Ronaldo World Cup Exit: স্পেনের কাছে হেরে চোখের জলে শেষ বিশ্বকাপ রোনাল্ডোর! এখনই কি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আলবিদা? খোলসা করলেন সিআর৭ নিজেই

source : আনন্দবাজার
বিশ্বফুটবলের অন্যতম সেরা ‘গ্রেটেস্ট অফ অল টাইম’ (GOAT) ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর (Cristiano Ronaldo) ফুটবল রূপকথায় অধরাই থেকে গেল বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি। ২৪ ঘণ্টা আগে ব্রাজিলের মহাতারকা নেইমার জুনিয়র যখন চোখের জলে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন, ঠিক তার পরদিনই আমেরিকার ডালাস স্টেডিয়ামে (Dallas Stadium) বিষাদের সুর পর্তুগিজ শিবিরের। স্পেনের কাছে হেরে আরও একবার খালি হাতে, চোখের জলে মাঠ ছাড়তে হলো ৪১ বছরের ‘গোলমেশিন’কে। তবে বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটলেও, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে এখনই অবসর নিচ্ছেন না সিআর৭।
“বিশ্বকাপ ক্যারিয়ার শেষ, দেশের হয়ে অবসর নয়”— আবেগঘন সিআর৭
ম্যাচ শেষে যখন রোনাল্ডোর চোখ বেয়ে জল গড়াচ্ছিল, তখনই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় খোলসা করেন ফুটবল যুবরাজ।
কান্নাভেজা গলায় সিআর৭ বলেন, “এভাবে বিশ্বকাপ ছেড়ে যেতে খুব খারাপ লাগছে। আমি আমার সবটা দিয়েছি, নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছিলাম। এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ ছিল। হ্যাঁ, আমার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ার আজ এখানেই শেষ।”
নেইমারের অবসরের পর তাঁর ওপরও যখন আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার চাপ আসছিল, তখন কয়েক সেকেন্ড থমকে রোনাল্ডো বলেন—
“কিন্তু দেশের হয়ে অবসরের বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেব না। এখনও সময় আছে। প্রথমে পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাব, তারপর ঠাণ্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেব।”
রাগের মাথায় বা আবেগে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নয়!
৪১ বছর বয়সে এসেও রোনাল্ডোর ফিটনেস তরুণদের লজ্জা দেবে। তাই তাড়াহুড়ো করে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে পর্তুগাল দলকে মাঝদরিয়ায় ফেলে যেতে চান না তিনি।
রোনাল্ডোর স্পষ্ট বক্তব্য, “আমি তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেব না। রাগ বা আবেগের মাথায় কিছু করতে চাই না। সব দিক ভেবেচিন্তে তবেই পা বাড়াব। পর্তুগালের হয়ে তো আমি ভালোই খেলছি। তাছাড়া এই তরুণ দলটাকে গাইড করতে এখনও আমাকে দরকার রয়েছে।”
[ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ৩টি ঐতিহাসিক কান্নার মুহূর্ত]
১. ২০১৬ ইউরো ফাইনাল: ম্যাচের শুরুতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার সময় কান্না, পরে ট্রফি জয়।
২. ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ: মরক্কোর কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর টানেলে কান্না।
৩. ২০২৬ ডালাস স্টেডিয়াম: স্পেনের কাছে হেরে শেষ বিশ্বকাপ হাতছাড়া হওয়ায় মাঠে প্রকাশ্য কান্না।
মিকেল মেরিনোর গোল ও ভাগ্যের পরিহাস
ডালাস স্টেডিয়ামে পর্তুগাল বনাম স্পেনের এই ব্লকবাস্টার ম্যাচটি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত গোলশূন্য ছিল। কিন্তু ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ে (Injury Time) স্পেনের মিকেল মেরিনো (Mikel Merino) এক জাদুকরী গোল করে পর্তুগালকে স্তব্ধ করে দেন।
ম্যাচ শেষে রেফারি অ্যান্টনি টেলরের (Antony Taylor) শেষ বাঁশি বাজতেই ইস্পাতকঠিন মুখে দাঁড়িয়ে রইলেন সিআর৭। সতীর্থ থেকে শুরু করে বিপক্ষ স্পেনের ফুটবলাররা— সবাই এসে সান্ত্বনা দিলেও উদাস দৃষ্টিতে আকাশপানে তাকিয়ে ছিলেন তিনি। নিজের দুর্ভাগ্যকে দায়ী করে রোনাল্ডো বলেন, “আমাদের ভাগ্য খারাপ ছিল। তবে দল খুব ভালো খেলেছে। ম্যাচের ফল যেকোনো দিকে যেতে পারত। স্পেনের ভাগ্য ভালো ছিল। আমরা হেরেছি ঠিকই, কিন্তু মাথা উঁচু করেই বিদায় নেব।”
এক নজরে পর্তুগালের বিদায় ও রোনাল্ডোর বর্তমান স্থিতি:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | ম্যাচ ও রোনাল্ডোর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা |
| বিপক্ষ দল ও মঞ্চ | স্পেন (Spain), বিশ্বকাপ নক-আউট পর্ব, ডালাস স্টেডিয়াম। |
| ম্যাচ নির্ণায়ক গোল | সংযুক্তি বা অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের মিকেল মেরিনোর গোল। |
| রোনাল্ডোর বয়স | ৪১ বছর (পর্তুগালের অধিনায়ক)। |
| বিশ্বকাপ স্ট্যাটাস | চিরতরে শেষ হলো রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ার (World Cup Career Closed)। |
| আন্তর্জাতিক অবসর | এখনই নয়, পরিবারের সাথে সময় কাটিয়ে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। |
কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর কাছে হেরে যখন পর্তুগাল বিদায় নিয়েছিল, তখন রোনাল্ডো কেঁদেছিলেন স্টেডিয়ামের টানেলে একা একা। কিন্তু ডালাসের সবুজ গালিচায় আজ তিনি কাঁদলেন প্রকাশ্য মাঠেই, কারণ তিনি জানতেন বিশ্বমঞ্চে এটাই তাঁর শেষ নৃত্য ছিল। সোনালি ট্রফিটা হয়তো রোনাল্ডোর আলমারিতে কোনোদিন উঠবে না, কিন্তু ফুটবল ইতিহাসে তাঁর অবদান কোনো ট্রফির পরিমাপের ঊর্ধ্বে থেকে যাবে।






