Fake Cop Arrested: পুলিশের উর্দি পরে ‘ডিউটি’, সেই সুবাদে বিয়েও! নতুন জামাইয়ের চালচলনে শাশুড়ির সন্দেহ হতেই পর্দাফাঁস ভুয়ো কনস্টেবলের

source : সংবাদ প্রতিদিন
কথায় বলে, ‘চোরের দশ দিন তো গৃহস্থের একদিন’। কিন্তু মুর্শিদাবাদের শক্তিপুরে যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে চোরের আয়ু ছিল বিয়ের পর মাত্র ৪ দিন! পুলিশের খাকি উর্দি আর জাল আইডেন্টিটি কার্ড দেখিয়ে দিব্যি ‘সৎপাত্র’ সেজে বিয়ে সেরে ফেলেছিলেন এক যুবক। ভেবেছিলেন সারাজীবন পুলিশের ভুয়ো দাপট দেখিয়েই কাটিয়ে দেবেন। কিন্তু নতুন জামাইয়ের চালচলন দেখেই খটকা লাগে শাশুড়ির। আর সেই শাশুড়ির ক্ষুরধার বুদ্ধিতেই বাসর ঘরের গন্ধ কাটার আগেই শ্রীঘরে ঠাঁই হলো ‘নকল’ পুলিশ জামাইয়ের।
ধৃত যুবকের নাম কামালউদ্দিন মির্জা। তাঁর আসল বাড়ি বীরভূমের লাভপুর থানার হাতিয়া গ্রামে। তবে বেশ কিছুদিন ধরে তিনি মুর্শিদাবাদের শক্তিপুরের লাহারপাড়া গ্রামে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন। এলাকার সাধারণ মানুষকে তিনি জানিয়েছিলেন যে, তিনি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি করেন। শুধু তাই নয়, নিজের পদমর্যাদা আরও ভারী করতে তিনি দাবি করতেন— তিনি খোদ শক্তিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বা ওসির (OC) নিরাপত্তার দায়িত্বে (বডিগার্ড) রয়েছেন।
প্রতিদিন নিয়ম করে পুলিশের খাকি পোশাক পরে ‘ডিউটি’তে বের হতেন কামালউদ্দিন। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারাও তাঁকে খাকি উর্দিতে দেখে বিন্দুমাত্র সন্দেহ করেননি। এই পুলিশি জাঁকজমক দেখেই এলাকারই এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর বিয়ের সম্বন্ধ আসে। ‘সরকারি চাকুরে জামাই’ হাতছাড়া করতে চাননি কনেপক্ষও। ফলে ধুমধাম করে গত ৩০ জুন চার হাত এক হয়ে যায়।
বিয়ের পর নতুন জামাই শ্বশুরবাড়িতেই ছিলেন। কিন্তু ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি, তার মধ্যেই জামাইয়ের কিছু আচার-আচরণ, কথাবার্তা এবং বাড়ির ভেতরের গতিবিধি দেখে খটকা লাগে কনের মায়ের। পুলিশের ডিউটির চেনা ছকের সঙ্গে জামাইয়ের রুটিন যেন কিছুতেই মিলছিল না।
কোনো ঝুঁকি না নিয়ে শাশুড়ি মা নিজেই সোজা হাজির হন শক্তিপুর থানায়। সেখানে ডিউটি অফিসারের কাছে গিয়ে জামাই কামালউদ্দিন মির্জার নাম-ধাম বলে খোঁজখবর শুরু করেন। শাশুড়ির মুখ থেকে জামাইয়ের বিবরণ শুনে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদেরও চোখ কপালে ওঠে! তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই নামের কোনো কনস্টেবল বা ওসির বডিগার্ড শক্তিপুর থানা তো বটেই, রাজ্য পুলিশের কোনো খাতাতেই নেই!
[ঘটনার টাইমলাইন]
৩০ জুন, ২০২৬: নিজেকে পুলিশ কনস্টেবল দাবি করে কামালউদ্দিনের ধুমধাম করে বিয়ে।
১-২ জুলাই, ২০২৬: জামাইয়ের রহস্যময় চালচলন লক্ষ্য করে শাশুড়ির মনে সন্দেহ তৈরি।
৩ জুলাই, ২০২৬ (শুক্রবার সকাল): শাশুড়ির থানায় গিয়ে খোঁজখবর ও লিখিত অভিযোগ দায়ের।
৩ জুলাই, ২০২৬ (শুক্রবার রাত): শক্তিপুর থানা পুলিশের অভিযানে ভুয়ো জামাই গ্রেপ্তার।
৪ জুলাই, ২০২৬ (শনিবার): ধৃত কামালউদ্দিনকে বহরমপুর জেলা আদালতে পেশ।
তদন্তে সিজার লিস্ট ও পুলিশের অনুমান
শাশুড়ির কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আর সময় নষ্ট করেনি শক্তিপুর থানার পুলিশ। শুক্রবার রাতেই অভিযান চালিয়ে কনের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় কামালউদ্দিনকে। ধৃতের ডেরা থেকে উদ্ধার হয়েছে:
- পুলিশের সম্পূর্ণ এক সেট নকল খাকি পোশাক (উর্দি)।
- নিখুঁতভাবে জালিয়াতি করে বানানো পুলিশের ভুয়ো পরিচয়পত্র (Fake ID Card)।
শনিবার সকালে ধৃত কামালউদ্দিন মির্জাকে বহরমপুর জেলা আদালতে তোলা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত স্বীকার করেছে যে কেবল বিয়ের বাজারে ভালো পাত্র হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতেই সে এই ছক কষেছিল। তবে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, কেবল বিয়ের জন্যই কি এই নকল রূপ, নাকি খাকি পোশাকের আড়ালে এলাকায় কোনো বড়সড় তোলাবাজি বা চাকরি দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারণার চক্র চালাচ্ছিল এই ভুয়ো পুলিশ।
জামাইয়ের এমন কীর্তিতে কনে এবং তাঁর পরিবার আপাতত লোকলজ্জা ও হতভম্বের ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পারছে না। তবে এলাকার মানুষ এখন ধন্য ধন্য করছেন ওই মহিলার উপস্থিত বুদ্ধির। বিয়ের পরপরই শাশুড়ি মা যদি সাহসিকতার সঙ্গে থানায় গিয়ে খোঁজ না নিতেন, তবে হয়তো এই ভুয়ো পুলিশের খপ্পরে পড়ে ওই তরুণীর জীবন আরও বড় বিপদের মুখে পড়তে পারত।






