দানবাক্স থেকে কোটি কোটি টাকা ও অলঙ্কার চুরি। | তিনু যাদব (চম্পত রাইয়ের প্রাক্তন গাড়িচালক) ও মণীশ যাদব-সহ মোট ৮ জন ধৃত। | সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই ও ট্রাস্টি অনিল মিশ্রের পদত্যাগ। | যোগী আদিত্যনাথ কড়া শাস্তির পক্ষে; কেশবপ্রসাদ মৌর্য চম্পতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। |
ভগবান রামের মন্দিরে ভক্তদের ভক্তিভরে দেওয়া দান যেভাবে খোদ ট্রাস্টের ঘনিষ্ঠ মহলের দ্বারা লুটের শিকার হলো, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক বলে মনে করছেন সাধারণ রামভক্তরা। এখন স্থানীয় আইনজীবীদের দায়ের করা এই এফআইআর-এর ভিত্তিতে পুলিশ চম্পত রাইকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করে কিনা এবং এসআইটি (SIT) এই কোটি কোটি টাকার চুরির নেপথ্যে থাকা বাকি রাঘববোয়ালদের টেনে বের করতে পারে কিনা, সেটাই দেখার।






