New Coach of Mohun Bagan: সবুজ-মেরুনের নতুন হেড স্যার পাঞ্জাব এফসি-খ্যাত পানাজিয়োটিস ডিমপেরিস!

source : আনন্দবাজার
কলকাতার ফুটবল মহলে দলবদলের বাজারে সবথেকে বড় চমকটি দিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট (Mohun Bagan Super Giant)। এক চরম নাটকীয় দিনে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের কোচের নাম ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজেদের নতুন কোচের নাম সরকারিভাবে জানিয়ে দিল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। আগামী মরসুমে মোহনবাগানের হটসিটে বসতে চলেছেন গ্রিসের প্রথম ডিভিশনের একাধিক ক্লাবে কোচিং করানো অভিজ্ঞ ফুটবল মস্তিস্ক পানাজিয়োটিস ডিমপেরিস (Panagiotis Dimperis)। ভারতীয় ফুটবল মহলে যিনি ‘প্যানোস’ (Panos) নামেই বেশি পরিচিত।
বড় বড় ক্লাবের প্রস্তাব ফিরিয়ে কেন মোহনবাগান? খোলসা করলেন প্যানোস
গত মরসুমে আইএসএল-এ পাঞ্জাব এফসি-র ভাঁড়ার শূন্য দল নিয়ে যেভাবে তিনি ব্যালেন্সড ও আগ্রাসী ফুটবল খেলিয়েছিলেন, তারপর থেকেই ভারতের একাধিক বড় ক্লাবসহ বিদেশের কিছু ক্লাবের রাডারে ছিলেন ৫১ বছর বয়সি এই গ্রিক কোচ। তবে সমস্ত প্রস্তাব ফিরিয়ে তিনি বেছে নিয়েছেন কলকাতার ঐতিহ্যকে।
চুক্তি সইয়ের পর মোহনবাগান মিডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডিমপেরিস বলেন, ‘‘মোহনবাগান শুধু একটা ফুটবল ক্লাব নয়। একটা ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। গৌরবময় ইতিহাস, জয়ের সংস্কৃতি এবং এশিয়ার অন্যতম সেরা আবেগপ্রবণ ও অনুরাগী সদস্য সমর্থক রয়েছে। যা ভারতের আর কোনও ক্লাবের নেই।’’
এবারের তারকাখচিত সবুজ-মেরুন স্কোয়াড নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি আরও যোগ করেন, “সাফল্য কখনও একক ব্যক্তিগত প্রতিভা থেকে আসে না। সঠিক মানসিকতা, শৃঙ্খলা এবং দায়বদ্ধতার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ দল গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে আসে। আমার লক্ষ্য থাকবে দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের ক্ষমতার ১০০ শতাংশ ব্যবহার করা।”
‘চাপই হলো বিশেষাধিকার’, সমর্থকদের বড় বার্তা নতুন কোচের
মোহনবাগান মানেই ট্রফি জয়ের ট্র্যাডিশন আর গ্যালারির আকাশচুম্বী প্রত্যাশা। সামান্য খারাপ পারফরম্যান্সেই যেখানে কোচের চাকরি চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, সেই চাপ কীভাবে সামলাবেন প্যানোস?
গ্রিক কোচের উত্তর অত্যন্ত পেশাদার। তিনি মনে করেন—
“একটা কথা রয়েছে, চাপই হলো বিশেষাধিকার (Pressure is a privilege)। বিশ্বের সব বড় ক্লাবে প্রত্যাশা সবসময় বেশি থাকে এবং সেটাই স্বাভাবিক। মোহনবাগান সমর্থকদের এই আবেগই ক্লাবের অন্যতম শক্তি। আমরা প্রতি সপ্তাহে জয়ের অন্ধ প্রতিশ্রুতি দেব না। তবে এমন একটা দল তৈরি করার চেষ্টা করব, যারা সাহসিকতা, শৃঙ্খলা এবং প্রতিটি ম্যাচ জেতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মাঠে নামবে।”
[পানাজিয়োটিস ডিমপেরিস-এর ফুটবল দর্শন]
* রণকৌশল: রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে সম্পূর্ণ আগ্রাসী ফুটবল।
* মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা: সিনিয়র তারকাদের পাশাপাশি জুনিয়র ফুটবলারদের থেকে সেরাটা বের করা।
* দলের মূল চাবিকাঠি: ব্যক্তিগত নৈপুণ্য নয়, বরং কঠোর শৃঙ্খলা এবং দলীয় দায়বদ্ধতা।
দায়িত্ব নিয়েই সামনে কলকাতা ডার্বি: কী রণকৌশল ডিমপেরিসের?
মোহনবাগানের দায়িত্ব নেওয়া মানেই আই লিগ বা আইএসএল-এর পাশাপাশি এশিয়ান কাপ এবং অবশ্যই মর্যাদার কলকাতা ডার্বির (Kolkata Derby) অগ্নিপরীক্ষা। ডার্বি নিয়ে নিজের স্পষ্ট ধারণার কথা জানিয়ে ডিমপেরিস বলেন—
“ভারতে আসার পরই জেনে গিয়েছি কলকাতা ডার্বি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বৃহত্তম এবং সবচেয়ে ঐতিহাসিক ম্যাচগুলোর একটা। সমর্থক, খেলোয়াড় এবং ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের কাছে এর গুরুত্ব কতটা, তা আমি জানি। এই ধরনের ম্যাচের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার উপায় শুধু আবেগ নয়। চমৎকার প্রস্তুতি, শৃঙ্খলা এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামতে হয়। আমরা প্রতিপক্ষকে সম্মান করব। একই সঙ্গে মোহনবাগানের ঐতিহ্যের সঙ্গে মানানসই সাহসিকতা নিয়ে ডার্বি জিততেও চাইব।”
সবুজ-মেরুন সমর্থকদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “ jersey-র দায়িত্ব আমি বুঝি। ক্লাব প্রশাসন, কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করব যাতে সমর্থকেরা গর্বিত হতে পারেন। দল এবং সমর্থকরা যখন এক হয়ে লড়াই করে, তখনই ফুটবল সবচেয়ে শক্তিশালী হয়।”
এক নজরে মোহনবাগানের নতুন কোচ ও চুক্তি বিবরণ:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | নতুন কোচের সম্পূর্ণ তথ্য |
| কোচের নাম ও ডাকনাম | পানাজিয়োটিস ডিমপেরিস (প্যানোস)। |
| বয়স ও জাতীয়তা | ৫১ বছর, গ্রিস (Greek)। |
| চুক্তির মেয়াদ | ১ বছর (২০২৬-২৭ মরসুমের জন্য)। |
| পূর্বতন ভারতীয় ক্লাব | পাঞ্জাব এফসি (Punjab FC)। |
| প্রধান লক্ষ্য | প্রতিটি ট্রফির জন্য লড়াই করা এবং কলকাতা ডার্বি জয়। |
ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান— একই দিনে দুই প্রধানের কোচের নাম ঘোষণা কলকাতার ফুটবল উন্মাদনাকে এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিল। পাঞ্জাব এফসি-র পর এবার মোহনবাগানের মতো তারকাখচিত এবং হাই-প্রেসার ক্লাবে প্যানোসের ‘ভারসাম্যযুক্ত আগ্রাসী ফুটবল’ কতটা সফল হয়, এবং তিনি সবুজ-মেরুন শিবিরকে কতগুলো ট্রফি এনে দিতে পারেন, সেদিকেই নজর থাকবে আপামর ভারতীয় ফুটবল প্রেমীদের।






