Age is Just a Number: ১১৬ বছরের বয়সেও অটুট আত্মবিশ্বাস! ৯ কিলোমিটার পাহাড়ি রাস্তা ও ৩৫৫০টি সিঁড়ি ভেঙে তিরুপতি মন্দিরে পুজো দিলেন কর্নাটকের বৃদ্ধা, মুগ্ধ চন্দ্রবাবু নাইডু

source : সংবাদ প্রতিদিন
ভক্তি আর আত্মবিশ্বাসের মেলবন্ধন ঘটলে মানুষ যে অসাধ্য সাধন করতে পারে, তার এক জীবন্ত উদাহরণ তৈরি হলো অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) পবিত্র তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানে (Tirumala Tirupati)। বয়স সেখানে কেবলই একটা সংখ্যা মাত্র। জরাজীর্ণ শরীরকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, পাহাড়ি চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ভগবান ভেঙ্কটেশ্বরের (Lord Venkateswara) দরবারে হাজির হলেন কর্নাটকের ১১৬ বছরের এক বৃদ্ধা। শুধু হাজির হওয়াই নয়, ৯ কিলোমিটার দুর্গম পথ ও সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি সিঁড়ি তিনি ভাঙলেন নিজের মনের জোরে।
পূরণ হলো বহুদিনের লালিত স্বপ্ন
এই মহীয়সী বৃদ্ধার নাম নবনীথাম্মা (Navaneethamma)। তিনি কর্নাটকের (Karnataka) বাসিন্দা। দীর্ঘ বহু বছর ধরেই তাঁর মনের কোণে তীব্র বাসনা ছিল যে, তিনি জীবনের শেষ লগ্নে এসে একবার তিরুমালা পাহাড়ে চড়ে ভগবান ভেঙ্কটেশ্বর স্বামীর পবিত্র দর্শন লাভ করবেন।
অবশেষে এই বয়সে এসে পরিবারের সদস্যদের পূর্ণ সমর্থনে তিনি সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। শত বাধা ও শারীরিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও পরিবারের হাত ধরে তিনি তিরুপতির পাহাড়ি পথ বেয়ে হাঁটা শুরু করেন। দীর্ঘ ৯ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ অতিক্রম করার পর, একে একে মোট ৩৫৫০টি সিঁড়ি নিজের পায়ে ভেঙে তিনি পৌঁছে যান মূল মন্দির চত্বরে।
সমাজমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও, প্রশংসায় পঞ্চমুখ মুখ্যমন্ত্রী
১১৬ বছর বয়সি এই বৃদ্ধার পুজো দেওয়ার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে (যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি ডিজিটাল মাধ্যম)। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে মন্দির আধিকারিক ও পরিবারের লোকেদের সহায়তায় তিনি ভেঙ্কটেশ্বর স্বামীর দর্শন করছেন ও আশীর্বাদ নিচ্ছেন।
এই অবিশ্বাস্য ঘটনার কথা জানতে পেরে খোদ অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু (Chandrababu Naidu) নিজের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডলে বৃদ্ধার একটি ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে ভূয়সী প্রশংসা করেন।
[মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর এক্স পোস্টের বয়ান]
“অকৃত্রিম ভক্তির ক্ষেত্রে বয়স যে সত্যিই কেবল একটি সংখ্যা মাত্র, সেটাই প্রমাণিত হয়েছে। ভগবান ভেঙ্কটেশ্বর স্বামীর পবিত্র দর্শন লাভের আশায় পায়ে হেঁটে তিরুমালা পর্যন্ত তাঁর এই যাত্রা সত্যিই বিস্ময়কর। আমরা সবাই অভিভূত। শুধু তাই নয়, তাঁর বিশ্বাসের প্রতি পরিবারের এহেন সমর্থনও দারুণ। তিনি সত্যিই সমাজকে এক নতুন অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।”
এক নজরে নবনীথাম্মার তিরুমালা সফর:
| ভক্তের নাম ও বয়স | স্থায়ী বাসস্থান | অতিক্রান্ত দূরত্ব ও সিঁড়ির সংখ্যা | দর্শনের উদ্দেশ্য | বিশেষ স্বীকৃতি |
| নবনীথাম্মা (১১৬ বছর) | কর্নাটক | ৯ কিলোমিটার পাহাড়ি রাস্তা এবং ৩৫৫০টি সিঁড়ি। | ভগবান ভেঙ্কটেশ্বর স্বামীর পুজো দেওয়া ও দর্শন লাভ। | অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু কর্তৃক ‘অনুপ্রেরণা’ হিসেবে আখ্যা। |
আজকের দিনে যেখানে সামান্য হাঁটাহাঁটি বা পরিশ্রমে মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়ে, সেখানে ১১৬ বছর বয়সে নবনীথাম্মার এই সাড়ে তিন হাজার সিঁড়ি ভাঙার গল্প আগামী প্রজন্মের কাছে এক বিশাল দৃষ্টান্ত। ঈশ্বরের প্রতি নিখাদ বিশ্বাস আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে হিমালয় সদৃশ বাঁধাকেও টলিয়ে দেওয়া যায়, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন এই ভারতীয় বৃদ্ধা।






