Politics on Baruipur Incident: আর জি করে বলেছিলেন ‘উৎসবে ফিরুন’, বারুইপুর কাণ্ডে পথে নামতে হাই কোর্টে মমতা! বেলা ২টোর পর শুনানি

source : সংবাদ প্রতিদিন
বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পারদ ক্রমশ চড়ছে। এই নৃশংস ঘটনার পর বর্তমান সরকারের পুলিশ ও প্রশাসন বিদ্যুতের গতিতে ব্যবস্থা নিলেও, বিষয়টিকে হাতছাড়া করতে রাজি নন সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র তথা কালীঘাটে মোমবাতি মিছিল করার পর, এবার কলকাতার রাস্তায় বড়সড় রাজনৈতিক সমাবেশ করতে চান তিনি। আর সেই কারণেই পুলিশের অনুমতি না পেয়ে এবার সরাসরি কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল নেত্রী।
বালিগঞ্জ থেকে ল্যান্সডাউন: ৮ জুলাই রাজপথে নামতে চান মমতা
তৃণমূল সূত্রের খবর, আগামী ৮ জুলাই বারুইপুরের ঘটনা এবং রাজ্যের নারী নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখে কলকাতায় এক সুবিশাল প্রতিবাদ মিছিলের পরিকল্পনা করেছে কালীঘাট শিবির। বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে শুরু করে ল্যান্সডাউন মার্কেট পর্যন্ত এই মিছিল করতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীরা।
তবে কলকাতায় বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা জনিত কারণে পুলিশি অনুমতি মেলা ভার। সেই কারণেই মঙ্গলবার সকালে তড়িঘড়ি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন মমতার আইনজীবীরা। আদালতের কাছে এই মিছিলের জরুরি শুনানির আবেদন জানানো হয়েছে। আদালত সূত্রের খবর, আজ মঙ্গলবার বেলা ২টোর পর এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।
সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ, তাও বিরোধিতায় মরিয়া কালীঘাট
বারুইপুরের ঘটনার পর যেখানে বিগত জমানার মতো তথ্য আড়াল বা দীর্ঘসূত্রতার চেনা ছবি দেখা যায়নি, সেখানে তৃণমূলের এই অতিসক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রবিবারই মৃত নাবালিকার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। আজ, মঙ্গলবার তিনি নিজে বারুইপুরের সূর্যপুরে নির্যাতিতার পরিবারের সাথে দেখা করতে যাচ্ছেন।
ইতিমধ্যেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্য পুলিশ ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটকে রেখেছে। প্রশাসনের এই বেনজির তৎপরতা সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ট্র্যাজেডিকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন বলে অভিযোগ উঠছে।
[মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের জমানার 'ইনসাইড ট্র্যাক']
* পার্কস্ট্রিট কাণ্ড: ঘটনাটিকে 'সাজানো ঘটনা' বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা।
* কামদুনি ও হাঁসখালি: নির্যাতিতার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং নাবালিকা নির্যাতনকে 'লাভ অ্যাফেয়ার' বলে ব্যাখ্যা।
* আর জি কর (অভয়া) কাণ্ড: বিশ্ব কাঁপানো আন্দোলনকে 'হুজুগ' ও 'অতিবাম চক্রান্ত' বলে কটাক্ষ এবং জনগণকে 'উৎসবে ফেরার' বার্তা।
* ২০২৬ (বিরোধী আসনে): বারুইপুর কাণ্ডে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও মোমবাতি হাতে রাস্তায় এবং মিছিলের জন্য হাই কোর্টে দৌড়।
“মৃত্যুকে হাতিয়ার করে ফেরার চেষ্টা”— সোচ্চার নিন্দুকেরা
তৃণমূল জমানার গত ১৫ বছরে কামদুনি, হাঁসখালি থেকে শুরু করে ২০২৪-এর আর জি করের অভয়া কাণ্ড— প্রতিক্ষেত্রেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। আর জি করের সময় যখন গোটা বাংলা বিচারের দাবিতে রাতদখল করছিল, তখন মমতা বলেছিলেন, “একটা মাস তো হয়ে গেল, এবার পুজো আসছে, উৎসবে ফিরুন।”
আজ ২০blank২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে গোহারা হেরে ক্ষমতা হারানোর পর সেই মমতার মুখেই সম্পূর্ণ উল্টো সুর। নিন্দুকদের দাবি, বিগত ১৫ বছর ধরে যে সমস্ত নারী নির্যাতনের ঘটনাকে তিনি ‘ছোট ঘটনা’ বলে লঘু করতে চেয়েছেন, আজ বিরোধী আসনে বসেই তিনি নারী দরদী সাজার চেষ্টা করছেন। আসলে ছাব্বিশের ভোটে সর্বস্ব হারিয়ে মমতার রাজনৈতিক অস্তিত্ব এখন খাদের কিনারায়, আর তাই বারুইপুরের এই নাবালিকার মৃত্যুকে হাতিয়ার করেই তিনি আবারও বাংলার রাজনীতির মূল স্রোতে ভাসতে চাইছেন।
এক নজরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাই কোর্ট মামলা:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | মামলার সম্পূর্ণ বিবরণ ও বর্তমান স্থিতি |
| মামলাকারী | প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (কালীঘাট তৃণমূল)। |
| আবেদনের মূল কারণ | ৮ জুলাই বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে কলকাতায় মিছিলের অনুমতি। |
| প্রস্তাবিত রুট | বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে ল্যান্সডাউন মার্কেট (Kolkata)। |
| শুনানির সময় | আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই, ২০২৬) বেলা ২টোর পর। |
| বর্তমান সরকারি তৎপরতা | SIT গঠিত, ৩ জন গ্রেপ্তার এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বারুইপুর সফর আজ। |
কলকাতা হাই কোর্টের বেলা ২টোর শুনানির দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। আদালত কি মমতার এই মিছিলের অনুমতি দেবে, নাকি আইন-শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে তা খারিজ হয়ে যাবে, তা কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে আর জি করের সময় ‘উৎসবে ফেরা’র পরামর্শ দেওয়া নেত্রী আজ যেভাবে বারুইপুর কাণ্ডে মোমবাতি হাতে আদালতের দরজায় কড়া নাড়ছেন, তা বাংলার সচেতন নাগরিক মহলে এক চরম রাজনৈতিক দ্বিচারিতা হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।






