Egg Attack on Minakshi Mukherjee: এবার কোচবিহারের শীতলকুচিতে ‘ডিম-থেরাপি’! মৃত কর্মীর পরিবার থেকে ফেরার পথে মীনাক্ষীর গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম-হামলা, কাঠগড়ায় বিজেপি

source : সংবাদ প্রতিদিন
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে কোনো রাজনৈতিক নেতা বা নেত্রীকে হেনস্থা করার অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে ‘ডিম-থেরাপি’। প্রশাসন এবং বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কড়া বারণ সত্ত্বেও এই প্রবণতা যে কমছে না, তার প্রমাণ মিলল উত্তরবঙ্গে। এবার ডিম-হামলার মুখে পড়লেন সিপিএমের লড়াকু নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় (Minakshi Mukherjee)। মঙ্গলবার সকালে কোচবিহারের শীতলকুচিতে (Sitalkuchi) তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছুড়ে মারে একদল দুষ্কৃতী। এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।
‘আমার অপরাধটা কী?’ রণংদেহী মীনাক্ষী, পুলিশের সামনেই তাণ্ডব
মঙ্গলবার সকালে শীতলকুচি বাজারের কাছে আচমকাই মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে ধরে কিছু যুবক। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গাড়ি লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ডিম আছড়ে পড়তে শুরু করে। ডিমের হলদে কুসুমে গাড়ির সামনের কাচ পুরোপুরি ঝাপসা হয়ে যায়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মাঝরাস্তাতেই গাড়ি দাঁড় করিয়ে দেন মীনাক্ষী। তবে তিনি দমে যাননি। গাড়ি থেকে নেমেই নিজের মোবাইল ফোনে গোটা ঘটনার ও আক্রমণকারীদের ভিডিও রেকর্ড করতে শুরু করেন। সেখানে উপস্থিত কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের উদ্দেশ্যে কড়া ভাষায় ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
গাড়িতে বসেই মীনাক্ষী বলেন, ‘‘আগে পুলিশ এদের গ্রেপ্তার করুক। তারপর অন্য কথা দেখা যাবে। পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবে আর ওরা যা খুশি তাই করে যাবে? আমার অপরাধটা কোথায় বলুন? সাধারণ মানুষের কি রাস্তায় বেরনোর অধিকার নেই?”
মীনাক্ষী সাফ জানিয়েছেন, আক্রমণের সমস্ত প্রমাণ ও তাঁর রেকর্ড করা ভিডিও তিনি পুলিশের হাতে তুলে দেবেন, তবে অপরাধীদের অবিলম্বে শ্রীঘরে পাঠাতে হবে।
কেন শীতলকুচি গিয়েছিলেন বাম নেত্রী?
শীতলকুচি ব্লকের সিংহিমারি গ্রামের বাসিন্দা মণ্টু মিঞা নামে এক সক্রিয় সিপিএম (CPIM) কর্মী গত শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। এরপর রবিবার সকালে স্থানীয় খুটামারি নদীর ধারে তাঁর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, মণ্টু পেশায় গোরু কেনাবেচার ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ ওঠে, তথাকথিত ‘গোরক্ষক’ বাহিনীর কিছু সদস্য তাঁকে পিটিয়ে খুন করেছে।
এই খবর পেয়েই মঙ্গলবার সকালে মৃত দলীয় কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং শোকসন্তপ্ত মা ও স্ত্রীর সাথে দেখা করতে শীতলকুচি গিয়েছিলেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। সেখান থেকে কোচবিহার শহরের দিকে ফেরার পথেই শীতলকুচি বাজারের কাছে ওত পেতে থাকা দুষ্কৃতীরা তাঁর ওপর এই হামলা চালায়।
[শীতলকুচি ঘটনার টাইমলাইন]
* শনিবার বিকেল: গরু ব্যবসায়ী তথা সিপিএম কর্মী মন্টু মিঞা নিখোঁজ হন।
* রবিবার সকাল: খুটামারি নদী থেকে মন্টুর মৃতদেহ উদ্ধার, পিটিয়ে খুনের অভিযোগ।
* মঙ্গলবার সকাল ৯টা: মৃত কর্মীর পরিবারের সাথে দেখা করতে শীতলকুচি পৌঁছান মীনাক্ষী।
* মঙ্গলবার সকাল ১০:৩০: ফেরার পথে শীতলকুচি বাজারের কাছে মীনাক্ষীর গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম-হামলা।
বিজেপির দিকে সরাসরি আঙুল, গেরুয়া শিবির নীরব
এই হামলার ঘটনার পর মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্ব সরাসরি আঙুল তুলেছে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) দিকে। বামেদের দাবি, এলাকায় মণ্টু মিঞার খুনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতেই বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই ন্যাক্কারজনক কাণ্ড ঘটিয়েছে। যদিও এই ডিম-হামলার ঘটনা এবং সিপিএমের তোলা অভিযোগ প্রসঙ্গে স্থানীয় বা জেলা স্তরের বিজেপি নেতৃত্বের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এক নজরে শীতলকুচির ঘটনা ও বর্তমান পরিস্থিতি:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | ঘটনার বিবরণ ও বর্তমান স্থিতি |
| আক্রান্ত ব্যক্তিত্ব | মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় (সিপিএম / ডিওয়াইএফআই নেত্রী)। |
| ঘটনাস্থল | শীতলকুচি বাজার, কোচবিহার জেলা (North Bengal)। |
| হামলার ধরণ | গাড়ি লক্ষ্য করে অনবরত ডিম নিক্ষেপ (ডিম-থেরাপি)। |
| মূল কারণ | নিহত সিপিএম কর্মী মন্টু মিঞার (পিটিয়ে খুনের অভিযোগ) বাড়িতে পরিদর্শন। |
| রাজনৈতিক তরজা | সিপিএমের দাবি অপরাধী বিজেপি; বিজেপির কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। |
কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি সামান্য নিয়ন্ত্রণে এলে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের গাড়িটি কোচবিহার শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তবে এই ‘ডিম-হামলা’র ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোচবিহারের রাজনৈতিক মহল নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একজন মহিলা নেত্রীর গাড়িতে দিনের আলোয় পুলিশের সামনে এভাবে ডিম ছুড়ে হেনস্থা করার ঘটনা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আরও একবার বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।







