High Voltage Drama in Gonda: প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে সংসার করার জেদ! ৩ সন্তানকে নিয়ে ১০০ মিটার উঁচু টাওয়ারে উঠলেন মহিলা, ১০ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস নাটক

source : এইসময় অনলাইন
শোলে সিনেমার ধর্মেন্দ্রর সেই বিখ্যাত ‘ট্যাঙ্ক ড্রামা’-র কথা মনে আছে? সিনেমার সেই দৃশ্যকেও যেন হার মানাল বাস্তবের এক ঘটনা। তবে এবার কোনো বীরু একা নয়, সঙ্গে ছিল তাঁর তিন তিনটে নিষ্পাপ সন্তান! উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) গোন্ডা জেলায় নিজের প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে পুনর্মিলন এবং তাঁর সঙ্গে সংসার করার দাবিতে ৩ সন্তানসহ প্রায় ১০০ মিটার উঁচু টাওয়ারে চড়ে বসলেন এক মহিলা। শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই হাইভোল্টেজ নাটক চলতে থাকে টানা ১০ ঘণ্টা।
‘বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ ও প্রতারণা’, ক্ষোভে টাওয়ারে মা ও সন্তানেরা
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলার বাড়ি গোন্ডা জেলার তরাবগঞ্জ গ্রামে। ওই গ্রামেরই বাসিন্দা রাম ইকবাল নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে কিছুদিন আগে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ ও প্রতারণা করার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তিনি। মহিলার দাবি, রাম তাঁকে বিয়ের কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে সহবাস করে এবং পরে তাঁকে সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করে অন্য জায়গায় চলে যায়।
মহিলার অভিযোগ, পুলিশ তাঁকে বারবার আশ্বাস দিয়েছিল যে রাম ইকবালকে ডেকে এনে মীমাংসা করা হবে, কিন্তু প্রশাসন সেই কথা রাখেনি। পুলিশের এই ‘নিষ্ক্রিয়তা’র প্রতিবাদে এবং রামের সঙ্গে সংসার করার জেদ নিয়েই শুক্রবার সকালে সন্তানদের নিয়ে গোন্ডা রেলওয়ে স্টেশনের (Gonda Railway Station) পাশে থাকা একটি উঁচু টাওয়ারে উঠে পড়েন তিনি।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে স্থানীয় পুলিশ ও রেল পুলিশের (GRP) আধিকারিকরা। নিচে দাঁড়িয়ে পুলিশ কর্মীরা যখন তাঁকে নিচে নেমে আসার জন্য অনুরোধ করতে শুরু করেন, জেদের বশে সন্তানদের নিয়ে টাওয়ারের আরও উঁচুতে উঠে যান ওই মহিলা।
[গোন্ডার টাওয়ার নাটকের টাইমলাইন]
১ জুন, ২০২৬: প্রথমবার রাম ইকবালকে ডেকে আনার দাবিতে অন্য একটি টাওয়ারে ওঠেন মহিলা।
৩ জুলাই (শুক্রবার সকাল): ৩ সন্তানকে সাথে নিয়ে ১০০ মিটার উঁচু রেল টাওয়ারে চড়লেন মা।
৩ জুলাই (দুপুর - বিকেল): ১০ ঘণ্টা ধরে চলল মনস্তাত্ত্বিক বোঝাপড়া, ওপরে পাঠানো হলো খাবার।
৩ জুলাই (শুক্রবার সন্ধে): পুলিশের আশ্বাসের পর অবশেষে সন্তানদের নিয়ে নিচে নামলেন মহিলা।
১০ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস উদ্ধারকার্য ও পুলিশের বড় আশ্বাস
সময় যত বাড়ছিল, ১০০ মিটার উঁচুতে থাকা ৩টি শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে ততটাই উদ্বেগ বাড়ছিল নিচে থাকা উদ্ধারকারীদের। মহিলাকে শান্ত করতে এবং শিশুদের মুখে খাবার তুলে দিতে উদ্ধারকারী দলের কয়েকজন সদস্য ঝুঁকি নিয়ে টাওয়ারে ওঠেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে মনস্তাত্ত্বিক বোঝাপড়া।
এই বিষয়ে ওই এলাকার পুলিশ আধিকারিক আনন্দ রাজ (Anand Raj) জানিয়েছেন, অভিযুক্ত রাম ইকবাল বর্তমানে দিল্লিতে আছেন। পুলিশ প্রশাসন তাঁকে ডেকে এনে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবে এবং মহিলার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেবে— এই মর্মে অকাট্য আশ্বাস দেওয়ার পরই সুর নরম করেন তিনি। শুক্রবার সন্ধে নাগাদ সন্তানদের নিয়ে নিরাপদে নিচে নেমে আসেন ওই মহিলা।
এক নজরে গোন্ডার টাওয়ার কাণ্ড:
| ঘটনার স্থান | মহিলার মূল দাবি | অভিযুক্ত ব্যক্তি ও স্থান | উদ্ধারকার্যের সময়কাল | পুলিশের বর্তমান পদক্ষেপ |
| গোন্ডা স্টেশন সংলগ্ন টাওয়ার, উত্তরপ্রদেশ। | প্রতারক প্রেমিকের সাথে পুনর্মিলন ও সংসার করা। | রাম ইকবাল (বর্তমানে দিল্লিতে পলাতক)। | টানা ১০ ঘণ্টা (৩ জুলাই, শুক্রবার)। | ধর্ষণের মামলায় চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবারের ঘটনার তদন্ত চলছে। |
পুলিশ জানিয়েছে, ওই মহিলা রাম ইকবালের বিরুদ্ধে যে ধর্ষণের অভিযোগ করেছিলেন, তার ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই আদালতে চার্জশিট বা দোষারোপপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে এভাবে নিজের এবং তিন সন্তানের জীবনকে ১০০ মিটার উঁচুতে বাজি রেখে দাবি আদায়ের এই বিপজ্জনক পথকে একেবারেই সমর্থন করছে না প্রশাসন। শুক্রবারের এই চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে মহিলার বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ করা হবে কি না, তা পুরো ঘটনা তদন্তের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।






