USA vs Belgium World Cup: ট্রাম্প-ইনফান্তিনো আঁতাতকে মাঠেই জবাব! আমেরিকাকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম

source : আনন্দবাজার
মাঠের বাইরে হোয়াইট হাউস (White House) যতই ক্ষমতা দেখাক না কেন, ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সত্য হলো— খেলাটা শেষ পর্যন্ত সবুজ গালিচায় ৯০ মিনিটেই নির্ধারিত হয়। ফিফা (FIFA) সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সামনেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকাকে (USA) সপাটে জবাব দিল বেলজিয়াম (Belgium)। মাঠের বাইরের সমস্ত বিতর্ক, পক্ষপাতিত্ব ও প্রশাসনিক দম্ভকে পায়ের জাদুতে উড়িয়ে দিয়ে ৪-১ গোলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চূর্ণ করল ‘রেড ডেভিলস’রা। এই মহাজয়ের সাথে সাথেই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল বেলজিয়াম।
বালোগুন বিতর্ক ও বেলজিয়ামের তেতে যাওয়া
গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয় ছিল আমেরিকার তারকা স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের (Folarin Balogun) লাল কার্ডের শাস্তি মকুবের ঘটনা। বসনিয়া ম্যাচে লাল কার্ড দেখা সত্ত্বেও হোয়াইট হাউসের সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে বালোগুনের সাসপেনশন তুলে নেয় ফিফা। খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) স্বীকার করেন, তিনি ইনফান্তিনোর সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলেছেন।
ফিফার এই পক্ষপাতিত্বের বিরুদ্ধে সরকারিভাবে তীব্র ক্ষোভ ও লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছিল বেলজিয়াম। আর প্রতিপক্ষের সেরা গোলদাতাকে জোর করে খেলানোর এই অনৈতিক সিদ্ধান্তই যেন রুডি গার্সিয়ার (Rudi Garcia) দলকে তাতিয়ে দিয়েছিল। ফলস্বরূপ, চলতি বিশ্বকাপে যে বেলজিয়াম গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে রাউন্ড অফ ৩২ পর্যন্ত খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে জিতেছিল, তারাই সিয়াটল স্টেডিয়ামে (Seattle Stadium) নিজেদের ইতিহাসের সেরা ম্যাচটি খেলল।
ডি কেটেলায়েরের জোড়া কামড় ও আমেরিকার অসহায় আত্মসমর্পণ
ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিটেই আমেরিকার গোল লক্ষ্য করে ৫টি ভয়ঙ্কর শট মারে বেলজিয়াম। মার্কিন গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ এবং তাঁর রক্ষণভাগ বেলজিয়ামের আক্রমণের সুনামি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল। আগের ম্যাচে বোতলবন্দী থাকা বেলজিয়াম স্ট্রাইকার চার্লস ডি কেটেলায়েরে (Charles De Ketelaere) এই ম্যাচে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন। দলের হয়ে অনবদ্য জোড়া গোল করেন তিনি।
প্রথমার্ধে আমেরিকার হয়ে ফ্রি-কিক থেকে টিলমান এক গোল শোধ করলেও, তা ম্যাচ বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। ম্যাচের তৃতীয় গোলটি ছিল আমেরিকার রক্ষণের কঙ্কালসার চেহারার প্রতীক। বক্সের বাইরে এসে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের পায়ে বল তুলে দেন গোলকিপার ম্যাট ফ্রিজ। সেই সুযোগে অনেক দূর থেকে দূরপাল্লার মাপা শটে বল জালে জড়ান ভানাকেন।
[আমেরিকা বনাম বেলজিয়াম ম্যাচ ক্রোনোলজি]
* প্রথমার্ধ: ডি কেটেলায়েরের দাপট, বেলজিয়ামের পক্ষে ২-১ স্কোরলাইন (আমেরিকার একমাত্র গোল টিলমানের)।
* দ্বিতীয়ার্ধ: মার্কিন গোলকিপার ফ্রিজের ভুলে ভানাকেনের দূরপাল্লার গোল (৩-১)।
* শেষলগ্নে: সুপার-সাব রোমেলু লুকাকুর এন্ট্রি এবং চতুর্থ গোল করে কফিনে শেষ পেরেক (৪-১)।
কেডিবি-কে বিশ্রাম ও লুকাকু ধামাকা
এই ম্যাচে বেলজিয়ামের অন্যতম সেরা মহাতারকা কেভিন দ্য ব্রুইনকে (Kevin De Bruyne) প্রথম একাদশে নামাননি কোচ রুডি গার্সিয়া। আমেরিকার বিরুদ্ধে সহজ জয় নিশ্চিত বুঝে এবং পরবর্তী কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের (Spain) বিরুদ্ধে মহাযুদ্ধের কথা মাথায় রেখেই সম্ভবত ‘কেডিবি’-কে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখার চাল চালেন কোচ।
অন্যদিকে, প্রথমার্ধে বেঞ্চে থাকা রোমেলু লুকাকু (Romelu Lukaku) দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্ত বা ‘সুপার সাব’ হিসেবে মাঠে নেমেই নিজের জাত চেনালেন। মাঠে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্দান্ত এক গোল করে আমেরিকার ফেরার সমস্ত পথ বন্ধ করে দেন তিনি। উল্টোদিকে ট্রাম্পের অতি আদরের বালোগুনকে পুরো ম্যাচে চেনা ছন্দের ধারেকাছেও দেখা যায়নি। লাল কার্ডের মানসিক চাপেই হোক বা বেলজিয়াম ডিফেন্সের কড়া মার্কিং— তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ ফ্লপ।
এক নজরে বেলজিয়ামের জয় ও আয়োজক দেশের বিপর্যয়:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | ম্যাচ ও বিশ্বকাপ পরিসংখ্যানের খতিয়ান |
| ম্যাচের ফলাফল | বেলজিয়াম ৪ : ১ আমেরিকা (সিয়াটল স্টেডিয়াম)। |
| বেলজিয়ামের গোলদাতা | চার্লস ডি কেটেলায়েরে (২টি), ভানাকেন (১টি) এবং রোমেলু লুকাকু (১টি)। |
| বিতর্কিত চরিত্র | ফোলারিন বালোগুন (আমেরিকা) — ফিফার সাহায্যে খেলেও পারফর্ম করতে ব্যর্থ। |
| পরবর্তী পর্ব (কোয়ার্টার) | বেলজিয়াম বনাম স্পেন (Spain vs Belgium)। |
| তিন আয়োজক দেশের দশা | কানাডা, মেক্সিকো এবং আমেরিকা— তিন সহ-আয়োজক দেশই শেষ ১৬ থেকে বিদায় নিল। |
ডোনাল্ড ট্রাম্প কোটি কোটি ডলার খরচ করে এবং ফিফার ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেও নিজের দেশের ফুটবল দলকে শেষ আট-এ তুলতে পারলেন না। কানাডা এবং মেক্সিকোর পর আমেরিকার বিদায়ের ফলে এবারের বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশই ঘরের মাঠে দর্শক হয়ে গেল। মাঠের বাইরের প্রভাব খাটিয়ে যে ট্রফি জেতা যায় না, বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্ম আমেরিকার জালে ৪ গোল দিয়ে তা বিশ্বফুটবলকে বুঝিয়ে দিল।






