UAPA Terrorist List: পাকিস্তান সীমান্ত পেরিয়ে বড় পদক্ষেপ মোদি সরকারের! জইশ ও লস্করের ২৩ জনকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ ঘোষণা অমিত শাহের মন্ত্রকের

source : সংবাদ প্রতিদিন
সীমান্ত পেরিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরে প্রক্সি ওয়ার বা ছায়া যুদ্ধ চালানো জঙ্গি সংগঠনগুলির কোমর ভাঙতে চূড়ান্ত আইনি পদক্ষেপ নিল ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA)। শনিবার কেন্দ্রের তরফে জারি করা এক বিশেষ গ্যাজেট নোটিফিকেশনে লস্কর-ই-তইবা (LeT), জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) এবং লস্করের শাখা সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF)-এর ২৩ জন সক্রিয় কুখ্যাত কমান্ডারকে ইউএপিএ (UAPA) আইনের অধীনে এককভাবে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বা ইন্ডিভিজুয়াল টেররিস্ট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
ড্রোন পাচার থেকে সেনা ঘাঁটিতে হামলা: মারাত্মক সব অভিযোগ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই ২৩ জনের বিরুদ্ধে জম্মু ও কাশ্মীরে উপত্যকার তরুণদের মগজধোলাই করে জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগ, সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ, পাকিস্তানে অস্ত্র প্রশিক্ষণ, ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্ত টপকে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার এবং ভারতে বড়সড় আত্মঘাতী হামলার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করার অকাট্য প্রমাণ মিলেছে।
তালিকায় বিশেষভাবে ঠাঁই পেয়েছে পহেলগাঁও হামলায় যুক্ত ‘টিআরএফ’ (TRF) কমান্ডাররা এবং লস্কর প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদের নতুন শাখা ‘জামাত-উদ-দাওয়া’-র বেশ কয়েকজন প্রথম সারির মাথা। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নামের মধ্যে রয়েছে:
- মাসুদ ইলিয়াস কাশ্মীরি: এই পাকিস্তানি জইশ জঙ্গি ২০২২ সালে জম্মুর সুঞ্জওয়ান সেনা ঘাঁটিতে (Sunjwan Army Camp) ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিল।
- মুহম্মদ মুসাদ্দিক: সুঞ্জওয়ান হামলার অন্যতম চক্রী এবং পাকিস্তান থেকে ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র ভারতে পাঠানোর মূল ইন-চার্জ।
এছাড়াও এই তালিকায় জায়গা পেয়েছে মুফতি মহম্মদ আসগর খান, হাফিজ আবদুল শুকুর, আবদুল্লাহ জেহাদি, ফিরদৌস আহমেদ ভাট, বিলাল আহমেদ মির, আবিদ কাইয়ুম লোন, নাজির আহমেদ গুজ্জার, আশফাক আহমেদ, ইমাদুল্লা মক্কি, সাইফুল্লা খালিদ, মহম্মদ ইয়াকুব, মাওলানা ইউসুফ তাইবি, ওয়াসিম নূর জাত, ওয়াইস ফারুক এবং কারি ইয়াকুব শেখ-এর মতো কুখ্যাত জঙ্গিরা।
কেন এই ইউএপিএ তালিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ?
২০১৯ সালে নরেন্দ্র মোদি সরকার প্রথমবার ইউএপিএ (UAPA) আইনে সংশোধন এনে কোনো সংগঠন ছাড়াও একক কোনো ব্যক্তিকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ ঘোষণার ক্ষমতা পায়। সেই বছর প্রথম দফায় দাউদ ইব্রাহিম, হাফিজ সইদ, জাকিউর রহমান লকভি এবং মাসুদ আজহারকে এই তালিকায় ফেলা হয়েছিল। এবার সেই তালিকায় একসঙ্গে যোগ হলো আরও ২৩টি নাম।
এই ঘোষণার পর কী কী আইনি সুবিধা পাবে ভারত?
- NIA-এর ক্ষমতা বৃদ্ধি: এনআইএ এখন এই ২৩ জনের ভারতের মাটিতে থাকা সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবিলম্বে ক্রোক বা বাজেয়াপ্ত করতে পারবে।
- ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিশ: ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এবার আন্তর্জাতিক পুলিশ সংগঠন ‘ইন্টারপোল’ (Interpol)-এর কাছে এই ২৩ জনের বিরুদ্ধে নিখুঁত ডসিয়ার ও তথ্যপ্রমাণ পেশ করে রেড কর্নার নোটিশ জারি করার আবেদন জানাতে পারবে, যা পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও কোণঠাসা করবে।
এক নজরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গ্যাজেট নোটিফিকেশন:
| মোট ঘোষিত সন্ত্রাসবাদী | জাতীয়তা | যুক্ত থাকা মূল জঙ্গি সংগঠন | মূল অপরাধ ও নাশকতার ক্ষেত্র |
| ২৩ জন | ১৭ জন পাকিস্তানি নাগরিক, ০৬ জন ভারতীয় নাগরিক। | জইশ-ই-মহম্মদ, লস্কর-ই-তইবা, টিআরএফ, জামাত-উদ-দাওয়া। | সুঞ্জওয়ান সেনা ঘাঁটিতে হামলা, পহেলগাঁও নাশকতা, ড্রোনে অস্ত্র পাচার ও অনুপ্রবেশ। |
যদিও এই ২৩ জনের প্রত্যেকেই বর্তমানে পাকিস্তানের মাটিকে সেফ হেভেন বা নিরাপদ আস্তানা বানিয়ে ভারতের সীমানার বাইরে রয়েছে, তাও ভারতের এই কঠোর পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও উপত্যকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। এর ফলে কাশ্মীর উপত্যকায় লুকিয়ে থাকা এদের স্থানীয় নেটওয়ার্ক বা ‘স্লিপার সেল’গুলির আর্থিক জোগানের রাস্তা পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।






