Stray Dog Menace: খেতে কাজ করছিলেন বাবা-মা, গাছের নিচে বসে থাকা ৪ বছরের শিশুকে ছিঁড়ে খেল ৭টি হিংস্র পথকুকুর! পাঞ্জাবে মর্মান্তিক মৃত্যু

source : সংবাদ প্রতিদিন
রাস্তাঘাট, পার্ক, হাসপাতাল কিংবা রেলস্টেশনের মতো প্রকাশ্য জনবহুল জায়গাগুলি কি পথকুকুরদের হাত থেকে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ? এই নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) এখনও কোনো চূড়ান্ত মীমাংসা হয়নি। আইনি টানাপোড়েনের এই আবহের মাঝেই পাঞ্জাব (Punjab) থেকে সামনে এল এক শিউরে ওঠার মতো ঘটনা। একদল হিংস্র পথকুকুরের কামড়ে কার্যত ছিন্নভিন্ন হয়ে প্রাণ হারাল এক পরিযায়ী শ্রমিকের ৪ বছরের অবোধ কন্যাসন্তান।
১০০ মিটার দূরে কাজ করছিলেন বাবা-মা, গাছের তলায় ঘটল বিপর্যয়
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরির বাসিন্দা রাম জীবন এবং তাঁর স্ত্রী প্রীতি দিনকয়েক আগে ধান রোপণের মরসুমে কাজ করতে পাঞ্জাবের হোসিয়ারপুর জেলার তান্দা থানার অন্তর্গত বাসি জালাল গ্রামে এসেছিলেন। রবিবার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় ওহারপুর-বাস্সি জালাল লিঙ্ক রোডের পাশের একটি খেতে কাজ করছিলেন ওই দম্পতি।
কাজ করার সময় তাঁরা তাঁদের ৪ বছরের মেয়ে গুনগুনকে খেতের পাশেই একটি টিউবওয়েলের কাছে গাছের ছায়ায় বসিয়ে রেখেছিলেন। বাবা-মা যখন শিশুটি থেকে আনুমানিক ১০০ মিটার দূরে খেতে ধান রোপণ করছিলেন, ঠিক তখনই ঘটে এই মর্মান্তিক বিপর্যয়।
সন্তানের আর্তনাদ শুনে ছুটে এলেন শ্রমিকরা
বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ হঠাৎ করেই ৭টি হিংস্র পথকুকুরের একটি দল ওই গাছের তলায় বসে থাকা গুনগুনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছোট্ট শিশুটি কিছু বুঝে ওঠার আগেই কুকুরের দল তার শরীরের বিভিন্ন অংশ কামড়ে ছিঁড়ে খেতে শুরু করে।
কিছুক্ষণ পর গুনগুনের তীব্র আর্তনাদ ও কান্নার আওয়াজ পেয়ে খেত থেকে ছুটে আসেন রাম জীবন, প্রীতি এবং অন্যান্য পরিযায়ী শ্রমিকরা। তাঁরা লাঠিসোঁটা নিয়ে কোনোমতে কুকুরগুলোকে তাড়িয়ে রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় গুনগুনকে উদ্ধার করেন।
[পাঞ্জাবের তান্দা ডগ অ্যাটাকের ক্রোনোলজি]
* রবিবার বিকেল: ৪ বছরের গুনগুনকে গাছের তলায় বসিয়ে খেতের কাজে যান উত্তরপ্রদেশের পরিযায়ী দম্পতি।
* বিকেল ৫:৩০: হঠাৎ একযোগে ৭টি হিংস্র কুকুরের আক্রমণ, কামড়ে ছিঁড়ে ফেলা হয় শিশুর শরীর।
* বিকেল ৫:৪৫: আর্তনাদ শুনে ছুটে এসে কুকুর তাড়িয়ে রক্তাক্ত গুনগুনকে উদ্ধার করেন শ্রমিকরা।
* রবিবার রাত: স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে হোসিয়ারপুরের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের পর মৃত্যু।
চিকিৎসার সুযোগ না দিয়েই কেড়ে নিল প্রাণ
কুকুরদের কামড়ে গুনগুনের শরীর থেকে তখন প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। শ্রমিকরা তড়িঘড়ি তাকে স্থানীয় একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। কিন্তু ক্ষত অত্যন্ত গভীর হওয়ায় সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা তাকে হোসিয়ারপুরের বড় হাসপাতালে রেফার করেন।
এরপর অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় হোসিয়ারপুরের একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় গুনগুনকে। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে গভীর রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে ৪ বছরের খুদে। এই ঘটনায় তান্দা থানার পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।






