Agra Crime News: পুণের পর আগ্রা! স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে খুন, দেহ লোপাট করতে বাথরুমের টাইলসের নিচে পুঁতে দিলেন স্ত্রী রুবি

source : সংবাদ প্রতিদিন
পুণেতে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রায় একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় (Agra)। দিল্লির ‘শ্রদ্ধা ওয়াকার’ বা পুণের ‘সিয়া’ হত্যাকাণ্ডের ধাঁচেই এবার আগ্রার ‘রুবি’ নিজের স্বামীকে খুন করে প্রমাণ লোপাট করতে বাছলেন নিজের বাড়ির বাথরুমকেই। প্রায় দেড় মাস ধরে নিখোঁজ থাকা স্বামীর দেহ নিজের বাথরুমের মেঝের নিচে পুঁতে রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপনের চেষ্টা করছিলেন স্ত্রী। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। পুলিশের তীক্ষ্ণ নজরদারিতে অবশেষে সামনে এলো এই হাড়হিম করা অপরাধ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম সুরেন্দ্র কুমার। গত ১৮ মে আচমকাই তিনি বাড়ি থেকে বেপাত্তা হয়ে যান। সুরেন্দ্রর নিখোঁজ হওয়ার কথা তাঁর পরিবারকে স্ত্রী রুবি নিজেই জানিয়েছিলেন। তবে আশ্চর্যজনকভাবে তিনি পুলিশে ডায়েরি করতে চাননি। পরিবারকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, সুরেন্দ্র কোথাও গিয়েছেন এবং নিজেই ফিরে আসবেন। অবশেষে চাপের মুখে পড়ে গত ২৬ মে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ সুরেন্দ্রর কোনো খোঁজ পাচ্ছিল না। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ সুরেন্দ্রর স্ত্রী রুবিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। রুবির বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মেলায় তদন্তকারীরা তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। তল্লাশি চলাকালীন রুবির আচরণ অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক ঠেকে পুলিশের কাছে।
এরই মধ্যে সুরেন্দ্রর ভাই পুলিশকে কিছু গোপন তথ্য দেন, যার ভিত্তিতে তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়। ঘরের বাথরুমে তল্লাশি চালানোর সময় তদন্তকারীদের নজর যায় মেঝের ওপর। তাঁরা লক্ষ্য করেন, বাথরুমের একটা অংশে নতুন টাইলস বসানো হয়েছে এবং নতুন প্লাস্টারের দাগ স্পষ্ট। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তড়িঘড়ি মেঝে খোঁড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
মেঝে খুঁড়তেই কপালে চোখ ওঠে তদন্তকারীদের! টাইলসের নিচে মাটির গভীর থেকে উদ্ধার হয় নিখোঁজ যুবক সুরেন্দ্র কুমারের পচাগলা মৃতদেহ। খুনের পর দেহটি যাতে কেউ কোনোদিন খুঁজে না পায়, সেই কারণেই বাথরুমের মেঝে খুঁড়ে তা কবর দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশি জেরার মুখে পড়ে অভিযুক্ত গৃহবধূ রুবি নিজের স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। সুরেন্দ্রর ভাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সুরেন্দ্র প্রচণ্ড মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশা করা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে রোজই তুমুল অশান্তি ও মারপিট লেগে থাকত। তবে এই খুনের পেছনে কেবলই পারিবারিক বিবাদ নাকি বিবাহবহির্ভূত কোনো সম্পর্ক বা পরকীয়ার যোগসূত্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এক নজরে আগ্রা হত্যাকাণ্ড:
| মৃতের নাম | মূল অভিযুক্ত | নিখোঁজের সময়কাল | দেহ উদ্ধারের স্থান | খুনের পদ্ধতি |
| সুরেন্দ্র কুমার | স্ত্রী রুবি (ধৃত) | মে ১৮ থেকে টানা ৪৫ দিন | ঘরের বাথরুমের মেঝের নিচে (টাইলস চাপা দেওয়া) | খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে। |
পুলিশ এখন এই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে যে, বাথরুমের মেঝে খুঁড়ে দেহ মাটিচাপা দেওয়া এবং পুনরায় টাইলস বসানোর মতো কঠিন কাজে রুবিকে বাইরের কেউ সাহায্য করেছিল কিনা। যুবকের মৃতদেহটি ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
পারিবারিক অশান্তি বা ক্ষোভের জেরে অপরাধের পর দেহ এভাবে বাথরুমে বা ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার প্রবণতা ইদানীং অপরাধীদের মধ্যে কিলার সাইকোলজি হিসেবে বেশি দেখা যাচ্ছে। আগ্রা পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে বিষপ্রয়োগ বা ঘুমের ওষুধের সঠিক মাত্রা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট হওয়া যাবে। রুবির সাথে অন্য কারো যোগসাজশ প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।






