Jatinga Bird Mystery: কুয়াশা সরালেই মৃত্যুর উৎসব! অসমের জাটিঙ্গায় কেন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি আত্মহত্যা করে? কীভাবে যাবেন এই রহস্যের দেশে?

source : সংবাদ প্রতিদিন
কুয়াশার চাদর সরালেই যেন এক রূপকথার দেশ! তবে সেই রূপকথা আনন্দের নয়, এক গভীর বিষাদগাথার। অসমের পাহাড়ি কোলে লুকিয়ে থাকা একচিলতে গ্রাম, নাম তার জাটিঙ্গা (Jatinga)। উত্তর-পূর্ব ভারতের এই ছোট্ট জনপদ বছরের নির্দিষ্ট সময়ে হয়ে ওঠে অপার্থিব। মেঘেদের দেশে ডানা মেলতে মেলতে হঠাৎই এই সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি। পাখিদের এহেন ‘আত্মহত্যা’ দেখতে এবং এই চিরন্তন রহস্যের সাক্ষী হতে প্রতি বছর জাটিঙ্গায় ভিড় জমান দেশ-বিদেশের পর্যটকরা।
অসমের ডিমা হাসাও জেলার এই গ্রামে মূলত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস নাগাদ দেখা যায় এক আশ্চর্য ও হাড়হিম করা দৃশ্য। সূর্যাস্ত হলেই উত্তর দিক থেকে উড়ে আসে বক, মাছরাঙা, কালি বকের মতো প্রায় ৪৪ প্রজাতির স্থানীয় পাখি। তারপরই তারা কোনও এক অজানা আকর্ষণে দ্রুত গতিতে বাড়ি বা গাছের গায়ে আছড়ে পড়ে প্রাণ হারায়।
স্থানীয়দের একাংশ মনে করেন, কোনও অশুভ আত্মার অভিশাপেই নাকি এই কাণ্ড ঘটে। তবে পক্ষীবিদদের মতে, বর্ষার শেষে বন্যার কারণে বাসা হারিয়ে স্থানীয় পাখিরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। রাতের অন্ধকারে গ্রামের জোরালো আলো দেখে বিভ্রান্ত হয়ে তারা ছুটে আসে এবং কুয়াশার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে বা দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে মারা যায়। অনেকে আবার এর পিছনে পাহাড়ি অঞ্চলের ভূ-চুম্বকীয় বা বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনের তত্ত্বও খাড়া করেছেন।
কীভাবে যাবেন এই রহস্যের দেশে?
কলকাতা বা রাজ্যের যেকোনো প্রান্ত থেকে জাটিঙ্গা যাওয়া এখন অনেকটাই সহজ।
- বিমান বা ট্রেন পথ: প্রথমে আপনাকে পৌঁছাতে হবে অসমের রাজধানী গুয়াহাটিতে। গুয়াহাটি থেকে জাটিঙ্গার দূরত্ব প্রায় ৩৩০ কিলোমিটার।
- শৈল শহর হাফলং হয়ে: জাটিঙ্গা যাওয়ার সবচেয়ে সুবিধা হয় অসমের একমাত্র শৈল শহর হাফলং (Haflong) হয়ে গেলে। হাফলং থেকে জাটিঙ্গা মাত্র ৯ কিলোমিটারের পথ। সেখান থেকে সহজেই অটো রিকশা চেপে পৌঁছে যাওয়া যায় এই পাখি মরণ-মেলা দেখতে।
- বাস রুট: এছাড়া গুয়াহাটি থেকে শিলচরগামী বাসে চেপেও সরাসরি জাটিঙ্গা ক্রসিংয়ে নেমে যাওয়া সম্ভব।
কোথায় থাকবেন?
জাটিঙ্গা ভ্রমণের জন্য থাকার জায়গা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। পর্যটকদের জন্য মূলত দুটি দারুণ বিকল্প রয়েছে:
বিকল্প ১: হাফলং-এর হোটেল
জাটিঙ্গার ঠিক পাশেই অবস্থিত মনোরম পাহাড়ি শহর হাফলং। পর্যটকদের থাকার জন্য হাফলং-এ বিভিন্ন বাজেটের সুন্দর সুন্দর হোটেল এবং হোমস্টে পেয়ে যাবেন। সেখান থেকে ডে-ট্যুর হিসেবে জাটিঙ্গা ঘুরে নেওয়া যায়।
বিকল্প ২: জাটিঙ্গা বার্ড ওয়াচিং সেন্টার
যদি আপনি আরও বেশি রোমাঞ্চ অনুভব করতে চান, তবে জাটিঙ্গা গ্রামেই রয়েছে একটি সরকারি বার্ড ওয়াচিং সেন্টার (Bird Watching Center)। জেলা বন দফতরের (District Forest Office) কাছ থেকে আগাম অনুমতি নিয়ে আপনি সেখানেও রাত্রিযাপনের এক অদ্ভুত ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা গায়ে মাখতে পারেন।
এক নজরে জাটিঙ্গা ট্রিপ প্ল্যানার:
| ভ্রমণের সেরা সময় | নিকটবর্তী রেল স্টেশন/শহর | প্রধান আকর্ষণ | যাতায়াতের মাধ্যম |
| সেপ্টেম্বর – অক্টোবর (পুজোর ছুটি) | হাফলং (মাত্র ৯ কিমি দূরে) | ৪৪ প্রজাতির পাখির রহস্যময় আগমন ও ওয়াচ টাওয়ার থেকে পাখি দেখা। | গুয়াহাটি থেকে ট্রেন/বাসে হাফলং, সেখান থেকে অটো। |
মেঘ-পাহাড়ের লুকোচুরি, পাহাড়ি উপত্যকার ঠান্ডা হাওয়া আর ডানার স্পন্দনে লুকিয়ে থাকা এক চিরন্তন রহস্য—সব মিলিয়ে জাটিঙ্গা আপনার চেনা ভ্রমণ তালিকায় এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। এই পুজোর ছুটিতে একটু অন্যরকম অফবিট ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার স্বাদ পেতে আপনার ট্রাভেল ডায়েরিতে অবশ্যই রাখতে পারেন অসমের এই রহস্যময় জাটিঙ্গা গ্রামকে।







